সূর্য মিত্র, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: উৎসবের শেষ দিনে আকাশে যেমন মেঘের সুর, তেমনই মানুষের হৃদয়ে জমেছে বিষাদের সঞ্চার। দুর্গাপুজোর (Durga Puja) সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা (Kolkata) জুড়ে নেমে এসেছে এক অদ্ভুত শূন্যতা। বিজয়া দশমীর (Bijoya Dashami) সন্ধ্যায় শহরের ঘাটে ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্য যেন ছুঁয়ে গেল প্রত্যেক বাঙালির আবেগকে। কেউ চোখের জল গোপন করতে পারলেন না, কেউ আবার বিশ্বাসে ভরসা রাখলেন যে, বিদায় মানেই নতুন আগমনের সূচনা।
দশমীতেই শুরু হয় প্যান্ডেলগুলিতে সিঁদুর খেলা। লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে একের পর এক মহিলা ভিড় জমান মণ্ডপে। সিঁদুরে রাঙিয়ে দেন মায়ের মুখ, পাশাপাশি মেখে দেন একে অপরকে। যেমন রাজডাঙা নব উদয় সঙ্ঘ (Rajdanga Naba Uday Sangha) পুজোর ক্ষেত্রেও দেখা গেল একই চিত্র। প্রতিমা বিসর্জনের আগে সেখানকার মহিলারা ঢাকের তালে তালে অংশ নিলেন সিঁদুর খেলায়। উৎসবের আবেশ যেন মায়ের বিদায়ের বেদনা ভুলিয়ে দিতে চাইছে। একই দৃশ্য চোখে পড়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল (Ballygunge Cultural) প্যান্ডেলেও। সন্ধ্যায় ভিড় জমিয়েছিলেন পাড়ার মেয়ে-বউরা। সিঁদুর খেলা শেষে শুরু হয় দেবীর বরণ। আবেগে ভাসতে ভাসতে এক দর্শনার্থী বললেন, “দশমীর দিন খুব মন খারাপ হয়, কিন্তু শেষ মানেই তো নতুন শুরুর প্রতিশ্রুতি। আগামী বছর মা আবার ফিরবেন, এই বিশ্বাসই আমাদের টিকিয়ে রাখে।”
শহরের অন্য প্রান্তে, কদমতলা ঘাট (KadamTala Ghat) ও অন্যান্য বিসর্জন ঘাটে চলল ভিন্ন চিত্র। বনেদী বাড়ির ঠাকুর থেকে শুরু করে বড় ক্লাবের প্রতিমা, সবই একে একে নিমজ্জিত হল গঙ্গার জলে। প্রশাসনের তরফে ছিল কড়া নিরাপত্তা। লালবাজার (Lalbazar) সূত্রে জানা যায়, এ বছর কলকাতার ২৫টি ঘাটে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়েছে। প্রতিটি ঘাটে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী, সঙ্গে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম এবং ডুবুরি বাহিনী। উল্লেখ্য যে, উৎসবের শেষ মুহূর্তেও কিন্তু থামেনি প্যান্ডেল হপিং। শহরের বিভিন্ন মণ্ডপে ভিড় করেছেন দর্শনার্থীরা। একদিকে বিসর্জনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে দেবী দর্শনের শেষ সুযোগ দুটো মিলিয়ে কলকাতার রাস্তা তখনও জমজমাট।
বিসর্জনের দৃশ্য যতটা আবেগঘন, ততটাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে প্লাস্টিক-মুক্ত বিসর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিমা নিরঞ্জনের পরপরই গঙ্গার জলে ভেসে থাকা ফুল, পুষ্পমাল্য ও কাঠামো তোলা হচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, এই উদ্যোগ নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।আবার, কলকাতার প্রতিটি বিসর্জন মানেই হাজার মানুষের ভিড়, আবেগ আর নিরাপত্তার সমন্বয়। বনেদি বাড়ির ঐতিহ্যবাহী ঠাকুর হোক বা আধুনিক ক্লাবের বৃহৎ প্রতিমা, সবই গঙ্গায় বিলীন হয়। কিন্তু বাঙালির হৃদয়ে থেকে যায় প্রতিশ্রুতি, মা আসছেন আবার, নতুন করে আলো, আনন্দ আর আশার বার্তা নিয়ে।
এই বিদায়ের মুহূর্তে কলকাতা যেন সুরেলা আবেগের শহর। এখানে যেমন আছে বিচ্ছেদের কষ্ট, তেমনই আছে প্রত্যাবর্তনের আনন্দের প্রতিশ্রুতি। দেবী দুর্গার (Goddess Durga) আগমন প্রতি বছরই নতুন করে শহরকে বাঁচিয়ে তোলে, ভরিয়ে দেয় উৎসবের উন্মাদনায়। আর তাই বিদায়ের সময়েও বাঙালি বিশ্বাস রাখে, “আবার আসিব ফিরে।”
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Bijaya Dashami 2025 Greetings, Durga Puja 2025 Wishes | দশমীর আন্তরিক শুভেচ্ছায় ভরে উঠুক সম্পর্কের আবহ : দুর্গা পূজা ২০২৫-এ প্রিয়জনকে পাঠান বিশেষ বার্তা




