Drug-Smuggling Submarine | ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকার দিকে ধেয়ে আসা বিশাল মাদকবাহী সাবমেরিন ধ্বংস, দুই জঙ্গি মৃত, আহত ১

SHARE:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের Peace Board উদ্যোগে সৌদি, কাতার ও ইউএই’র অংশগ্রহণের ইঙ্গিত। গাজার পুনর্নির্মাণ, মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি ও ভারতের সম্ভাব্য ভূমিকা বিশ্লেষণ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন: আমেরিকার উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছিল এক বিশাল মাদকবাহী সাবমেরিন (Drug-Smuggling Submarine)। ইকুয়াডোর (Ecuador) ও কলম্বিয়া (Colombia) থেকে যাত্রা করা ওই সাবমেরিনকে আটকানোর আগেই মার্কিন সেনা বাহিনী তা ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ট্রাম্পের দাবি, এই অভিযানেই দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত। 

শনিবার সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “অত্যন্ত সুপরিচিত মাদক পাচারের ট্রানজিট পয়েন্টে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ধেয়ে আসা একটি বিশাল মাদকবাহী সাবমেরিন ধ্বংস করতে পারা আমার জন্য একটি বড় সম্মান। এটি ছিল ফেন্টানাইল (Fentanyl) এবং অন্যান্য বিপজ্জনক মাদক পূর্ণ একটি জাহাজ, যা আমাদের দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া যায় না।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড এবং সামরিক বাহিনী যৌথভাবে অংশ নেয়। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা আমেরিকাকে আবারও রক্ষা করেছি, ড্রাগ লর্ডদের হাত থেকে, যারা আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করছে।”

ট্রাম্পের এই পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কারণ সেপ্টেম্বর মাস থেকে ক্যারিবিয়ান (Caribbean) অঞ্চলে মাদক পাচারকারী অন্তত ছয়টি জাহাজ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্যে কয়েকটি জাহাজের উৎস হিসেবে ভেনেজুয়েলা (Venezuela) এবং কলম্বিয়ার নাম উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনের তথ্য অনুযায়ী, এই ধারাবাহিক অভিযানে এখনও পর্যন্ত ২৭ জন মারা গিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলি অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি যে নিহত ব্যক্তিরা আসলেই মাদক পাচারকারী ছিল। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, “মাদক পাচারকারী সন্দেহে এভাবে আক্রমণ করে মানুষ হত্যা করা চরম বেআইনি ও নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।”

এই ঘটনার পর কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো (Gustavo Petro) এক্স (X)-এ একটি পোস্ট করে ট্রাম্পের দাবিকে সমর্থন করেছেন। তিনি লিখেছেন, “কলম্বিয়ার ওই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা মাদকবিরোধী যুদ্ধকে সম্মান করি, তবে মানবাধিকারের সীমা লঙ্ঘন করা যাবে না।” উল্লেখ্য, ট্রাম্প এর আগেই একাধিকবার ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ রোধ করা তাঁর প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। শুক্রবারের বক্তব্যেও তিনি বলেন, “আমেরিকাকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা সীমান্ত এবং সমুদ্রপথে আরও কঠোর নজরদারি চালাব। ল্যাটিন আমেরিকা (Latin America) থেকে ফেন্টানাইল এবং কোকেইনের প্রবাহ বন্ধ করাই এখন প্রথম অগ্রাধিকার।”

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো প্রকাশ করেনি। তবে ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর মতে, সাবমেরিনটি ইকুয়াডোর উপকূল থেকে ছেড়ে কলম্বিয়ার মধ্যবর্তী জলসীমা পেরিয়ে মার্কিন জলসীমার দিকে যাচ্ছিল। সাবমেরিনে মাদক ছাড়াও আধুনিক অস্ত্র থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাটি শুধু একটি মাদক অভিযান নয়, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে বলে বিশ্লেষকদের মত। বিশেষ করে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই বক্তব্য তাঁর কঠোর “ল অব অ্যান্ড অর্ডার” (Law and Order) ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (Amnesty International) জানিয়েছে, “যতক্ষণ পর্যন্ত প্রমাণ না পাওয়া যায় যে নিহতরা প্রকৃত মাদক পাচারকারী, ততক্ষণ এই অভিযানকে আইনসঙ্গত বলা যায় না।” উল্লেখ্য, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক বহু বছর ধরেই মার্কিন নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। ইকুয়াডোর, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে শত শত টন মাদক সামগ্রী প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয় বলে দাবি করেছে মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (DEA)।

ট্রাম্পের এই অভিযান সেই প্রেক্ষাপটে এক দৃঢ় বার্তা বহন করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মাদকবিরোধী যুদ্ধে কোনও আপস করবে না। তবে এর মানবিক ও কূটনৈতিক পরিণতি নিয়ে এখনই প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ধেয়ে আসা একটি বিশাল মাদকবাহী সাবমেরিন ধ্বংস করা হয়েছে। ঘটনায় দুই জঙ্গি নিহত ও দুইজন আহত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টও নিশ্চিত করেছেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Donald Trump On World Cup : ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ‘বস্টন নিরাপদ নয়’, ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ সরানোর হুমকি

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন