Election Commission Swasthya Sathi | স্বাস্থ্যসাথী কার্ড খারিজ: জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্কের সূচনা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নয়া দিল্লি ও কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দীর্ঘদিনের দাবি খারিজ করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। রাজ্য সরকার প্রস্তাব দিয়েছিল যাতে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে (Swasthya Sathi Card) SIR নথি হিসাবে গ্রহণ করা হয়। তবে বুধবার অনুষ্ঠিত CEO সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, স্বাস্থ্যসাথীকে প্রামাণ্য নথি হিসাবে গণ্য করা হবে না। এর পরিবর্তে আধার কার্ড (Aadhaar Card) দ্বাদশ নথি হিসাবে গৃহীত হবে।

জাতীয় নির্বাচন কমিশন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে SIR নথি হিসাবে খারিজ করেছে। বাংলায় আধার ও আরও ১১টি নথি বাধ্যতামূলক। রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক।
-প্রতীকী চিত্র

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায় যে, বিহারের মডেল অনুসরণ করেই বাংলায় প্রমাণপত্রের তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেখানে ১১টি নথি গ্রহণ করা হয়েছে, আর এবার বাংলাতেও সেই তালিকাই কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ আধার কার্ডের পাশাপাশি নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে অন্য ১১টি নথির যেকোনও একটি জমা দিতে হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম তুলতে ফর্ম ৬ (Form 6) ব্যবহার করা হয় ও সেখানে যেভাবে আধারকে প্রমাণপত্র হিসাবে গ্রহণ করা হয়, ঠিক সেভাবেই SIR-এও আধারকে প্রামাণ্য নথি হিসাবে গ্রহণ করা হবে। তবে অন্য নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকছে। রাজ্য সরকারের আবেদন যে খারিজ হয়েছে, তা কার্যত রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে নথি হিসাবে গ্রহণ করা হলে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ সহজেই সুবিধা পেতেন। তবে কমিশনের যুক্তি ভিন্ন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো খবর, “SIR-এ প্রমাণপত্রের স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। তাই আধারের পাশাপাশি অন্য নথির প্রয়োজন থাকবে। স্বাস্থ্যসাথী যদিও সামাজিক প্রকল্প, কিন্তু একে আইনি প্রমাণপত্র হিসাবে গণ্য করা যাবে না।”

সূত্রের খবর অনুযায়ী, অক্টোবর থেকেই সারা দেশে SIR-এর কাজ শুরু হয়ে যেতে পারে। এজন্য চলতি মাসের মধ্যেই সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এই নির্দেশ কার্যকর হলে বাংলাতেও প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়ে যাবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই চাপানউতোর শুরু হয়ে গিয়েছে। বিরোধীরা দাবি করছে, ভোটের আগে তড়িঘড়ি করে SIR প্রক্রিয়া চালু করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। একজন বিরোধী নেতা মন্তব্য করেছেন, “স্বাস্থ্যসাথীকে বাদ দেওয়া মানে সাধারণ মানুষের সুযোগ কেটে দেওয়া। এটা আসলে এক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।” তবে শাসক শিবির এখনও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

জাতীয় নির্বাচন কমিশন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে SIR নথি হিসাবে খারিজ করেছে। বাংলায় আধার ও আরও ১১টি নথি বাধ্যতামূলক। রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক।
-প্রতীকী চিত্র

বিহারে SIR চালুর পর থেকেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিল যে নাগরিকপঞ্জির ধাঁচে এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াবে। এবার যদি বাংলাতেও ভোটের আগে এই প্রক্রিয়া চালু হয়, তাহলে রাজনৈতিক মহল কোন পথে এগোয় তা দেখার অপেক্ষায় বিশেষজ্ঞরা।উল্লেখযোগ্য যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) চালু করেছিলেন রাজ্যের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য। এই কার্ড ব্যবহার করে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা নেওয়া যায়। তাই অনেকের মতে, এটিকে যদি প্রমাণপত্র হিসাবে গ্রহণ করা হত তবে সাধারণ মানুষ আরও বেশি সুবিধা পেতেন। কিন্তু কমিশনের এই সিদ্ধান্তে এখন রাজনৈতিক কৌশল কতটা বদলায় সেটাই দেখার বিষয়।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও কঠোর হয়ে গেল বলেই মনে করছেন অনেকে। কারণ এখন থেকে শুধু আধার নয়, অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে। ফলে যাঁরা কেবল স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের উপর নির্ভর করেছিলেন তাঁদের আবার নতুন করে নথি জোগাড়ের প্রক্রিয়ায় নামতে হবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ভোটের আগে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একদিকে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে শাসক-বিরোধী দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হতে পারে। আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্তের কী প্রভাব পড়বে তা সময়ই বলবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Vice President of India, C.P. Radhakrishnan | দেশের ১৫তম উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নিলেন সিপি রাধাকৃষ্ণন

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন