Diwali Candles | দীপাবলির ঝলমলে বাজারে দুলছে লাড্ডু-মোমবাতি, রসমালাই-জিলিপি আকারের রঙিন আলোর খেলা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: দীপাবলির আগমনী বার্তা মানেই শহরের বাজারে জমে ওঠে রঙিন আলোর ছোঁয়া আর মিষ্টির সুবাস। তবে এবছর জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) দিনবাজারে ক্রেতাদের নজর কাড়ছে একদম ভিন্নধর্মী জিনিস, মিষ্টির মতো দেখতে কিন্তু আসলে সম্পূর্ণ মোমবাতি! লাড্ডু (Laddu), কাজু বরফি (Kaju Barfi), রসমালাই (Rasmalai), জিলিপি (Jilipi) সবকিছু এখন মোমবাতির আকারে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছেছে।

শহরের রায়কতপাড়ার (Raikatpara) বাসিন্দা মোনালিসা রায় বলেন, “দিনবাজারে দোকান ঘুরতে ঘুরতে প্যাকেটে সাজানো লাড্ডু আর রসমালাই দেখলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম মিষ্টি। হাত দিয়ে নিলেই বোঝা গেল, আসলে এগুলি মোমবাতি। দেখতেও এত সুন্দর যে কিনে না রাখলে মনেই মানতে পারছিলাম না।” জলপাইগুড়ি শহরের পান্ডাপাড়ার (Pandapara) বাসিন্দা শ্রাবন্তী সেন আরও জানান, “আমি সাধারণত মিষ্টি খুব ভালবাসি। দোকানে থরে থরে সাজানো লাড্ডু, রসমালাই, জিলিপি দেখে এগিয়ে আসি। কিন্তু হাতে নিয়ে বুঝলাম এগুলি মোমবাতি। মুখে দিলে সম্ভবত দাঁত ভাঙবে! তবে এত সুন্দর যে না কিনে থাকতে পারলাম না। লাড্ডু, কাজু বরফি, জিলিপি, রসমালাই, পানতুয়া, রসগোল্লা সবরকম মোমবাতিই কিনে নিয়েছি।” দিনবাজারের মোমবাতি বিক্রেতা টিটু আগরওয়াল এবং মায়াঙ্ক আগরওয়াল জানান, এবছর মিষ্টির আকারের মোমবাতি কার্যত হটকেক। তারা বলেন, “আগের বছর যেমন চাইনিজ টুনি বা মাটির প্রদীপের প্রতি ক্রেতারা আকৃষ্ট হতেন, এবছর লাড্ডু মোমবাতি, জিলিপি মোমবাতি, রসমালাই মোমবাতি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। দেখতে যেমন সুন্দর, জ্বলছে ততই আকর্ষণীয়। ক্রেতারা সাধারণত দু-চার পিস করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।”

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

শহরের বাজারে এই মোমবাতির ক্রেজ (Candles Craze) চোখে পড়ার মতো। শুধু শিশু বা তরুণরাই নয়, বৃদ্ধ বয়স্করাও এই অনন্য মোমবাতি কিনে যাচ্ছেন। পান্ডাপাড়া ও রায়কতপাড়া মিলিয়ে প্রতিটি দোকানে ৫০ থেকে ১০০ টাকা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে এই রঙিন মোমবাতি। অনেক ক্রেতা নিজেরা ছবি তুলতে বা উপহার হিসেবে পরিবারের কাছে পাঠাতেও নেন। ক্রেতাদের ভিড় ও ক্রয়যজ্ঞ দেখে বোঝা যাচ্ছে, দীপাবলির মিষ্টির ঐতিহ্য এবার মোমবাতির রঙে মিশে গেছে। মিষ্টির মতো দেখতে মোমবাতি শুধু আলোকসজ্জা নয়, এটি হয়ে উঠেছে দীপাবলির আনন্দের এক নতুন রূপ।বাজারের এক তরুণ ক্রেতা, অনিকেত ঘোষ বলেন, “আমি প্রথমে মিষ্টি ভেবে এগুলো কিনেছিলাম। পরে জানলাম মোমবাতি। তবে এত সুন্দর আলোকচিত্র দেখার মতো যে মিষ্টি বা না মিষ্টি তা বড় বিষয় নয়। দীপাবলির আবহাওয়া একেবারে রঙিন হয়ে উঠল।” মোমবাতি বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, ক্রেতাদের এই আগ্রহ থেকে তারা আরও নতুন ডিজাইন নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছেন। শুধু মিষ্টির মতো নয়, এবার থেকে বিভিন্ন ফল বা ফুলের আকৃতিও তৈরি হবে। টিটু আগরওয়াল বলেন, “আমরা চাই দীপাবলিতে আলোর উৎসবকে আরও আনন্দময় করে তোলা হোক। ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া আমাদের আরও উদ্দীপিত করছে।”

জলপাইগুড়ির দীপাবলির বাজারে এই নতুন প্রবণতা মোমবাতির নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। বাজারে ঘুরে দেখা যায়, থরে থরে সাজানো মিষ্টির মতো মোমবাতির সৌন্দর্য যেন আলো আর আনন্দের মেলবন্ধন ঘটাচ্ছে। ক্রেতারা, বিশেষ করে শিশুরা, এগুলো হাতে তুলে নিলেই যেন তাদের মুখে হাসি ফোটে। সুতরাং, এবছর দীপাবলি শুধু আলোর নয়, মিষ্টির মতো রঙিন মোমবাতির কারণে আরও আনন্দময় হয়ে উঠেছে। জলপাইগুড়ির এই বাজারের দৃশ্য যে শুধু স্থানীয়দের নয়, পাশের শহর ও অনলাইন মাধ্যমে আরও বহু মানুষের নজর কাড়বে তা বলাই যায়।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Thamma, EkDiwaneKiDeewaniyat | দীপাবলিতে বলিউডে ধাক্কা: আয়ুষ্মান-রশ্মিকা জুটির ‘থম্মা’কে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে হর্ষবর্ধন-সোনমের ‘এক দিওয়ানে কি দিওয়ানিয়াত’

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন