সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কোচবিহার : নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনায় ফেটে পড়েছে কোচবিহারের (Cooch Behar) মেখলিগঞ্জ (Mekliganj) এলাকার একটি গ্রাম। ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের উপর ঢিল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। সেই হামলায় জখম হন মেখলিগঞ্জ থানার ওসি (Officer-in-Charge)। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় এলাকায় ১২ ঘণ্টার বন্ধ ডাকা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের অভিযোগে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে উল্লেখ। পাশাপাশি পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন আরও আট জন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মেখলিগঞ্জ এলাকার একটি গ্রামে বাড়ির কাছেই নদীর ধারে গিয়েছিল ১১ বছরের একজন নাবালিকা। অভিযোগ, সেই সময় একজন বৃদ্ধ ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখায় এবং ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার সময়ে আচমকাই সেখানে উপস্থিত হন একজন স্থানীয় মহিলা। তাঁর চিৎকারে আশপাশের মানুষজন ছুটে আসেন। অভিযুক্ত পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ওই মহিলা দ্রুত নাবালিকাকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেন।পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরে অভিযুক্ত নানাভাবে ভয় দেখাতে শুরু করে। তবু সাহস করে তারা মেখলিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও প্রথম দিকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে ক্ষোভ বাড়তে থাকে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ‘এত গুরুতর অভিযোগের পরেও পুলিশ তৎপরতা দেখায়নি। তাই আমাদের রাস্তায় নামতে হয়েছে।’
শনিবার রাত থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাজার এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। অভিযুক্তের অবিলম্বে গ্রেফতার ও কঠোরতম শাস্তির দাবিতে স্লোগান ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তখনই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় পুলিশের দিকে ইট-পাথর ছোড়া হয়। সেই হামলায় মেখলিগঞ্জ থানার ওসি গুরুতর জখম হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ হালকা লাঠিচার্জ করে। এতে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।এই ঘটনার পরেই রবিবার ১২ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দেয় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। সকাল থেকে দোকানপাট বন্ধ থাকে। যান চলাচলও কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। মাথাভাঙা (Mathabhanga) মহকুমার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় মুখোপাধ্যায় (Tanmay Mukhopadhyay) -এর নেতৃত্বে পুলিশ টহল শুরু করে। গ্রাম জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি। আতঙ্কে বহু মানুষ বাড়ির বাইরে বেরতে চাইছেন না বলে উল্লেখ।
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাতেই ধর্ষণের অভিযোগে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পকসো আইন (POCSO Act) সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের উপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আরও আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের আদালতে তোলা হবে। এই প্রসঙ্গে মাথাভাঙার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা নাবালিকার পরিবারের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পকসো আইনে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের উপর হামলা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে এবং কোনও দোষীকেই রেয়াত করা হবে না।
অন্য দিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নাবালিকার উপর এই ধরনের নৃশংস ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ জমেছিল। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা চাই দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। নাবালিকার নিরাপত্তা নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগে রয়েছি। পুলিশের গাফিলতি থাকলে তারও তদন্ত হওয়া দরকার।’ যদিও পুলিশের তরফে গাফিলতির অভিযোগ মানা হয়নি। ঘটনার পরে নাবালিকার শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং তাকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। শিশু কল্যাণ কমিটিকেও (Child Welfare Committee) বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে পরিবারকে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় ফের একবার নাবালিকাদের নিরাপত্তা, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশ্ন উঠে এসেছে। কোচবিহারের এই ঘটনায় রাজ্য জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্ত কোন দিকে গড়ায় এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তি হয়, সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে এলাকা-সহ গোটা জেলা।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Bihar Gang Rape, Purnia Crime News | অভিযুক্তের মোবাইলেই আর্তনাদ, বিহারে নর্তকী গণধর্ষণ কাণ্ডে শিউরে উঠল পুর্ণিয়া




