Samik Bhattacharya BJP plan|কল-কারখানা, কর্মসংস্থান ও নারী সুরক্ষা: শমীক ভট্টাচার্যের বিজেপির নতুন পশ্চিমবঙ্গ -বিরোধী ভোট কৌশল 

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে একটি নতুন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে সামনে এসেছেন, “ধর্ম নয়, বেঁচে থাকার লড়াই”। কল-কারখানা পুনরুদ্ধার, বেকারত্ব মোকাবিলা, নারী নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, গৃহ ও পানীয় জল পরিষেবা- এগুলোকে কেন্দ্র করে বিজেপি তাঁর ঘুঁটি সাজাচ্ছে। শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, “এই রাজ্যে বহু কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে, শিল্পে বিনিয়োগ কমে গিয়েছে, বেকারত্ব বাড়ছে” এবং তাঁর পরিকল্পনা সেই প্রসঙ্গেই সংহত হয়েছে। BJP-এর নতুন নেতৃত্বের পরিকল্পনায় মূল উপাদান হচ্ছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সেবা নিশ্চিতকরণ। ইতিমধ্যে তিনি বলছেন, “আপনি যদি উন্নয়ন চান, যদি কাজ চান, যদি স্বাস্থ্য ও পরিষেবা চান, BJP হতে হবে আপনার পছন্দ।”
Samik Bhattacharya BJP plan
বিজেপি’র রাজ্য সম্পাদক শমীক ভট্টাচার্য। ছবি : সংগৃহীত

রাজ্য ও কেন্দ্রীয় অনুদান, বিশেষ প্রকল্প, শিল্প প্রণোদনা ও কৃষি-সহায়ক উদ্যোগগুলোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে BJP। কেন্দ্রীয় মডেল অনুসরণ করে, রাজ্য পর্যায়ে ‘কল-কারখানা পুনরুজ্জীবন প্যাকেজ’ ঘোষণা করার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি, বেকার যুবকদের জন্য বিশেষ চাকরিপ্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে। নারী সুরক্ষা ও সম্মান বিষয়টিকেও ভট্টাচার্য অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তামাম হিংসার ঘটনায় কড়া অ্যাকশন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, “নারী যখন নিরাপদ অনুভব করবে, তখন আগামী প্রজন্মও নিরাপদ হবে।” স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি, নতুন হাসপাতাল গুলিতে আত্যাধুনিক যন্ত্রপাতী ডাক্তার সুস্থ পরিষেবা, আধুনিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মাতৃকল্যাণ প্রকল্প এবং ওষুধ সংস্থান বৃদ্ধির প্রস্তাবনা BJP নেতাদের মুখে আসছে। পানীয় জল ও গৃহহীনদের জন্য রিয়েল এস্টেট ও আবাসন প্রকল্পগুলিকে নির্বাচনী অঙ্গ হিসেবে BJP রাখতে চলেছে। বিশেষভাবে গ্রামের ক্ষেত্রে “পানীয়  জল শোধনাগার ব্যবস্থা” ও গৃহনির্মাণ প্রকল্পগুলি তুলে ধরা হবে। এক প্রকল্প বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “গ্রামে যদি দিনমজুররা পানীয় জলের অভাবে ভোগেন, তাহলে উন্নয়ন তো দূরের কথা  জীবন যাপন কঠিন হয়ে যায়।”

একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন, অর্থনৈতিক পরিকাঠাম, সাংস্কৃতিক, নিরাপত্তা ও পরিচয়-রাজনীতি BJP কৌশলে ছড়িয়ে পড়েছে। শমীক ভট্টাচার্য বারবার বলেন, “এই রাজ্যে আমরা চাই না “পশ্চিম  বাংলাদেশ’ হোক”, একটি সঙ্কেত হিসেবে মাইগ্রেশন, অবৈধ প্রবেশ ও ভোটার তালিকা সংস্কারের ইস্যু তিনি সামনে এনেছেন। সংগঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতির দিকে নজর দিয়ে, BJP ইতিমধ্যেই রাজ্য নেতৃত্ব ও কর্মীশক্তি পুনর্বিন্যাস করছে, পুরনো অভিজ্ঞ নেতাদের ও নতুন মুখদের একত্রে মিশিয়ে। সূত্রের খবর, শমীক ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারী (Dilip Ghosh ও Suvendu Adhikari) -এর সঙ্গে রাজনৈতিক কাজের পরিকল্পনাও করা হয়, যা দলকে একীভূত করার একটি নিদর্শন। 

BJP-র এই পরিকল্পনায় বেশ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যেহেতু অনেক ভয়, আবেগ ও অনুভূতির দ্বারা পরিচালিত, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি কতটা বিশ্বাসযোগ্য হবে, সেটি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তৃণমূল এইসব অবকাঠামোগত প্রতিশ্রুতির বিষয়ে skeptics হিসাবেই প্রশ্ন তুলছে। দ্বিতীয়ত, সাংস্কৃতিক প্রতিপাদ্য ও পরিচয় রাজনীতিতে BJP যে এগিয়ে এসেছে, তা ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংহতির প্রশ্ন বারবার সামনে আনবে। ভট্টাচার্য যতই বলুন “ধর্ম নয় বেঁচে থাকার লড়াই”, সেই শ্লোগান কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে তা নির্ভর করবে তাঁর প্রকল্প বাস্তবায়নের স্পষ্টতার ওপর।তৃতীয়ত, উন্নয়ন ও শিল্প প্রকল্পের বাস্তব অর্থায়ন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাজেট, প্রশাসনিক সক্ষমতা,  সবকিছু সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। “চালু করা সহজ, চালিয়ে যাওয়া কঠিন” এ কথাটিই রাজ্যের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী বিশ্লেষকরা বারংবার জানাচ্ছেন।

এক দিক থেকে, BJP ইতিমধ্যে “No SIR, No Vote” নামের আন্দোলন শুরু করেছে, যেখানে তারা দাবি করেছে, ভোটার তালিকা সংস্কার (Special Intensive Revision, SIR) না করলে ভোট দেবেন না। তারা একই সঙ্গে ১৭ লক্ষের অধিক “নকল ভোটার” তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে, ও তৃণমূলকে অভিযুক্ত করেছে ভোটার তালিকা বিকৃত করার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের অধীনে অভিযোগ রয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি, অর্থনৈতিক স্ট্যাগনেশন, BJP এই দিকগুলিকে সামনে এনে তর্ক করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গ সফরে বিলিয়ন-রূপী অবকাঠামো প্রকল্প উদ্বোধন করে এই বৈষম্য আরেক দিক থেকে তুলে ধরেছেন, এবং BJP-কে নির্বাচনযোগ্য বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসন রয়েছে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ১৪৮ আসন।  তবে বিজেপিকে 215 আসন টার্গেট রাখতে হবে। BJP-র লক্ষ্য TMC শাসনকে চ্যালেঞ্জ করা এবং ক্ষমতায় আসা, তবে এখন BJP-এর আসনসংখ্যা ও ভোটভাগ টিএমসি -এর অনেক পিছুনে রয়েছে। এই বিষয়টি না ভেবে গ্রামীণ সংগঠনের উপর জোর এবং শহরতলি এলাকায় বিজেপি সংগঠনকে শক্তিশালী করা লক্ষ্য হওয়ায় উচিত বলে মনে করছে বুদ্ধিজীবী মহল।

ভোট রাজনীতির এই বেশি জটিল ও আবেগময় গড়ে ওঠার পরিস্থিতিতে, BJP-এর এই পরিকল্পনায় অনেকটাই পদক্ষেপ এগিয়ে থাকতে হবে, কর্মহীনতা মোকাবিলা, উন্নয়ন বাস্তবায়ন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং পরিচয় রাজনীতির সঙ্কটে সংবেদনশীল সমাধান।

ছবি: সংগৃহীত

আরও পড়ুন : BJP voter list revision training | ভোটার তালিকা সংশোধনে বিজেপির বড় প্রস্তুতি, শমীক ভট্টাচার্যদের নেতৃত্বে প্রশিক্ষণ শুরু

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন