সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: উত্তেজনায় টানটান পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিতে আপাতত স্বস্তির ইঙ্গিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করতেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নড়েচড়ে বসেছে একাধিক দেশ। এই সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছে ইরান (Iran) এবং ইজরায়েলও (Israel)। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের তরফে জানানো হল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাচ্ছে এবং আশা করছে, ‘এই যুদ্ধবিরতি পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি নিয়ে আসবে।’ ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) -এর তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা আশা করি এই যুদ্ধবিরতি পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে।’ একই সঙ্গে জোর দেওয়া হয়েছে কূটনৈতিক আলোচনার ওপর। নয়াদিল্লির বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিও তার অভিঘাত অনুভব করেছে।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করার জন্য কূটনীতি এবং আলোচনার বিকল্প নেই।’ ভারতের এই অবস্থান নতুন নয়। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত বার বার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত যে কৌশলী অবস্থান নিয়েছে, এই বিবৃতি তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে ভারতের উদ্বেগ। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এই প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। ভারত সহ একাধিক দেশের জ্বালানি সরবরাহ এই পথের ওপর নির্ভরশীল। তাই যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি এই নৌপথে অবাধ চলাচল বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নতুন দিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ‘আমরা আশা করি হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের অবাধ স্বাধীনতা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকবে।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নটিকেও সামনে আনল।
উল্লেখ্য, বুধবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ‘ইরানে এখনই সেনা পাঠাচ্ছি না। বোমা ফেলব না।’ পাশাপাশি তিনি এটাও জানান যে এই যুদ্ধবিরতি দুই পক্ষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, অর্থাৎ আপাতত ইরান এবং আমেরিকা (United States), উভয় দেশই সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী দ্রুত, সম্পূর্ণ এবং নিরাপদভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান সম্মত হয়েছে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তির সুর শোনা যায়। যদিও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়, তবুও যুদ্ধবিরতির এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের তরফেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি (Saeed Abbas Araghchi) জানিয়েছেন, ‘হরমুজ় প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে হলে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রযুক্তিগত বিষয়গুলি বিবেচনা করা প্রয়োজন।’ তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইরানও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দিকে এগোতে চাইছে, যদিও কিছু বাস্তবিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাতের প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম ওঠানামা করেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটেছে এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে, কারণ দেশের একটি বড় অংশের জ্বালানি আমদানি নির্ভর করে এই অঞ্চলের ওপর। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের দিক থেকে এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত যে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে চাইছে, এই প্রতিক্রিয়ায় তা প্রতিফলিত হয়েছে। একদিকে শান্তির পক্ষে অবস্থান, অন্যদিকে বাণিজ্য ও নিরাপত্তার প্রশ্নে স্পষ্ট বক্তব্য, এই দুইয়ের সমন্বয় দেখা গিয়েছে নয়াদিল্লির অবস্থানে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীর নজর এখন পশ্চিম এশিয়ার দিকে। যুদ্ধবিরতির এই সিদ্ধান্ত কতদিন স্থায়ী হবে এবং তা সত্যিই শান্তির পথে এগোতে সাহায্য করবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত উত্তেজনা প্রশমনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্তরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, ভারতের তরফে যে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, ‘স্থায়ী শান্তি’ তা বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর। তবে এই মুহূর্তে কূটনৈতিক আলোচনার পথেই সমাধান খোঁজার যে বার্তা উঠে এসেছে, তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India Vietnam relations, To Lam Narendra Modi congratulations | ভিয়েতনামের নতুন প্রেসিডেন্ট তো লামকে অভিনন্দন মোদীর, ভারত-ভিয়েতনাম সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত




