সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ কলকাতা : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026)-এর উত্তেজনার মাঝেই নতুন বিতর্ক ঘিরে ফেলল আন্তর্জাতিক ফুটবল মঞ্চকে। আইভরি কোস্ট (Ivory Coast)-এর তরুণ স্ট্রাইকার এলিয়ে ওয়াহিকে (Elye Wahi) কানাডায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় দলের প্রস্তুতিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। ম্যাচ গড়াপেটা সংক্রান্ত অভিযোগে আগে গ্রেফতার হয়ে ছাড়া পাওয়া এই ফুটবলার প্রথম ম্যাচ খেললেও দ্বিতীয় ম্যাচে আর মাঠে নামতে পারছেন না। জার্মানির (Germany) বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই পরিস্থিতি দলের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন : Messi Hat Trick Record | হ্যাটট্রিক করেও রেকর্ডে আগ্রহ নেই! মেসিকে নিয়ে বড় মন্তব্য ডি পলের
আইভরি কোস্টের ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এলিয়ে ওয়াহিকে কানাডায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তিনি আপাতত আমেরিকাতেই রয়েছেন।’ এর ফলে টরন্টোতে নির্ধারিত জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে না। দল জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তারা নজরে রাখছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফুটবলারের পাশে থাকার কথাও জানানো হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত কয়েক সপ্তাহ আগের। ২৩ বছর বয়সি ওয়াহির বিরুদ্ধে ফ্রান্স (France)-এ ম্যাচ গড়াপেটা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা যায়। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ (The Athletic)-এর প্রতিবেদনে উঠে আসে, ১৭ জুন মেটজ (Metz)-এর বিরুদ্ধে তাঁর ক্লাব নিস (Nice)-এর হয়ে খেলার সময় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার জেরে ২৯ মে তাঁকে গ্রেফতার করে ফরাসি পুলিশ। যদিও পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ওয়াহির বিরুদ্ধে প্রতারণা, সংগঠিত ম্যাচ গড়াপেটা এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেনি। তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দায়ের হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। এই ঘটনার পরও তিনি বিশ্বকাপে অংশ নিতে আমেরিকায় (USA) পৌঁছে যান এবং ইকুয়েডর (Ecuador)-এর বিরুদ্ধে আইভরি কোস্টের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামেন। সেই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর একটি শক্তিশালী শট বারে লাগে, যা গোল হলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারত। ফলে দলের আক্রমণভাগে তাঁর উপস্থিতি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা স্পষ্ট হয়েছিল।
তবে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে আচমকাই তৈরি হয় ভিসা জটিলতা। কানাডার (Canada) ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। এর ফলে টরন্টোতে অনুষ্ঠিতব্য জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচে তিনি অনুপস্থিত থাকছেন। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন পরিস্থিতি আইভরি কোস্টের পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করছে। আইভরি কোস্টের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ‘ওয়াহির বিরুদ্ধে ম্যাচ গড়াপেটার তদন্ত চলছে, এমন কোনও সরকারি তথ্য এখনও আমাদের হাতে আসেনি।’ ফলে তাঁকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দলের ভিতরে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও তাঁকে সমর্থন করার সিদ্ধান্তই নিয়েছে দল পরিচালনা কমিটি।
এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ফরাসি লিগ কর্তৃপক্ষের একটি পর্যবেক্ষণও। নিস বনাম মেটজ ম্যাচে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা লক্ষ্য করা হয়েছিল বলে তারা জানায়। অভিযোগ ওঠে, ম্যাচের ৩৫ মিনিটে মেটজের ডিফেন্ডার সাদিবু সানে (Sadibou Sané)-কে ইচ্ছাকৃত ট্যাকল করে হলুদ কার্ড নেন ওয়াহি। তার আগে তিনি একটি ফাউলের জন্য সতর্কও হয়েছিলেন। এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু হয়।এই হলুদ কার্ডের ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবনমন প্লে-অফ ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি। সাঁ এতিয়েন (Saint-Étienne)-এর বিরুদ্ধে সেই ম্যাচ ড্র হয়। পরবর্তী পর্বে ৪-১ ব্যবধানে জেতে নিস, যেখানে ওয়াহি দু’টি গোল করেন। সেই ম্যাচের পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তিনি আবার মাঠে ফেরেন।
ওয়াহিকে কেন বিশ্বকাপে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফিফা (FIFA)-র কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও এখনও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে আইভরি কোস্টের কোচিং স্টাফের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে ছাড়াই জার্মানির মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে নামতে হবে। ফলে কৌশলগত পরিবর্তন আনতে বাধ্য হতে পারে দল। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। সেখানে এমন বিতর্ক ও প্রশাসনিক জটিলতা দলের মনোবলেও প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়াহির অনুপস্থিতিতে আইভরি কোস্টের আক্রমণভাগ কতটা কার্যকর থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। অপরদিকে, ফুটবল দুনিয়ায় ম্যাচ গড়াপেটা সংক্রান্ত অভিযোগ নতুন নয়, তবে বিশ্বকাপের মাঝখানে এমন ঘটনা সামনে আসায় তা আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ওয়াহির ভবিষ্যৎ কী হবে, তিনি আবার দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন কি না, এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখন সময়ই দেবে।
ছবি : সংগৃহীত



