সাশ্রয় নিউজ ★ দার্জিলিং : দার্জিলিং ও তার আশেপাশের এলাকায় গতকাল রাত থেকে শুরু হওয়া অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটেছে। কালিম্পং জেলার ২৯ মাইল, কালীঝোড়া, শ্বেতীঝোড়া, সেলফিদারা, বিরিকদারা, এবং অন্যান্য এলাকা ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। সেবক থেকে সিকিমের রংপো পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার কারণে যাত্রীদের জন্য চলাচল অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি অনেক জায়গায় যানজটের কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বাড়ছে।এদিকে উত্তরের সমতল অঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টির কারণে মহানন্দা, তিস্তা ও জলঢাকা নদীর জলস্তর ক্রমাগত বাড়ছে, ফলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বন্যার। এই পরিস্থিতিতে সেচ দপ্তর তিস্তা এবং জলঢাকা নদীর অসংরক্ষিত অঞ্চলে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। নদীগুলোর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক নিম্নাঞ্চল জলে তলিয়ে গেছে এবং সেখানে জলবন্দি হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গজলডোবা, সরস্বতীপুর, আলিপুরদুয়ার ও কুমারগ্রামে অতিরিক্ত ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষত, কুমারগ্রামে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ২৭৭ মিলিমিটার, যা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি। গজলডোবা, আলিপুরদুয়ার, ও সরস্বতীপুরে যথাক্রমে ২৪৭, ২২৭ এবং ২০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি, সেবক, চম্পাসারি, ওদলাবাড়ি, এবং বারোবিসায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যথাক্রমে ১৪৬, ১৯৬, ১১৭, ১৬৩ এবং ১৫৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। শিলিগুড়ি শহরে বৃষ্টিপাতের ফলে শহরের বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সেবক, চম্পাসারি, ওদলাবাড়ি, ও বারোবিসার মতো এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেবকে ১৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পর শহরের প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা গেছে, যা যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়াও, শিলিগুড়ি এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ভূমিধসের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী এবং পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর পুনরুদ্ধার ও মেরামতের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য প্রশাসন তৎপরতা শুরু করেছে। তবে, ভোরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের কাজ আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এএমতাবস্থায়, স্থানীয় প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও সাহায্য প্রদানের জন্য বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। তিস্তা ও জলঢাকা নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষদের নদীর কাছাকাছি যাতায়াত না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। দার্জিলিং জেলার অধিকাংশ স্থানেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা একে একে অন্যান্য পরিষেবাও ব্যাহত করেছে। এবারের বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের ঘটনা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।প্রাথমিকভাবে, বিপর্যয়ের কারণে বিশেষ করে রাস্তা, সেতু এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে, প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য প্রাথমিক সহায়তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এছাড়া, জেলার অন্যান্য স্থানগুলোর অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজও দ্রুত শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনগণের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং সব ধরনের সাহায্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
ছবি :
আরও পড়ুন :



