Delhi Metro Cable Theft Case | মেট্রোর তার চুরি মানেই জনজীবন বিপন্ন, গিগ কর্মীর জামিন নাকচ করে কড়া বার্তা দিল দিল্লি হাই কোর্ট

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লী : দিল্লী মেট্রোর (Delhi Metro) গুরুত্বপূর্ণ লাইনের ৩২ মিটার তামার তার চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার এক গিগ কর্মীকে জামিন দিতে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করল দিল্লী হাই কোর্ট (Delhi High Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্তের কাজ নিছক দুঃসাহসিক কাণ্ড নয়, তা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করেছে এবং সরকারি কোষাগারে বিপুল ক্ষতি ডেকে এনেছে। এই মামলায় জনস্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে আদালত। এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায় (Justice Saurabh Banerjee) মন্তব্য করেন, অভিযুক্তের কাজকে কোনওভাবেই ‘হালকা দৃষ্টিতে’ দেখা যায় না। আদালতের মতে, ‘এটি কোনও বেপরোয়া কৌতুক নয়। অভিযুক্তের কর্মকাণ্ডে জনসাধারণের জীবন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।’ সেই কারণেই জামিনের আবেদন খারিজ করা হয়েছে।

গত ৩১ জানুয়ারি দেওয়া আদেশে আদালত উল্লেখ করেছে, ‘জামিন দেওয়ার সময় আদালতকে জনকল্যাণ ও ব্যক্তিগত কল্যাণ, এই দুইয়ের ভারসাম্য বিচার করতে হয়। এই মামলায় অভিযুক্ত স্পষ্টভাবে সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে খেলেছেন।’ আদালতের মতে, এই অপরাধের প্রভাব বহুমুখী এবং তা সমাজের বৃহত্তর অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আদালত আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত একজন অভ্যাসগত অপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আদালতের মন্তব্য, ‘অভিযুক্ত কেবল জনজীবনই বিপন্ন করেননি, একইভাবে সরকারি সম্পত্তিরও গুরুতর ক্ষতি করেছেন। এই সব দিক উপেক্ষা করে তাঁকে জামিন দেওয়া যায় না।’ বিচারপতির মতে, আইনগত এবং বাস্তব, উভয় দিক থেকেই এই সব কারণই জামিন নাকচ করার জন্য যথেষ্ট।

আরও পড়ুন : ASHA Workers Movement in West Bengal | স্বাস্থ্যব্যবস্থার নীরব সৈনিকদের বিদ্রোহ, কলকাতা রাজপথে আশাকর্মীদের ক্ষোভ

দিল্লী পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত একজন খাদ্য সরবরাহকারী অ্যাপের ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। ২০২৫ সালের ২৯ ও ৩০ জুনের মধ্যবর্তী রাতে, ভোর ২টা ৫১ মিনিট নাগাদ, ট্র্যাকশন পাওয়ার কন্ট্রোল (Traction Power Control) থেকে মেট্রো লাইনের তার চুরির খবর পাওয়া যায়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পাঞ্জাবি বাগ (Punjabi Bagh) এলাকা থেকে অভিযুক্তকে তামার তারসহ আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ৩২ মিটার তামার তার মেট্রো চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই ধরনের তার চুরি হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেট্রোর মতো গণপরিবহণ ব্যবস্থায় সামান্য বিঘ্নও হাজার হাজার যাত্রীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের পর থেকে অভিযুক্ত ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita) অনুযায়ী চুরির মামলা রুজু হয়েছে। পাশাপাশি, মেট্রো রেলওয়ে (অপারেশন অ্যান্ড মেনটেন্যান্স) আইন, ২০০২ (Metro Railways Operation and Maintenance Act, 2002) অনুযায়ী ট্রেন চলাচলে বাধা সৃষ্টি, ইচ্ছাকৃতভাবে নাশকতা এবং মেট্রো রেল সম্পত্তির ক্ষতি করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

জামিন শুনানির সময় দিল্লী পুলিশ আদালতে জোরালোভাবে আবেদনটির বিরোধিতা করে। পুলিশের তরফে জানানো হয়, অভিযুক্ত একজন পেশাদার অপরাধী এবং তাঁর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অপরাধমূলক পূর্ব ইতিহাস রয়েছে। পুলিশ আরও দাবি করে, এই ধরনের অপরাধে অভিযুক্তকে জামিন দিলে তা সমাজে ভুল বার্তা দেবে এবং গণপরিবহণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে। আইনজ্ঞদের মতে, এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করল। সম্প্রতি দেশের বড় শহরগুলিতে মেট্রো ও অন্যান্য গণপরিবহণ ব্যবস্থায় তার চুরি ও নাশকতার ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে। দিল্লি হাই কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে এই ধরনের মামলায় কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গিগ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত বহু কর্মী আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। তবে সেই বাস্তবতা কোনওভাবেই গুরুতর অপরাধের সাফাই হতে পারে না। আদালতের ভাষায়, জনজীবনের নিরাপত্তা এবং সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা, এই দুই বিষয়ই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তবে, দিল্লী মেট্রোর তামার তার চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত গিগ কর্মীর জামিন নাকচ করে দিল্লী হাই কোর্ট বার্তা দিল, গণপরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে ছিনিমিনি খেললে তার পরিণতি কঠোর হবে। জনস্বার্থে আপসের কোনও জায়গা নেই, এই নীতিতেই অটল থাকল আদালত।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kajal Chaudhary murder case, Delhi Police SWAT commando killed | ডাম্বল দিয়ে পিটিয়ে দিল্লি পুলিশের সোয়াট কমান্ডোকে খুন, স্বামীর ফোনে শিউরে উঠছে দেশ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন