দলের কাউন্সিলরদের দ্বারা আক্রান্ত কালনা টাউন সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি
সাশ্রয় নিউজ ★ কালনা : কালনা পৌরসভার ক্ষমতায় আছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কালনা পৌরসভায় বোর্ড মিটিং ছিল দুপুর আড়াইটে নাগাদ। নিজেরই দলের কাউন্সিলরদের হাতে আক্রান্ত হলেন কালনা টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি। কী হয়েছিল ওই মিটিংয়ে? নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কালনার এক তৃণমূল নেতা জানান, বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সেই মিটিংয়েই কালনা পৌরসভার কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাপস দাস। এবং তারপরেই ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরজিৎ হালদার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সন্দীপ বসু ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনিল বসু ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাঁদের প্রশ্ন, তাঁরা কেন সি-এম এর কাছে এই তথ্যগুলো পাঠিয়েছেন? ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাপস দাস তিনিও বলেছেন যে, আমরা মা মাটি মানুষের সরকার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি মানুষের কাছে তুলে ধরাই আমাদের কাজ। কিন্তু সেখানে তার ওয়ার্ডে মানুষজন বিভিন্ন কাজকর্ম বা পরিষেবা ঠিকঠাক পাচ্ছেন না। যার জন্য তিনি অনেকবার পুরসভার কর্তৃপক্ষের কাছে আর্জি জানিয়েছেন ও তাতে বিফল হওয়ার জন্যই তিনি সি এম-কে জানাতে বাধ্য হয়েছেন। তাপস দাস-এর পাশে ছিলেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং কালনা শহরের শহর সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি। তাপস দাসকে লক্ষ্য করে একটি কাপ ছোঁড়েন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনিল বসু। তাপস দাস বুকে আঘাত পান। এবং তার সঙ্গে সঙ্গেই গুরুতর আঘাত কালনা টাউন সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি। তাঁকে দ্রুত হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি কালনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই খবর কর্মী সমর্থকদের কাছে পৌঁছতেই কালনা হসপিটালে সামনেই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করেন, পথ অবরোধ শুরু করেন টাউন সভাপতিকে এভাবে আঘাত করার জন্য। এই অবরোধ ও বিক্ষোভকারীরা কালনা পৌরসভার বিভিন্ন কাজকর্ম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বলে উল্লেখ। তাঁদের দাবি, তারা মা মাটি মানুষের সরকারের প্রতিনিধি। যেখানে মা মাটি মানুষের সরকার সকলের কাছে স্বচ্ছ ভাব মূর্তি তুলে ধরতে চাইছেন, তখন কালনা পৌরসভার ঠিকঠাক পরিষেবা দিচ্ছে না।
উল্লেখ্য, দলের কর্মী ও সমর্থকরা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের কালনা টাউন সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি-র ওপর হামলার প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে কালনা থানা ঘেরাও করেছে বলে খবর।
রাজ্যে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই শাসক দলের অন্দরে কোন্দল প্রকাশ্যে আসছে বলে শিক্ষিত মহলের একাংশের দাবি।



