PM Narendra Modi on foreign travel | বিদেশ ভ্রমণ থেকে সোনা কেনা অভ্যাস বদলের ডাক নরেন্দ্র মোদীর, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে দেশেই খরচের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে বদল আনার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বিদেশে ছুটি কাটানো থেকে শুরু করে বিদেশে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন কিংবা প্রয়োজন ছাড়াই সোনা কেনা, এই ধরনের খরচের প্রবণতা কমিয়ে দেশীয় অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে আত্মনির্ভরতা, দেশীয় পণ্যের ব্যবহার এবং দেশের পর্যটন ও স্থানীয় শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার ভাবনা। সম্প্রতি একটি ভিডিয়োবার্তায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী দিনের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মোদী দেশবাসীর উদ্দেশে কয়েকটি পরামর্শ দেন। বিদেশ ভ্রমণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, শুধুমাত্র অবসর কাটানো বা বেড়ানোর জন্য বিদেশে যাওয়ার বদলে দেশের মধ্যেই পর্যটনের সুযোগ খুঁজে দেখা যেতে পারে। তাঁর যুক্তি, ভারতেই পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল, মরুভূমি থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। দেশের মানুষ যদি সেই জায়গাগুলিতে ভ্রমণ করেন, তা হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে।

আরও পড়ুন : Indian GDP growth 7.8 percent, PM Narendra Modi GDP speech | ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পর মোদীর নিশানা রাহুলকে, বিদেশ ভ্রমণ-বিয়ে-সোনা নিয়ে দেশবাসীকে তিন পরামর্শ

বিদেশ ভ্রমণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলে তার একটি অংশ বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে দেশের বাইরে চলে যায়। সেই খরচের বদলে দেশীয় পর্যটনকেন্দ্রে অর্থ ব্যয় করলে হোটেল, পরিবহণ, রেস্তরাঁ, হস্তশিল্প ও স্থানীয় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ উপকৃত হতে পারেন। পর্যটননির্ভর এলাকাগুলিতে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের ভ্রমণের অভ্যাসকেও বৃহত্তর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্তমানে দেশের বহু পরিবার বিদেশের বিভিন্ন আকর্ষণীয় জায়গায় বিয়ের অনুষ্ঠান করার দিকে ঝুঁকছে। বড় মাপের ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এ বিপুল অর্থ খরচ হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, সেই অর্থ দেশের মধ্যেই ব্যয় করা হলে তার সুফল স্থানীয় ব্যবসা ও পরিষেবা ক্ষেত্রে পৌঁছতে পারে।

‘ওয়েডিংস ইন ইন্ডিয়া’ বা ভারতেই বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে মোদী দেশবাসীকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন। রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদ, কেরলের উপকূল, গোয়ার পর্যটনকেন্দ্র, উত্তর ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল কিংবা বাংলার ঐতিহাসিক স্থান ইত্যাদি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশেই বিয়ের অনুষ্ঠান করলে সাজসজ্জা, খাবার, পোশাক, পরিবহণ, হোটেল এবং অন্যান্য পরিষেবা খাতে অর্থের ব্যবহার বাড়বে। সোনা কেনার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে। প্রয়োজন না থাকলে অতিরিক্ত সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভারতে সোনার চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই বেশি। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ফলে সোনা কেনার ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ তৈরি করতে পারে। মোদীর বক্তব্যে তাই অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনার বদলে দেশের উৎপাদিত পণ্য ও পরিষেবায় ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Pezeshkian Meeting | পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদীর বৈঠক, হরমুজ নিয়ে দিল্লির উদ্বেগ প্রকাশ বিশকেকে

দেশীয় পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কারিগরদের তৈরি পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর আবেদন। একটি দেশীয় পণ্য কেনার সঙ্গে শুধু একজন ক্রেতার সিদ্ধান্তই জড়িত নয়; তার সঙ্গে উৎপাদক, শ্রমিক, পরিবহণকর্মী, বিক্রেতা এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের আয়ও যুক্ত থাকে। ফলে দেশের ভিতরে চাহিদা তৈরি হলে তার প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে পৌঁছতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আগামী দিনের ভারতের কথাও তুলে ধরেছেন। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হবে। সেই সময়ের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই কেন্দ্রীয় সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের সিদ্ধান্ত এবং জীবনযাপনের ধরন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এ প্রসঙ্গে যুবসমাজের ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে। দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, শিল্প ও নতুন সুযোগ তৈরি করতে দেশীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। দেশীয় পণ্য কেনা, স্থানীয় পর্যটনকে উৎসাহ দেওয়া এবং দেশের পরিষেবা ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষও অর্থনীতির অংশীদার হতে পারেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই ধারণাই গুরুত্ব পেয়েছে। তবে বিদেশ ভ্রমণ, বিদেশে বিয়ে বা সোনা কেনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা মত রয়েছে। একাংশের মতে, ব্যক্তিগত খরচের সিদ্ধান্ত একজন নাগরিকের নিজস্ব বিষয়। আবার অন্য অংশ মনে করছে, দেশের অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে দেশীয় পর্যটন ও পণ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করার উদ্যোগের অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।

দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে শুধু সরকারি নীতি নয়, সাধারণ মানুষের ভোগের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ কোথায় ভ্রমণ করছেন, কোথায় বিয়ের অনুষ্ঠান করছেন, কোন পণ্য কিনছেন বা কী ধরনের পরিষেবা নিচ্ছেন, তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত অর্থনীতির কোনও না কোনও অংশে প্রভাব ফেলে। তাই আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে নাগরিকদের অভ্যাস বদলের যে আহ্বান প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তা আগামী দিনে দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও জনজীবনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi on Uttam Kumar Birth Centenary | জন্মশতবর্ষের আগেই মহানায়ককে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, ‘উত্তমকুমার চিরদিন মানুষের হৃদয়ে রাজ করবেন’

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন