Anil Ambani fraud, Reliance Communications Fraud Case | ব্যাঙ্ক অফ বরোদার ধাক্কা: অনিল আম্বানীকে ‘জালিয়াত’ ঘোষণা, ১,৬৫৬ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে বিতর্ক

SHARE:

বর্তমানে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস কর্পোরেট ইনসলভেন্সি রেজোলিউশন প্রসেস (CIRP)-এর অধীনে চলছে। এর ফলে সংস্থা আইনি সুরক্ষা পাচ্ছে এবং ঋণদাতারা সরাসরি কোনও চাপ প্রয়োগ করতে পারছেন না। তবে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে অনিল অম্বানীর ইমেজে নতুন করে ধাক্কা দিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ‘ফ্রড অ্যাকাউন্ট’ ঘোষণা করার মতো পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : ভারতের কর্পোরেট জগতে ফের বড়সড় আলোড়ন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অফ বরোদা (Bank of Baroda) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস (Reliance Communications) ও তার প্রাক্তন কর্ণধার অনিল আম্বানীকে (Anil Ambani) ‘জালিয়াত’ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। শুক্রবার ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) ও বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জকে (BSE) পাঠানো একটি সরকারি চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ব্যাঙ্কের দাবি, ফরেনসিক অডিট রিপোর্টে একাধিক আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মেলায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্ক অফ বরোদার তরফে জানানো হয়েছে, রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস ও অনিল আম্বানীর বিরুদ্ধে তহবিল নয়ছয়, হিসেবের কারচুপি ও ঋণের অনুপযুক্ত ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে তাঁকে ও তাঁর সংস্থাকে ‘জালিয়াত’ হিসেবে চিহ্নিত করা ছাড়া আর কোনও বিকল্প ছিল না।প্রসঙ্গত, ২৮ অগস্ট ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের ব্যাঙ্ক অফ বরোদার কাছে বকেয়া ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৫৬ কোটি ৭ লক্ষ টাকা। এই বিশাল অঙ্কের টাকা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সংস্থার ঋণ তোলার পরও সেই টাকা প্রকৃত কাজে ব্যবহার করা হয়নি, বরং নানা অনিয়মের মাধ্যমে অর্থের অপচয় ঘটানো হয়েছে।

বর্তমানে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস কর্পোরেট ইনসলভেন্সি রেজোলিউশন প্রসেস (CIRP)-এর অধীনে চলছে। এর ফলে সংস্থা আইনি সুরক্ষা পাচ্ছে এবং ঋণদাতারা সরাসরি কোনও চাপ প্রয়োগ করতে পারছেন না। তবে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে অনিল অম্বানীর ইমেজে নতুন করে ধাক্কা দিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ‘ফ্রড অ্যাকাউন্ট’ ঘোষণা করার মতো পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনিল আম্বানি। ছবি: সংগৃহীত

অন্যদিকে, অনিল আম্বানীর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁর মুখপাত্রের বক্তব্য, “শ্রী অনিল আম্বানী রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের একজন নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ছিলেন। দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না। সংস্থার নীতি নির্ধারণ বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন না।” মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে তিনি সংস্থার বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছিলেন এবং তারও ৬ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। ফলে, এই সময়ে এসে হঠাৎ তাঁর বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করাকে ‘বেছে নেওয়া’ আক্রমণ বলেই মনে করছেন অনিল অম্বানী।

বর্তমানে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস কর্পোরেট ইনসলভেন্সি রেজোলিউশন প্রসেস (CIRP)-এর অধীনে চলছে। এর ফলে সংস্থা আইনি সুরক্ষা পাচ্ছে এবং ঋণদাতারা সরাসরি কোনও চাপ প্রয়োগ করতে পারছেন না। তবে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে অনিল অম্বানীর ইমেজে নতুন করে ধাক্কা দিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ‘ফ্রড অ্যাকাউন্ট’ ঘোষণা করার মতো পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা বাড়াতে ব্যাঙ্কগুলি এখন আরও কঠোর হচ্ছে। একইসঙ্গে, কর্পোরেট দুনিয়ার অন্যতম চর্চিত নাম অনিল অম্বানীকে জালিয়াত হিসেবে ঘোষণা করায় এই খবর এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ব্যাঙ্ক অফ বরোদার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় বলেছেন, “ফরেনসিক অডিট রিপোর্টে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে যে ঋণের টাকা সঠিক জায়গায় ব্যবহার হয়নি। আর্থিক লেনদেনের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এই ধরনের কার্যকলাপ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

অন্যদিকে, আইনি মহলের ধারণা, এই ঘটনায় অনিল অম্বানী ও তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও অনিল অম্বানী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তিনি আইন মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। তাঁর কথায়, “আমি আইনের উপর আস্থা রাখি। সমস্ত অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি পথে লড়াই করব।” এমনিতেই বিগত এক দশক ধরে অনিল অম্বানীর আর্থিক অবস্থার টালমাটাল চিত্র সামনে এসেছে। রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস দেউলিয়া ঘোষণার পর থেকে একের পর এক আর্থিক সমস্যা ও মামলার জটিলতায় তিনি জড়িয়ে পড়েছেন। এক সময় দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধার থাকলেও বর্তমানে তিনি আর্থিক সংকট ও আইনি সমস্যার কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। এই ঘটনার পর শিল্প মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে প্রশ্ন, ভারতের ব্যাঙ্কিং সেক্টরে জবাবদিহি কতটা শক্তিশালী হবে এবং বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে কতটা কড়া পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব? ব্যাঙ্ক অফ বরোদার এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে কর্পোরেট দুনিয়ায় একটি বার্তা দিচ্ছে যে, ঋণ নিয়ে অনিয়ম করলে কোনওভাবেই রেহাই নেই।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Yes Bank Scam, Reliance Group News | দেশ ছাড়ার আশঙ্কা! ৩ হাজার কোটি টাকার মামলায় অনিল আম্বানীকে নিয়ে ইডির কড়া পদক্ষেপ

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন