Bhutan border SSB jawan death in Jaldhaka river | ভুটান সীমান্তে টহলের সময় জলঢাকায় ডুবে এসএসবি এএসআই-এর মর্মান্তিক মৃত্যু

SHARE:

মালবাজারের শিবচু ক্যাম্প (Shibchu Camp) থেকে ৪৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের একটি টহল দল ভুটান সীমান্তে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিল। দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ তাদের রুটিন টহল চলছিল জলঢাকা নদীর উপর দিয়ে। কিন্তু পরপর কয়েকদিন পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির কারণে নদী ছিল ভয়ঙ্কর রূপে উত্তাল। স্রোতের বেগ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি ছিল। এই সময় হঠাৎই নদী পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় স্রোতের তোড়ে ভেসে যান এএসআই সমরেশ দাস।

নিজস্ব প্রতিনিধি, সাশ্রয় নিউজ ★ মালবাজার : মালবাজার (Malbazar) থেকে ভয়াবহ খবর। নিয়মিত টহলের সময় জলঢাকা (Jaldhaka) নদীর উত্তাল স্রোতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারালেন সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী বা এসএসবি (SSB)-এর এক এএসআই। মৃত আধিকারিকের নাম সমরেশ দাস (Samaresh Das)। শুক্রবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা মুহূর্তে অন্ধকার নামিয়ে দিয়েছে কোচবিহার (Cooch Behar)-এর তাঁর বাড়ি ও শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে সহকর্মীদের। ঘটনাস্থল থেকে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তাঁর দেহ উদ্ধার করে মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, মালবাজারের শিবচু ক্যাম্প (Shibchu Camp) থেকে ৪৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের একটি টহল দল ভুটান সীমান্তে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিল। দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ তাদের রুটিন টহল চলছিল জলঢাকা নদীর উপর দিয়ে। কিন্তু পরপর কয়েকদিন পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির কারণে নদী ছিল ভয়ঙ্কর রূপে উত্তাল। স্রোতের বেগ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি ছিল। এই সময় হঠাৎই নদী পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় স্রোতের তোড়ে ভেসে যান এএসআই সমরেশ দাস। সহকর্মীরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যে তিনি চোখের আড়ালে চলে যান। তৎক্ষণাৎ উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে এসএসবি জওয়ানরা। সঙ্গে যোগ দেন নাগরাকাটা (Nagrakata) ব্লকের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী ও স্থানীয় মানুষজনও। বহুক্ষণ চেষ্টা চালানোর পর অবশেষে নাগরাকাটার রেল ব্রিজের কাছে লাগায়া (Lagaya) এলাকায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। উদ্ধারকাজে উপস্থিত এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “নদীর স্রোত এতটাই প্রবল ছিল যে, সামান্য অসতর্কতায়ই বিপদ হতে পারে। আমরা সবাই প্রাণপণ চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”

সমরেশকে নিয়ে যাওয়া হয় মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে (Malbazar Super Specialty Hospital)। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিবচু ক্যাম্পে। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, সমরেশ দাস ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্ববান ও সহৃদয় এক অফিসার। “তাঁর মতো একজন সহকর্মীকে হারিয়ে আমরা ভেঙে পড়েছি। কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা আমাদের কাছে সবসময় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে,” বলেন এক সহকর্মী জওয়ান। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলার বাসিন্দা ছিলেন সমরেশ। পরিবারে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছেন। আকস্মিক এই মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বাড়ির পাশের প্রতিবেশীরাও জানাচ্ছেন, সমরেশ দাস ছিলেন সবার প্রিয় মানুষ। এলাকায় তাঁর আচরণ এবং সৌজন্য মানুষকে মুগ্ধ করত।অন্যদিকে, ঘটনার পর স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, বর্ষার সময়ে উত্তরবঙ্গের নদীগুলি ভয়াবহ রূপ নেয়। বিশেষ করে জলঢাকা নদী পাহাড়ি ঢল নামলেই মারাত্মক হয়ে ওঠে। নদী পারাপারের সময় বহু মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে বর্ষার সময়ে টহল বা পারাপারের সময় আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

জলঢাকা নদীর স্রোত ও বিপদের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। বিগত কয়েক বছরে এই নদীতে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে এসএসবির মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর একজন আধিকারিকের এমন পরিণতি সকলকে হতবাক করেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় উত্তরবঙ্গ জুড়ে শোকের ছায়া। কোচবিহার থেকে মালবাজার, দুই জেলায়ই সমরেশ দাসের অকাল মৃত্যু নিয়ে চলছে শোকের প্রতিধ্বনি। তাঁর আত্মীয়রা জানিয়েছেন, পরিবার এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না যে সমরেশ আর নেই। উল্লেখ্য যে, এই মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল পাহাড়ি নদীর রুদ্ররূপ কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। প্রাকৃতিক বিপদের সামনে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র কিংবা প্রশিক্ষণও অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়ে।

ছবি : প্রতীকী 
আরও পড়ুন : Kolkata High Court defamation case, Mithun Chakraborty BJP TMC | মিঠুন চক্রবর্তীর ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে, রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন