সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : আন্তর্জাতিক কূটনীতির অঙ্গনে আবারও নজর কেড়েছে ভারত। ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লিতে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন তিনি। এ বছর ব্রিকস গোষ্ঠীর চেয়ার হিসেবে ভারতই এই বার্ষিক বৈঠকের আয়োজক, ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের গুরুত্ব আরও এক ধাপ এগোচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। পুতিনের এই সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। গত বছরের ডিসেম্বর মাসেই ভারত সফরে এসেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তখন ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এক বছরের মধ্যেই আবার তাঁর দিল্লি সফর ঘিরে জল্পনা বাড়ছে, বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে। ইউরোপ ও এশিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
চলতি বছরের মে মাসের শুরুতেই দিল্লিতে হয়েছিল ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সেরগেই লাভরভ (Sergey Lavrov)। ওই বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছিলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এ বছর রাশিয়া সফরে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।’ তাঁর কথায়, ‘এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।’ ফলে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। ব্রিকস গোষ্ঠী বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী বহুপাক্ষিক জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রথমে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে এই গোষ্ঠী গঠিত হলেও, পরবর্তী সময়ে এর পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে এতে যুক্ত হয় মিশর, ইথিয়োপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ২০২৫ সালে নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দেয় ইন্দোনেশিয়া। ফলে এই জোটের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব এখন অনেকটাই বিস্তৃত।
পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ মানুষ ব্রিকসভুক্ত দেশগুলিতে বসবাস করেন। বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশ জিডিপি এই দেশগুলির হাতে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশ লেনদেনও এই গোষ্ঠীর দেশগুলির মধ্যে সম্পন্ন হয়। ফলে এই সম্মেলন যে কেবল আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। দিল্লিতে আয়োজিত এই সম্মেলনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, এবং বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি, পশ্চিমা শক্তির প্রভাবের বাইরে গিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার কৌশল নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুতিনের এই সফর ভারতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া-ভারত সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। জ্বালানি আমদানি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব, দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ গভীর হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতে ব্রিকস সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে। অন্য দিকে, ভারতের জন্য এটি একটি বড় কূটনৈতিক সুযোগ। বিশ্বের একাধিক শক্তিধর দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের একত্রে নিয়ে এসে আলোচনা পরিচালনা করা সহজ কাজ নয়। তবুও ভারত যে এই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে প্রস্তুত, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে বিভিন্ন প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে। দিল্লিতে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
বিশ্ব রাজনীতিতে যখন নতুন নতুন জোট ও সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তখন ব্রিকস গোষ্ঠীর গুরুত্ব আরও বেড়ে চলেছে। এই সম্মেলন সেই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। বিশেষ করে, উন্নয়নশীল দেশগুলির কণ্ঠস্বরকে আরও জোরাল করার ক্ষেত্রে এই মঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পুতিনের সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তা থেকে বোঝা যায় এই সম্মেলনের গুরুত্ব কতটা। এখন নজর থাকবে সেপ্টেম্বরের ওই দুই দিনের উপর, যখন দিল্লিতে বসবে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোটের বৈঠক।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM SHRI West Bengal, Bengal School Scheme | পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে পিএম শ্রী প্রকল্প! কেন্দ্রের বড় সিদ্ধান্ত




