সাশ্রয় নিউজ ★ নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা : কলেজে স্নাতক স্তরে ভর্তির প্রক্রিয়ায় এ বছর নতুন মোড় নিল রাজ্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর মাধ্যমে শুরু হল রাজ্যের সব সরকারি ও সরকার পোষিত কলেজে অনলাইন ভর্তির কাজ। সূত্রের খবর যে, বুধবার সকাল থেকেই চালু হওয়া এই নতুন ব্যবস্থায় প্রথম দিনেই আবেদন জমা পড়ে প্রায় ২৮ হাজারের বেশি। প্রযুক্তির হাত ধরে কলেজে ভর্তি এবার সহজ ও দ্রুততর করার প্রয়াসে চালু হয়েছে ‘বীণা’ (Beena) নামে এআই চ্যাট বট। উদ্বোধনের দিনেই এই চ্যাটবট ব্যবহার করে ভর্তি সংক্রান্ত জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজেছেন ও আবেদন করেছেন অন্তত প্রায় ৩৩৮২ জন পড়ুয়া বলে বিশেষ সূত্রে খবর। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) বুধবার সন্ধ্যায় এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ লেখেন, “আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সেন্ট্রালাইজড অনলাইন পোর্টালে ২৮,৪৪৩ জন ছাত্রছাত্রী নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁরা মোট ৭১,৯৪৯টি আবেদন করেছেন বিভিন্ন কলেজে।” সেই সঙ্গে তিনি জানান, “রেজিস্ট্রেশন করা পড়ুয়াদের মধ্যে ২৫১ জন ভিন্ রাজ্যের। এও প্রমাণ করে, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি বাইরের রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ বাড়ছে।”

প্রথম দিন কোন বিষয় সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে? সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ইংরেজি বিষয়ের জন্য সর্বাধিক সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জীববিদ্যা। তার পরে রয়েছে ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, বাণিজ্য এবং কম্পিউটার সায়েন্সের মতো বিষয়গুলি। রাজ্যের কলেজগুলির মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের শহরাঞ্চল ও কিছু পুরনো খ্যাতনামা কলেজে চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেশি বলে মনে করছেন শিক্ষা দফতরের কর্তারা। এই বছরের কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়ায় অন্যতম আকর্ষণ ‘বীণা’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বানানো এই চ্যাটবট ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম। পোর্টালে প্রবেশ করেই ‘বীণা’র সঙ্গে সরাসরি চ্যাট করে জানা যাচ্ছে আবেদন প্রক্রিয়া, সময়সীমা, পছন্দের কলেজের আসনসংখ্যা কিংবা কোন বিষয়ের জন্য কতটি আসন খালি রয়েছে, এমন নানা তথ্য। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, “ছাত্রছাত্রীরা যাতে কাউকে জিজ্ঞাসা না করে নিজেরাই সহজে তথ্য পায়, সেই লক্ষ্যেই ‘বীণা’র সূচনা। এর মাধ্যমে আমরা শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ করতে চাইছি।”
এই অভিন্ন ভর্তির পোর্টাল চালু থাকবে ২০ জুলাই পর্যন্ত। তার মধ্যেই অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। এরপর পড়ুয়াদের সংশ্লিষ্ট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করাতে হবে ২৪ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে। পছন্দমতো কলেজে সুযোগ না পেলে দ্বিতীয় দফায় আবেদন করার সুযোগ থাকবে ২ আগস্ট থেকে। তবে তাতে আসন খালি আছে কি না তা নির্ভর করবে। এই দ্বিতীয় দফার আবেদনের সময়সীমা ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বলেও জানিয়েছে শিক্ষা দফতর।

শিক্ষামহলে একাংশের মতে, এই পদ্ধতিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা ও প্রশ্ন এখনও থেকেই যায়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের পড়ুয়াদের কাছে এখনও পর্যন্ত উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং স্মার্ট ডিভাইস সহজলভ্য না হওয়ায় অনলাইন পদ্ধতিতে অসুবিধার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও দফতরের দাবি, প্রত্যেক ব্লকে হেল্প ডেস্ক ও কলেজে ভর্তির জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখান থেকে দরকার হলে সাহায্য নিতে পারবে পড়ুয়ারা। আবার একদিকে যেমন প্রযুক্তি নির্ভর এই ব্যবস্থা পড়ুয়াদের সুবিধা দিচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর প্রশাসনিক চাপও বাড়াচ্ছে। পোর্টালে প্রতিনিয়ত তথ্য আপডেট রাখা, আবেদন যাচাই করা, ও ‘বীণা’কে আপডেট করা সবটাই চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। এই নিয়ে একজন কলেজের অধ্যক্ষ জানান, “ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে একসঙ্গে এত সংখ্যক আবেদন এলে প্রাথমিক পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ থাকে, সেটাও অস্বীকার করা যায় না।”তবে সব মিলিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এই এআই (AI) সহায়তা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন অধিকাংশ শিক্ষা প্রশাসক। প্রথম দিনেই যে ভাবে সাড়া মিলেছে, তাতে এই ব্যবস্থা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। ক্লাস শুরু হবে আগামী ১ অগস্ট থেকে।শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, “যত বেশি স্বচ্ছতা, প্রযুক্তিনির্ভরতা ও সুযোগ তৈরি করা যাবে, ততই ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে। ‘বীণা’ সেই লক্ষ্যে আমাদের বড় পদক্ষেপ।”
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : CM Mamata Banerjee : ‘বাংলা দিবস’ ঘোষণায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন




