পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ★ হেডিংলে : শুভমন গিল (Shubman Gill) মঙ্গলবার রাতটা নিশ্চয়ই ভুলতে চাইবেন। অধিনায়ক হিসেবে নিজের অভিষেক টেস্টেই দলের এমন বেহাল দশা হবে স্বপ্নেও হয়ত তিনি ভাবেননি। ম্যাচের পঞ্চম দিন ৩৭১ রানের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে যখন ইংল্যান্ড ব্যাট করতে নামে, তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, এই উইকেটে, এই আবহাওয়ায় ম্যাচ বাঁচানোই তাঁদের কাছে বড় সাফল্য হবে। কিন্তু বাস্তবে হল উল্টোটাই। ইংল্যান্ড নামল হিসেব কষে, খেলল পরিকল্পনা মাফিক, আর ভারত? বল হাতে ছন্নছাড়া, ফিল্ডিংয়ে আরও খারাপ, আর ফলস্বরূপ প্রথম টেস্টেই ৫ উইকেটের হার। হেডিংলেতে এই হার শুধু সিরিজে পিছিয়ে যাওয়াই নয়, আরও বড় আশঙ্কার বার্তাও বয়ে নিয়ে আস!
হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) কথাতেই ভরসা ছিল, তিনি তো বলেছিলেন, “এই ভারতীয় দলই এখন পর্যন্ত আমাদের সেরা টেস্ট স্কোয়াড।” যদি এটাকেই সেরা ধরা হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য, সাধারণ দল কোনটা? শুভমন, যশস্বী (Yashasvi Jaiswal), রাহুল (KL Rahul), পন্থ (Rishabh Pant), এই চার ব্যাটারই রানে। চারজনই করেছেন শতরান। কিন্তু বাকি সাতজন যেন ব্যাটিং করতে ভুলে গিয়েছেন। লোয়ার অর্ডারের এমন ভেঙে পড়া সাম্প্রতিক কালে বিরল। দুই ইনিংসেই শেষ ৬-৭ উইকেট পড়েছে তুচ্ছ রানেই। প্রথম ইনিংসে শেষ সাত উইকেট পড়েছে ৪১ রানে, দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ ছয় উইকেট মাত্র ৩১ রানে। এই ব্যর্থতা ঢেকে দিয়েছে চারটি সেঞ্চুরির আলোও। এখানে উল্লেখ করতেই হয়, বল হাতে যে আরও খারাপ অবস্থা তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। ফিরে আসা জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah) একমাত্র ধারাবাহিক পারফরমার। কিন্তু একটা ম্যাচ তিনি একাই কি টানবেন? প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ (Prasidh Krishna) দুই ইনিংসে ৫ উইকেট পেলেও ওভারপ্রতি ৬.৫ রান দেওয়া টেস্ট ম্যাচে গোনার মত নয়। মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj) মাঝে মাঝে ঝলক দেখিয়েছেন, তবে সেভাবে লাইন-লেংথ ধরে রাখতে পারেননি। আর শার্দূল ঠাকুর (Shardul Thakur)? প্রথম ইনিংসে ৬ ওভার বল করেই হাওয়ায় উড়ে গিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দু’টো উইকেট এলেও তা ভাগ্যের জোরেই।
এই হারের একটা বড় কারণ অবশ্যই জঘন্য ফিল্ডিং। গোটা ম্যাচে ভারত ছেড়েছে সাতটি ক্যাচ! এইরকম ক্যাচ ফেলা কোনও আন্তর্জাতিক স্তরের দলের পক্ষে কাম্য নয়। শুভমন নিজেও স্বীকার করেছেন, “আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। একটা টেস্ট জিততে গেলে এমন ফিল্ডিং দিয়ে হবে না।” ইংল্যান্ড কিন্তু একেবারে পরিকল্পনা করে নেমেছিল। বেন স্টোকস (Ben Stokes) অধিনায়ক হিসেবে ঝুঁকি না নিয়ে ‘স্মার্ট ক্রিকেট’-এর নমুনা দেখালেন। এই দলে ছিলেন না তাঁদের চার প্রধান পেসার, মার্ক উড (Mark Wood), জফ্রা আর্চার (Jofra Archer), ওলি স্টোন (Olly Stone), গাস অ্যাটকিনসন (Gus Atkinson)। এমনকী ক্রিস ওকস (Chris Woakes) তিন বছর পর ফিরেছেন। সঙ্গে ব্রাইডন কার্স (Brydon Carse) ও জশ টং (Josh Tongue) ছিলেন যথেষ্ট অনভিজ্ঞ। তবুও ভারতের ব্যাটারদের একাংশ ছিলেন সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত। বিশেষ করে সাই সুদর্শন (Sai Sudharsan) দুই ইনিংসেই স্টোকসের ‘লোভ দেখানো’ ডেলিভারিতে আউট হয়েছেন। করুণ নায়ার (Karun Nair) আট বছর পর দলে ফিরে স্বাভাবিক ছন্দে নেই, সেটা বোঝাই যাচ্ছে।ভারতের স্পিনাররা বরাবরই ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে সমস্যায় পড়েন। রবীন্দ্র জাডেজা (Ravindra Jadeja) যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বুমরাহর পাশাপাশি শুধু জাডেজা থাকলে যে কোনও কাজ এগোয় না, সেটা আরও একবার স্পষ্ট। “ভারতের বোলিং এখন ‘দেড় খানা’ অস্ত্রের উপর নির্ভরশীল,” বললেন এক প্রাক্তন ক্রিকেটার। এই হার শুধুমাত্র এক টেস্ট ম্যাচে হার নয়। এটা একযোগে ব্যাটিং ব্যর্থতা, বল হাতে অনুপ্রেরণার অভাব, আর ফিল্ডিংয়ে অপেশাদারিত্বের প্রতিফলন। এখনও সিরিজে চারটি টেস্ট বাকি। সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। কিন্তু এই ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি হলে সিরিজে ভারতের শূন্যে শেষ করাটাই হয়ে দাঁড়াবে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত আশঙ্কা। শুভমন ও গম্ভীরের জন্য তাই হেডিংলে টেস্ট কেবল হার নয়, এক সতর্কবার্তাও।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Hampi Travelog | মাতাঙ্গ পাহাড়ের চূড়ায় নিঃশব্দ বিস্ময়, সূর্যাস্তের আলোয় হাম্পি




