Bihar Assembly Election 2025 | বিহার ভোটে মোবাইল নিয়ে নতুন নিয়ম: ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ঘোষণা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫ (Bihar Assembly Election 2025) ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ২৪৩টি আসনে এবার দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, প্রথম দফা ৬ নভেম্বর (১২১টি আসন) এবং দ্বিতীয় দফা ১১ নভেম্বর (১২২টি আসন)। ভোট গণনা হবে ১৪ নভেম্বর। তবে ভোটের নিয়মে এসেছে একটি বড় পরিবর্তন, এবার ভোটাররা তাদের মোবাইল ফোন (Mobile Phones) নিয়ে বুথে যেতে পারবেন, তবে সেটা ভোটকক্ষের বাইরে রাখতে হবে। এই উদ্যোগকে বলা হচ্ছে ভোটার-বান্ধব এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) গ্যনেশ কুমার (Gyanesh Kumar) ঘোষণা করেছেন, “ভোটকক্ষের ঘরের ঠিক বাইরে ভোটাররা নিজেদের মোবাইল ফোন জমা রাখতে পারবেন।” এই ঘোষণা আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অনেকেই বলছেন, এতদিন ধরে ভোটের সময় মোবাইল রাখার কোনও সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হতো, এবার সেই সমস্যার সমাধান হতে চলেছে।গ্যনেশ কুমার (Gyanesh Kumar) এর সঙ্গে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সিং (Sukhbir Singh Sandhu) এবং বিবেক জোশী (Vivek Joshi)। তারা একযোগে বলেন, “বিহার নির্বাচন হচ্ছে ‘মাদার অফ অল ইলেকশনস’ (Mother of all Elections)।” কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।

ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ

এবারের নির্বাচনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (Special Intensive Revision – SIR)। এই বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার তথাকথিত “পরিশোধন” বা “শুদ্ধিকরণ” সম্পন্ন করেছে। কমিশনের ভাষায়, “২২ বছর পর বিহারের ভোটার তালিকা পরিশোধন সম্পূর্ণ হয়েছে।” ফলে এবার ভোটার তালিকায় রয়েছে ৭.৪৩ কোটি ভোটার, যার মধ্যে ১৪ লক্ষ নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। এই প্রক্রিয়ায় ২৪৩টি কেন্দ্রেই একজন করে ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (Electoral Registration Officer) কাজ করেছেন, যাদের সহায়তা করেছেন প্রায় ৯০,২০৭ জন বুথ লেভেল অফিসার (BLO)। কমিশনের মতে, এর ফলে ভোটের তালিকা এখন অনেক বেশি নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য।

নির্বাচনে নিরাপত্তা ও মনিটরিং ব্যবস্থা

গ্যনেশ কুমার জানান, এবার প্রতিটি নির্বাচনী আসনের জন্য একজন করে অবজারভার (Observer) নিয়োগ করা হয়েছে। আগে একজন অবজারভার একাধিক আসনের দায়িত্বে থাকতেন, কিন্তু এবার থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে আলাদা মনিটর থাকবে। এতে ভোট প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হবে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, ভোটারদের আস্থা পুনর্গঠনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মোবাইল ফোন সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করার মাধ্যমে কমিশন ভোটারদের প্রায়োগিক সমস্যাগুলোকেও গুরুত্ব দিয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫ হতে যাচ্ছে এক উচ্চঝুঁকিপূর্ণ (High-Stakes) লড়াই। একদিকে আছে বিজেপি (BJP) এবং জেডিইউ (JD-U) নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোট, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (Rashtriya Janata Dal – RJD), কংগ্রেস (Congress) এবং বাম দলগুলির (Left Parties) নেতৃত্বে মহাগঠবন্ধন (Mahagathbandhan)রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিহার নির্বাচন ২০২৫-এ মোবাইল ফোন নীতি থেকে শুরু করে ভোটার তালিকার ‘পরিশোধন’ পর্যন্ত, প্রতিটি সিদ্ধান্তই রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারের হার অনেক বেড়েছে এবং অনেক ভোটার ভোটের সময় মোবাইল নিয়ে যাওয়াই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

মোবাইল ফোনের নিয়ম নিয়ে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া

বিহারের বিভিন্ন জেলায় ভোটারদের মধ্যে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। পাটনা (Patna), গয়া (Gaya), ভাগলপুর (Bhagalpur) প্রভৃতি অঞ্চলে ভোটাররা বলছেন, “এখন অন্তত ভোট দিতে গেলে মোবাইল নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।” তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে,  ভোটকক্ষের ভেতরে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ভোটকেন্দ্রের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে ফোন জমা রাখতে হবে, এবং ভোট শেষে তা ফেরত নিতে পারবেন ভোটার। এই ব্যবস্থার জন্য ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তাকর্মী ও বুথ লেভেল অফিসারদের (BLOs) দ্বারা নজরদারি রাখা হবে।

ভোটের তারিখ, নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি

কমিশনের ঘোষণামতে, বিহারে দুই দফায় ভোট হবে:

  • প্রথম দফা ভোট: ৬ নভেম্বর (১২১টি আসন)
  • দ্বিতীয় দফা ভোট: ১১ নভেম্বর (১২২টি আসন)
  • ভোট গণনা: ১৪ নভেম্বর

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে যে, ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় আধাসেনা (Central Armed Police Forces) মোতায়েন থাকবে। প্রত্যেক জেলার জন্য আলাদা কন্ট্রোল রুম গঠন করা হয়েছে।

Mother of All Elections – কেন এত গুরুত্ব?

নির্বাচন কমিশনের মতে, বিহার নির্বাচন ২০২৫ দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য এক “মডেল ইলেকশন” (Model Election) হবে। কারণ এটি প্রথম বড় নির্বাচন যেখানে SIR প্রক্রিয়ার পর শুদ্ধ ভোটার তালিকা ব্যবহার করা হবে। তাছাড়া মোবাইল ফোন জমা দেওয়ার নতুন নিয়ম, প্রতিটি আসনের জন্য আলাদা অবজারভার, এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক সিকিউরিটি জোন তৈরি, সব মিলিয়ে এটিই হবে এক পরীক্ষামূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫ শুধু রাজনৈতিক দিক থেকেই নয়, প্রশাসনিক এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এক যুগান্তকারী অধ্যায় হতে চলেছে। ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন রাখার নতুন নিয়ম ভোটারদের সুবিধা বাড়াবে এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করবে। 

ছবি : প্রতীকী 

আরও পড়ুন : Bihar Assembly Election 2025 | বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫: নতুন তারিখ, নতুন জোট, নতুন সমীকরণে চূড়ান্ত লড়াই

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন