সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ শিলিগুড়ি: একজন বাংলাদেশি যুবতীর অভিযোগের ভিত্তিতে শিলিগুড়ির (Siliguri) ভক্তিনগর থানার (Bhaktinagar Police Station) পুলিশ একটি ভালবাসার কাহিনি খতিয়ে দেখতে যেয়ে একটি সাক্ষী সদৃশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রেম ও ‘সংসারের লোভ দেখিয়ে’ কয়েক বছর ধরে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার পরই ওই যুবক আচমকাই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে বাংলাদেশি তরুণীকে আর্থিক ও মানসিকভাবে বঞ্চিত করেছেন, এমনটি অভিযোগকারিণীর বক্তব্য। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং জলপাইগুড়ি আদালতে (Jalpaiguri Court) অভিযুক্তকে হাজির করা হয়।
অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ২০২৩-২৪ সাল থেকে শুরু হয়। অভিযুক্ত দক্ষিণ সিকিম (South Sikkim) রাজ্যের বাসিন্দা, কয়েক বছর ধরে নিম্বু বস্তি (Nimbu Basti), ভক্তিনগর এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে তিনি বাংলাদেশি ওই যুবতীর সঙ্গে পরিচয় এবং তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমিকের কথায় তরুণী ভিসা করিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে আসেন; পরিবারের আশ্বাসে তিনি বিশ্বাস করে এখানে এসে তার প্রেমিকের সঙ্গে সহবাসও শুরু করেন।
অভিযোগকারী তরুণীর বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত তাঁকে ‘শীঘ্রই সংসার গড়ে তোলা’ এবং ‘ভবিষ্যতের নিরাপত্তা’ এই ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রয়েছেন। পরে, যখন সম্পর্কটি পারিবারিক সম্পর্কের দিকে যেতে থাকে, তখন আচমকাই অভিযুক্ত নিজের দেশে ফিরে যান এবং সেখান থেকে বিয়ের উদ্যোগ নিতে শুরু করেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। পরবর্তীতে ফোনে যোগাযোগ না পেয়ে ভিসা করে তরুণী আবারও ভারতে এসে প্রেমিককে খোঁজ শুরু করেন; তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর প্রত্যাশিত ভবিষ্যৎ মোটেই বাস্তব নয়, তাঁকে বাবার বাড়ি ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া বা আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা হচ্ছে বলে সে অভিযোগ করেন।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে। ঘটনাস্থলীয় অনুসন্ধান ও অভিযুক্তের জিজ্ঞাসাবাদে এসব অসঙ্গতির কথা উঠে আসে এবং সেই ভিত্তিতেই ভক্তিনগর থানার পুলিশের কাছ থেকে গ্রেফতারি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ভক্তিনগর থানার বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে আইনি ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়েছে। শিলিগুড়ির ডিআইজি ও ডিসিপি-র পর্যবেক্ষণে তদন্ত দ্রুতগতিতে চলছে বলে সূত্রের খবর। পুলিশ সূত্রের জানা যায়, অভিযুক্তকে সোমবার জলপাইগুড়ি আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশক্রমে তাঁর কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পরীক্ষা করা হবে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী তরুণীর ভিসা স্ট্যাটাস, প্রবেশের বিভিন্ন তথ্যাদি এবং থানায় থাকা কোনও প্রযুক্তিগত প্রমাণ, এসব জোগাড় করে পুলিশ পুরো ঘটনার চিত্র পুনর্গঠন করছে। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয় স্যোশাল যোগাযোগের রেকর্ড, কল-ডিটেইলস ও মেসেজ আদানপ্রদানের প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে যাতে ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। ডিসিপি শিলিগুড়ি, রাকেশ সিং (Rakesh Singh), মামলা সংক্রান্ত প্রাথমিক বক্তব্যে বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছি এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছি। কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না; অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি আরও যোগ করেছেন যে তদন্ত পুরোপুরি স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে, যাতে দু’পক্ষের সংলাপ ও প্রমাণ-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। থানার আমলে অভিযুক্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কোনও তৃতীয় পক্ষের যোগ রয়েছে কি না, তাও পুলিশ যাচাই করছে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : MM Terai picnic spot news, Siliguri tourism update | বালাসনের থাবায় নিশ্চিহ্ন এমএম তরাই পিকনিক স্পট, নতুন গন্তব্যের খোঁজে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ




