সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতে বহু প্রতীক্ষিত জনগণনা প্রক্রিয়া নতুন রূপে শুরু হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ‘জনগণনা ২০২৭’ দুই ধাপে পরিচালিত হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই জনগণনা শুধু জনসংখ্যার হিসাবই নয়, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের একটি বড় প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, জনগণনার প্রথম ধাপ হবে ‘হাউসলিস্টিং ও হাউজিং সেনসাস’। এই পর্যায়ে দেশের প্রতিটি বাড়ির অবস্থা, পরিবার সম্পর্কে মৌলিক তথ্য, বাড়ির সুবিধা ও সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে হবে ‘পপুলেশন এনুমারেশন’, যেখানে প্রতিটি ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য নথিভুক্ত করা হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে ভারত সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of Home Affairs)। এই বিষয়ে রাজ্যসভায় একটি লিখিত উত্তরে তথ্য দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই (Nityanand Rai)। তিনি জানান, ‘জনগণনা ২০২৭-এর প্রথম ধাপে বাড়ি ও পরিবারের মৌলিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে বাড়ির অবস্থা, পরিবার প্রধানের নাম, পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা এবং বাড়িতে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, এই সব তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
সূত্রের খবর, এই পর্যায়ে পরিবারের প্রধানের লিঙ্গ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এখানে তিনটি আলাদা শ্রেণি রাখা হয়েছে, পুরুষ, মহিলা এবং ট্রান্সজেন্ডার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের লিঙ্গ বৈচিত্র্যের স্বীকৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জনগণনা পরিচালনার জন্য দেশের প্রতিটি এলাকায় গণনাকারী বা এনুমারেটররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এতে কোনও ব্যক্তি বা পরিবার যেন বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘প্রতিটি গণনাকারী তাদের নির্দিষ্ট এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন, যাতে কোনও নাগরিক বাদ না পড়ে।’ এবার জনগণনার ক্ষেত্রে একটি নতুন সুবিধাও রাখা হয়েছে, স্ব-গণনা বা ‘সেলফ এনুমারেশন’। এর মাধ্যমে নাগরিকরা চাইলে নিজেই অনলাইনে নিজেদের তথ্য জমা দিতে পারবেন। এই পদ্ধতি চালু করার ফলে তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও নাগরিকরা নিজেরাই তথ্য জমা দিতে পারবেন, তবুও চূড়ান্তভাবে তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব থাকবে গণনাকারীদের উপর। তারা অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করবেন যে সব তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে। সরকারি সূত্রে আরও উল্লেখ, অনলাইন সেলফ এনুমারেশন পোর্টালে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় সাহায্যের জন্য ‘FAQ’, ‘টুল টিপস’ এবং স্বয়ংক্রিয় যাচাই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে তথ্য দেওয়ার সময় ভুলের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। অন্যদিকে, জনগণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গণনাকারী এবং তদারকি কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়াও তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যাপের মধ্যে বিভিন্ন যাচাই নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে, যাতে তথ্য প্রবেশের সময় ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘মোবাইল অ্যাপের মধ্যে ডাটা ভ্যালিডেশন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে, যাতে তথ্যের সঠিকতা বজায় থাকে এবং ভুল তথ্য প্রবেশের সম্ভাবনা কমে যায়।’ তথ্য সংগ্রহের পরে সেই তথ্য তদারকি কর্মকর্তারা পরীক্ষা করবেন। এর ফলে জনগণনার তথ্যের নির্ভুল কি না তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্য সুরক্ষা একটি বড় বিষয়। তাই জনগণনা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রেরণের ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, ‘মোবাইলের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, ডাটা ট্রান্সমিশন এবং সার্ভার স্তরে তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জনগণনার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করে তুলবে। পাশাপাশি তথ্য বিশ্লেষণও সহজ হবে, যা ভবিষ্যতে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারতে জনগণনা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও পরিসংখ্যানগত প্রক্রিয়া। জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র জানা ছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচী পরিকল্পনা করার জন্য এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘জনগণনা দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি করে। তাই এই প্রক্রিয়ার সঠিকতা ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ ২০২৭ সালের জনগণনা সেই দিক থেকে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের আধুনিক পদ্ধতি এবং নাগরিকদের স্ব-গণনার সুযোগ এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Sundarbans Tiger Census 2025 | সুন্দরবনের গহিনে ব্যাঘ্রগণনা শুরু: রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নজরবন্দী করতে বসানো হবে ১৪০০ -এর বেশি ক্যামেরা




