Farakka railway line collapse, New Farakka train cancellation | ফরাক্কায় রেললাইন ধসে বিপাকে যাত্রীরা, আটকদের জন্য ২০টি বিনা খরচের বাস পাঠাল রাজ্য

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা ও ফরাক্কা, ৪ সেপ্টেম্বর :  ফরাক্কায় রেললাইনের নিচের মাটি বসে যাওয়ার ঘটনায় উত্তরবঙ্গমুখী ট্রেন পরিষেবা বিপর্যস্ত (Farakka railway line collapse)। একের পর এক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল, কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথ বদল ও বহু ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। এমন পরিস্থিতিতে আটকে থাকা রেলযাত্রীদের সাহায্যে এগিয়ে এল রাজ্য সরকার। যাত্রীদের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে দিতে শুক্রবার ২০টি বিনা খরচের বাস চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রেনে আটকে থাকা যাত্রীদের কাছে খাবার ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য মালদহ (Malda) ও মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ। ফরাক্কা (Farakka) এলাকায় রেললাইনের নিচে ধস নামার ঘটনাকে ঘিরে বুধবার গভীর রাত থেকেই রেল পরিষেবায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। নিউ ফরাক্কা স্টেশনের (New Farakka Railway Station) কাছে লাইনের নীচের মাটি বসে যাওয়ায় আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে মেরামতির কাজ শুরু হলেও লাইনের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি থাকায় স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনা যায়নি।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi on foreign travel | বিদেশ ভ্রমণ থেকে সোনা কেনা অভ্যাস বদলের ডাক নরেন্দ্র মোদীর, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে দেশেই খরচের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রেল সূত্রে খবর, বুধবার রাত আড়াইটে নাগাদ নিউ ফরাক্কা স্টেশন থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে বারহাড়োয়ার (Barharwa) দিকে রেললাইনের নিচের মাটি কয়েক ফুট বসে যায়। প্রায় ২০ মিটার অংশ জুড়ে এই সমস্যা দেখা দেয়। রাতের রেললাইন পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা গ্যাংম্যানরা প্রথমে বিষয়টি দেখতে পান। তাঁরাই দ্রুত স্টেশন ম্যানেজারকে খবর দেন। খবর পাওয়ার পর রেলের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে রাত থেকেই বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে। যাত্রীদের অনেকেই দীর্ঘ সময় ট্রেনের ভিতরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। বৃহস্পতিবার বিকেলের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে ডাউন লাইন দিয়ে সীমিত সংখ্যক ট্রেন চালানোর চেষ্টা করা হলেও পুরো পরিষেবা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। যাত্রীসুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় রেল কর্তৃপক্ষ।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে। রেললাইন বরাবর কয়েকটি জায়গায় নতুন করে মাটি বসে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (Howrah-New Jalpaiguri Vande Bharat Express) -সহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়। বাতিলের তালিকায় রয়েছে হাওড়া-বালুরঘাট এক্সপ্রেস (Howrah-Balurghat Express) ও হাওড়া-রাধিকাপুর কুলিক এক্সপ্রেসও (Howrah-Radhikapur Kulik Express)। শুধু ট্রেন বাতিল নয়, কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথও পরিবর্তন করা হয়েছে। বিকল্প পথে ট্রেন চালানোর জন্য নলহাটি (Nalhati), আজিমগঞ্জ (Azimganj) ও নিউ ফরাক্কা হয়ে গন্তব্যে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীঘা-মালদহ টাউন এক্সপ্রেসের (Digha-Malda Town Express) যাত্রাপথও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই ট্রেনকে রামপুরহাট (Rampurhat) পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে যাত্রা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রেলের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে একাধিক ট্রেন বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিয়ালদহ-সবরুম কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস (Sealdah-Sabroom Kanchanjunga Express), শিয়ালদহ-হলদিবাড়ি দার্জিলিং মেল (Sealdah-Haldibari Darjeeling Mail), শিয়ালদহ-মালদহ টাউন গৌড় এক্সপ্রেস (Sealdah-Malda Town Gour Express), শিয়ালদহ-নিউ জলপাইগুড়ি পদাতিক এক্সপ্রেস (Sealdah-New Jalpaiguri Padatik Express), শিয়ালদহ-আলিপুরদুয়ার কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস (Sealdah-Alipurduar Kanchankanya Express), শিয়ালদহ-বালুরঘাট এক্সপ্রেস ও অমৃত ভারত এক্সপ্রেস (Amrit Bharat Express)। সাহেবগঞ্জ-মালদহ টাউন মেমু (Sahibganj-Malda Town MEMU) ট্রেন পরিষেবাও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ফরাক্কার এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের উপর। সপ্তাহান্তে বহু মানুষ পরিবার নিয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা দেন। পাশাপাশি ব্যবসা, চাকরি ও নানা প্রয়োজনেও প্রতিদিন বহু মানুষ এই রেলপথ ব্যবহার করেন। ট্রেন বাতিল হওয়ায় তাঁদের অনেকের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রীরা মাঝপথে আটকে যাওয়ায় খাবার ও পানীয় জলের প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে।

এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০টি বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আটকে থাকা যাত্রীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাসের মাধ্যমে বিকল্প পথে তাঁদের এগিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বাস পরিষেবার জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে কোনও ভাড়া নেওয়া হবে না। প্রশাসনের তরফে ট্রেনে আটকে থাকা মানুষের কাছে খাবার ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে রাতের জন্যও যাত্রীদের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। শুক্রবার রাতের মধ্যে রেল পরিষেবা স্বাভাবিক করা সম্ভব না হলে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনকে আটকে থাকা যাত্রীদের থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ট্রেনের ভিতরে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থাও তৈরি রাখা হচ্ছে।

রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সম্পূর্ণ নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল শুরু করা হবে না। মাটি বসে যাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি রেললাইনের নীচের অংশের মেরামতির কাজও চলছে। মেরামতির পর লাইনের নিরাপত্তা যাচাই করা হবে। তারপরই ট্রেন চলাচল পুরোপুরি শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ফরাক্কার রেললাইন ধসের জেরে শুধু স্থানীয় যোগাযোগ নয়, কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে যাওয়ার দীর্ঘপথের রেল যোগাযোগেও তার প্রভাব পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে একাধিক ট্রেন বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের বিকল্প পরিবহণের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে বাসের ব্যবস্থা করা হলেও যাত্রীদের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটতে এখনও সময় লাগতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য প্রশাসনের লক্ষ্য এখন মূলত আটকে থাকা যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যের দিকে পাঠানো এবং তাঁদের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করার দিকে। অন্য দিকে রেলের লক্ষ্য দ্রুত মেরামতির কাজ শেষ করে নিরাপদে ট্রেন চলাচল ফেরানো। ফরাক্কায় রেললাইনের নীচের মাটি বসে যাওয়ার ঘটনা তাই আপাতত উত্তরবঙ্গগামী রেল পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Nandigram Election 2026, Suvendu Adhikari Nandigram | নন্দীগ্রামে উন্নয়নের একগুচ্ছ ঘোষণা, ভোটের ময়দানে শুভেন্দুর বড় চ্যালেঞ্জ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন