সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: বিমান ভাড়া যাত্রীদের জন্য প্রায়শই এক অপ্রত্যাশিত ব্যর্থতা হয়ে দাঁড়ায়, উৎসবের সময় বা জরুরি যাত্রায় বুকিং করতেই ভাড়া আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। এবার সেই চাপে কিছুটা হলেও ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করছে ভারত সরকার। সোমবার বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক ঘোষণা করে, এক রুটে নির্দিষ্ট ভাড়া ধার্য করার ভাবনাকে পরীক্ষার পর্যায়ে নেওয়া হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে সরকারি আঞ্চলিক বিমান সংস্থা অ্যালায়েন্স এয়ার (Alliance Air)। উল্লেখ্য, নির্ধারিত এই প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে ‘ফেয়ার সে ফুরসত’ (Fare Se Fursat)। মন্ত্রী রামমোহন নাইডু কিঞ্জারাপু (Rammohan Naidu Kinjarapu) এটি উদ্বোধন করে বলেন, “এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল ভাড়া ওঠানামার অনিশ্চয়তা থেকে যাত্রীদের মুক্তি দেওয়া।” তিনি আরও বলেন, “এটি নরেন্দ্র মোদী সরকারের ‘উড়েছে দেশ কা আম নাগরিক’ ভাবধারা অনুসরণ করে সাধারণ মানুষকে উড়তে দেওয়া।”
এই নতুন ভাড়া ব্যবস্থাটি ১৩ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পাইলট পর্যায়ে নির্ধারিত নির্বাচিত রুটগুলিতে চালু থাকবে। সরকারের পরিকল্পনা, এই সময়ে তার কার্যকারিতা লক্ষ্য ও যাত্রীদের ভেতর কেমন সাড়া পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখা। অ্যালায়েন্স এয়ারের এসব রুটের জন্য নির্ধারিত ভাড়া (static fare) বুকিং তারিখ যাই হোক না কেন, এমনকী উড়ানের দিনেও পরিবর্তন হবে না। এটি যাত্রীদের বুকিং পিছিয়ে বা শেষ মুহূর্তে করার ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর উচ্চ ভাড়া দিয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় থেকে মুক্তি দেবে, বলে দাবি করা হয়েছে।
মন্ত্রী কিঞ্জারাপু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “স্ট্যাটিক ভাড়া ব্যবস্থাটি ভাড়া ওঠানামার চাপ দূর করে, এমনকী শেষ মুহূর্তে বুকিং করার ক্ষেত্রেও খরচের পূর্বাভাসযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।” তিনি বলেন, “এই প্রকল্পটি উড়ান প্রকল্পের মূল নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।” এ সময় তিনি UDAN প্রকল্পের ক্যাফে উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বিমানবন্দরে চা পাওয়া যাবে মাত্র ১০ টাকা, কফি ২০ টাকা এবং স্ন্যাকসও সীমিত মূল্যে। অ্যালায়েন্স এয়ার কতটা সক্ষম? সংস্থাটির ফ্লাইট নেটওয়ার্ক ও বিমানের ধরন বিষয়েও তথ্য দিয়ে বলা হচ্ছে, তাদের হাতে আছে ১৮টি ATR 72-600 বিমান, দুইটি ATR 42-600 এবং একটি Dornier Do-228 মডেলের বিমান। ATR 72-600 বিমানগুলোর যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৭২ জন, ATR 42-600 বিমানগুলোর ৪৮ জন, এবং Dornier Do-228 বিমানটি ১৭ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম। এই রুটগুলির মধ্যে রয়েছে ভুবনেশ্বর (Bhubaneswar), ভুজ (Bhuj), দিউ (Diu), গোরক্ষপুর (Gorakhpur), গুয়াহাটি (Guwahati), জবলপুর (Jabalpur), কুলু (Kullu), রাউরকেলা (Rourkela), শিমলা (Shimla), শিলচর (Silchar) ও তিরুপতি (Tirupati)। এছাড়া কিছু বিশেষ রুট যেমন ভুবনেশ্বর থেকে রাউরকেলা, দিল্লি, শিমলা, হায়দ্রাবাদ, তিরুপতি এবং কলকাতা, গুয়াহাটিতে বিমান পরিষেবা চালাবে বলে জানানো হয়েছে।
এই উদ্যোগ ভারতের বিমান যোগাযোগ ক্ষেত্রে একটি নতুন দিশার সূচনা হতে পারে। কারণ দেশীয় বিমান সেক্টর এখন মূলত ’ডাইনামিক প্রাইসিং’ (dynamic pricing) মডেলে চলে, যেখানে ভাড়া যাত্রী চাহিদা, সীট অবস্থা ও সময় পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করে। যদিও এই মডেল আয় বৃদ্ধি করতে কার্যকর, যাত্রীদের জন্য এটি অনিশ্চয়তা ও দুঃসাহসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন ‘ফেয়ার সে ফুরসত’ পরিকল্পনাটি সেই ফাঁকা জায়গাটি পূরণ করার লক্ষ্য নিয়েছে, নির্দিষ্ট দাম দিয়ে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ বিমান ভাড়া ব্যবস্থা সৃষ্টি। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, যদি এই পাইলট প্রকল্প সাফল্যমণ্ডিত হয় এবং যাত্রী সাড়া ইতিবাচক হয়, তাহলে এটি দেশের অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলিতেও ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে, বিশেষ করে স্বল্প দূরত্ব এবং আঞ্চলিক রুটগুলিতে। তবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে যাচ্ছে, স্ট্যাটিক ভাড়া মডেল কোণভাবে বিমানের আয় ও কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে কি না। কিছু রুট যাত্রীর সংখ্যা কম থাকলে, নির্ধারিত ভাড়ায় কাজ চালিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যাত্রী ও পর্যটন শিল্পকে এতে বিশেষভাবে লাভ হতে পারে। ছোট শহরগুলোতে আদর্শ ভাড়া থাকলে মানুষ বেশি করে বিমান ভ্রমণ গ্রহণ করতে পারে, স্থানীয় অর্থনীতিও উদ্ভূত হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এই রূপান্তর কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বিমানকে জনহিতকর’ করার দ্রুত গতি দেবে।
আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ নবম কিস্তি)
ছবি: প্রতীকী




