সাশ্রয় নিউজ ★ দার্জিলিং : ভরা বসন্তে আচমকাই নেমে এল শীতের ছোঁয়া। মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই দার্জিলিংয়ের সান্দাকফু সাদা বরফের চাদরে ঢেকে যায়। নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এই উচ্চতম অঞ্চলেই শুধু নয়, মানেভঞ্জন ও ফালুট এলাকাতেও দেখা যায় তুষারের আস্তরণ। পর্যটকদের উচ্ছ্বাসে মুখর পাহাড়ি জনপদ। এদিকে উত্তর ও পূর্ব সিকিমে ভারী তুষারপাত অব্যাহত থাকায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। নাথু-লা ও ছাঙ্গু উপত্যকা ভ্রমণের পাস সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬৩৬ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত Sandakphu সারা বছরই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র। মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ সেখানে হঠাৎই তুষারপাত শুরু হয়। নিমেষে গাছের পাতা, ঘাস, কাঁচা-পাকা রাস্তা ঢেকে যায় সাদা বরফে। মানেভঞ্জন ও ফালুটেও একই দৃশ্য। তবে দার্জিলিং শহরে কেবল বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে, বরফ পড়েনি। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছিল India Meteorological Department-এর সিকিম কেন্দ্র। অধিকর্তা Gopinath Raha আগেই জানিয়েছিলেন, দার্জিলিং ও সিকিমের উঁচু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি-সহ তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। সোমবার বিকেল থেকেই পাহাড়ে আবহাওয়ার আমূল বদল ঘটে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় বৃষ্টি, সঙ্গে শিলাবৃষ্টি। দ্রুত নেমে যায় তাপমাত্রা। দুপুরের পর শিলাবৃষ্টির রেশ কাটতেই সান্দাকফু-মানেভঞ্জনে তুষারপাত শুরু হয়।
ফেব্রুয়ারির শেষলগ্নে এমন তুষারপাত এ বছর এই প্রথম। স্থানীয়দের কথায়, ‘এত দ্রুত তাপমাত্রা নামবে ভাবিনি। দুপুরের মধ্যেই পুরো এলাকা সাদা হয়ে গেল।’ তুষারপাতের সম্ভাবনার খবর ছড়াতেই সকাল থেকে বহু পর্যটক সান্দাকফুর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বরফ পড়তে শুরু করতেই আনন্দে মেতে ওঠেন তাঁরা। এক পর্যটকের কথায়, ‘ফেব্রুয়ারির শেষে এমন বরফ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। ছবি তুলতে তুলতে সময় কোথায় কেটে গেল বুঝতেই পারিনি।’ তবে টুংলু, তুংলিং-সহ তুলনায় নিচু এলাকাতেও হালকা তুষারপাতের দেখা মিলেছে। পাহাড়ি পথের ধারে জমে ওঠা বরফে তৈরি হয়েছে মনোরম দৃশ্য। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, আকস্মিক তুষারপাতের খবর ছড়াতেই বুকিংয়ের খোঁজখবর বাড়ছে।
অন্যদিকে, উত্তর ও পূর্ব সিকিমেও পরিস্থিতি কম নাটকীয় নয়। উত্তর সিকিমের লাচুং, লাচেন, জিরো পয়েন্ট ও গুরুদংমার হ্রদ এলাকায় ভারী তুষারপাত হয়েছে। পূর্ব সিকিমের Nathu La এবং Tsomgo Lake (ছাঙ্গু হ্রদ) সংলগ্ন অঞ্চলেও বরফে ঢেকেছে রাস্তা ও পাহাড়ের ঢাল। চিন সীমান্তের দিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে একাধিক জায়গায়। নিরাপত্তার স্বার্থে সিকিম প্রশাসন নাথু-লা ও ছাঙ্গু উপত্যকা ভ্রমণের পাস ইস্যু বন্ধ রেখেছে। যান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। রবিবার ছাঙ্গু উপত্যকায় ভারী তুষারপাতের জেরে শতাধিক পর্যটকবাহী গাড়ি আটকে পড়েছিল। গভীর রাত পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালিয়ে ৪৬ জন পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে আনে সেনাবাহিনী। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এ বার আগাম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সিকিমের উঁচু এলাকায় আরও তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাহাড়ে ভ্রমণকারীদের সাবধান থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র, খাবার ও জ্বালানি সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
দার্জিলিং শহরে যদিও বরফ পড়েনি, তবু শিলাবৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ভিজে যায়। তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় শীতের আমেজ ফিরে আসে। চা-বাগানের ঢালে কুয়াশা আর ঠান্ডা হাওয়ায় পাহাড়ি আবহ নতুন রূপ নেয়। অনেকেই বলছেন, ‘বসন্তের মধ্যে শীতের এই ফিরে আসা পাহাড়কে অন্য রকম সৌন্দর্য দিয়েছে।’ পর্যটন দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, তুষারপাত যেমন আকর্ষণ বাড়ায়, তেমনই ঝুঁকিও তৈরি করে। তাই আবহাওয়ার আপডেট দেখে ভ্রমণ পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় গাড়িচালকেরাও পাহাড়ি রাস্তায় সাবধানে চলাচলের কথা বলছেন। দার্জিলিংয়ের সান্দাকফুতে এদিনের তুষারপাত বহুদিন মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল পর্যটকদের কাছে। বরফের আস্তরণে মোড়া পাহাড়, শীতল হাওয়া আর মেঘের খেলা, যেন এক অন্য আবহ। একই সঙ্গে সিকিমে ভারী তুষারপাতের কারণে প্রশাসনের সতর্কতা পাহাড়ি অঞ্চলের ভ্রমণ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে এমন আবহাওয়া পরিবর্তন পাহাড়প্রেমীদের জন্য উপহার হলেও, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তা চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। আপাতত আবহাওয়ার দিকে নজর রেখেই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে প্রশাসন। আর সান্দাকফু-মানেভঞ্জনের সাদা চাদর ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi | বিধানসভা ভোটের আগে ‘আমার প্রিয় পশ্চিমবঙ্গবাসী’ খোলা চিঠিতে তোপ নরেন্দ্র মোদীর, ভুয়ো ভোটার-তোষণ-সিএএ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর




