সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, ১ জানুয়ারি: দীর্ঘদিন পর আবার বিজেপির রাজ্য কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ। ভোকাল টনিকেই যেন ফিরে এলেন তিনি। সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দিলীপ। সেখানেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি।
প্রায় আট মাস পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকের বিজেপি অফিসে যান দিলীপ ঘোষ। দলের অন্দরমহলে চলা নানা জল্পনা, তাঁর ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, তারই উত্তর দিলেন তিনি সাংবাদিক বৈঠকে। দিলীপের কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস, চোখেমুখে আগের সেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি। স্পষ্ট জানালেন, তিনি রাজনীতির মাঠ ছেড়ে যাননি, বরং দল চাইলে আবারও সক্রিয়ভাবে লড়াইয়ে নামবেন। দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমি সবসময় আছি। মাঠজুড়ে খেলব। ছয় বছর রাজ্য সভাপতি ছিলাম। পরে অন্য দায়িত্ব সামলেছি। আজ শমীকদার সঙ্গে কথা হয়েছে। দলের যেভাবে আমাকে প্রয়োজন, আমি আছি। লড়ব।” এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই তিনি বুঝিয়ে দেন, বিজেপির অন্দরকোন্দল বা নেতৃত্বের রদবদল তাঁকে পিছিয়ে দিতে পারেনি। গত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় দলেরই একাংশের কর্মীদের বিক্ষোভ ও কালো পতাকা দেখানোর ঘটনায় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে এদিন নাম না করেই শুভেন্দু অধিকারীর দিকে আঙুল তোলেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, “দলের কর্মীরা আমাকে কোনওদিন কালো পতাকা দেখায়নি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেকে দলে এসেছে। এগুলো ওদের কালচার। কখন কাকে দেখাতে হবে, সেটা ওরা ভুলে যায়। টিএমসি থেকে কিছু লোক এসেছে। ওরাই এগুলো করেছে।” দিলীপের এই মন্তব্যে বিজেপির অন্দরের বিভাজন আবারও প্রকাশ্যে এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার ভাল-মন্দ বিচার তিনি করবেন না। “ওরা ঠিক করেছে না ভুল, সেটা আমি বলব না। ওরা থাকবে না চলে যাবে, সেটাও জানি না।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপিতে সদ্য আসা নেতাদের ভূমিকা নিয়ে দিলীপ এখনও সন্দিহান এবং পুরনো কর্মী-সংস্কৃতির কথাই তিনি বারবার সামনে আনছেন।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না, সে প্রশ্নও ওঠে সাংবাদিক বৈঠকে। উত্তরে দিলীপ ঘোষ পরিষ্কার জানান, দল চাইলে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। ব্যক্তিগত ইচ্ছার চেয়ে দলীয় সিদ্ধান্তই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি। বিজেপির একাংশ মনে করছে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে দিলীপ নিজেকে আবার রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে ফেরানোর ইঙ্গিত দিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কি হারানো জমি ফিরে পাবে, এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ফের একবার লড়াইয়ের কথা স্মরণ করান। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সংগ্রামের উদাহরণ টেনে বলেন, “কতদিনের লড়াইয়ের পর ক্ষমতায় এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? লড়তে হবে। লোক আসবে, যাবে। কিন্তু আন্দোলন থেকে সরলে হবে না।” এই বক্তব্যে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা, দীর্ঘ লড়াইয়ের মানসিকতা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ফেরা সম্ভব নয়।
রাজ্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দিলীপ ঘোষের এই প্রত্যাবর্তন বিজেপির রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে। একদিকে যেমন তিনি নিজেকে এখনও দলের ‘ফিল্ড কমান্ডার’ হিসেবে তুলে ধরলেন, অন্যদিকে দলের অন্দরের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষও ইঙ্গিতে প্রকাশ করলেন। সল্টলেকের কার্যালয় থেকে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য বিজেপির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও ইঙ্গিতবহ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, নতুন বছরের শুরুতেই দিলীপ ঘোষের এই সক্রিয় উপস্থিতি রাজ্য বিজেপির রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, তা এখন সময়ই বলবে। তবে এটুকু স্পষ্ট, তিনি এখনও রাজনীতির লড়াই থেকে সরে দাঁড়াননি এবং দল চাইলে আবারও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Dilip Ghosh Active Politics | ভোটের বছরে বঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ, শাহের বার্তায় ফের সক্রিয় দিলীপ ঘোষ




