সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, ২৭ অক্টোবর: বঙ্গোপসাগরের বুকে ফের তৈরি হয়েছে এক নতুন বিপদ ‘মন্থা’ (Cyclone Montha)। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ক্রমে শক্তি সঞ্চয় করে পরিণত হয়েছে এক তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে “অতিশয় তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে” রূপ নিতে পারে। এর ফলে উপকূলবর্তী রাজ্যগুলিতে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও বিপর্যয়ের আশঙ্কা জেগেছে।
ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য অংশে মোন্থা দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ এখনও সম্পূর্ণ পরিষ্কার না হলেও, আবহাওয়া দফতরের মতে এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আসতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ওড়িশা (Odisha), আন্ধ্রপ্রদেশ (Andhra Pradesh), পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) এবং বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, মঙ্গলবার সকাল নাগাদ মন্থা অতিশয় তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে ঘন্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। এর ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎ বিপর্যয়, ফসলের ক্ষতি ও বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রবল। পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas), গঞ্জাম (Ganjam), গোপালপুর (Gopalpur) এবং বিশাখাপত্তনম (Visakhapatnam) -সহ উপকূলের একাধিক জেলায় ইতিমধ্যেই প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের (IMD) এক কর্মকর্তা বলেন, “মন্থা এখন গভীর নিম্নচাপ থেকে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর গতিপথ নির্ধারণ করবে প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে।”
সরকারি প্রস্তুতি ও ত্রাণ ব্যবস্থা :
রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে (SDRF) প্রস্তুত রেখেছে। উপকূলবর্তী এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে নিম্নভূমি থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রশাসনিক ভবনে কন্ট্রোল রুম খোলার পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় রেসকিউ টিম সক্রিয় রেখেছে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে মৎস্যজীবীদের ৪৮ ঘণ্টার জন্য সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সমুদ্রের ঢেউ ইতিমধ্যেই ৩-৪ মিটার পর্যন্ত উঁচু হচ্ছে বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে। কলকাতায় বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও শহরে বড় ধরনের ঝড়ের আশঙ্কা নেই, তবে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের উপকূলবর্তী জেলা যেমন সাতক্ষীরা (Satkhira), খুলনা (Khulna) ও ভোলা (Bhola)-তেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও জনগণের সতর্কতা :
আবহাওয়া দপ্তরের মতে, যদি মন্থা আরও শক্তি অর্জন করে স্থলভাগে প্রবেশ করে, তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া, ফসলের মাঠে জল জমে নষ্ট হওয়া এবং কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলের মানুষদের বাড়ির ছাদ মজবুত করে রাখা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শুকনো খাবার মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, “এটি মৌসুমের প্রথম বড় ঘূর্ণিঝড় হতে পারে যা দক্ষিণ বঙ্গের আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। তবে গতিপথ এখনও পরিবর্তনশীল, তাই আগামী ১২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
পরিস্থিতির দিকে নজর প্রশাসনের:
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর, রাজ্য প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এক বৈঠকে বলেছেন, “মানুষের নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার। প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।” উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই নবান্নে (Nabanna) কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনকে জরুরি অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথের ওপর নির্ভর করবে প্রভাবের তীব্রতা।
ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’ নিয়ে এখন গোটা উপকূলবাসী উদ্বিগ্ন। বঙ্গোপসাগরের আকাশে ঘন কালো মেঘের পাশাপাশি সমুদ্রের ঢেউ ক্রমশ ফুলে উঠছে। আবহাওয়া দফতর সতর্ক করছে, এই ঘূর্ণিঝড়কে হালকা ভাবে না নিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপে সচেতন থাকতে হবে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’। IMD জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় এটি অতিশয় তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। উপকূল জুড়ে সতর্কতা জারি, প্রশাসন প্রস্তুত।
ছবি : প্রতীকী



