Bengali poetry book launch Alipurduar | আলিপুরদুয়ারে জমকালো সাহিত্য আসর, প্রকাশিত ‘দৃশ্যমুখ’ হাইকু সংখ্যা ও বাবলি সূত্রধর সাহার নতুন কাব্যগ্রন্থ

SHARE:

কৌশিক রায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : শারদ উৎসবের আবহে সাহিত্যচর্চার ভিন্ন রূপ দেখা গেল আলিপুরদুয়ারে। তৃতীয়ার পুণ্যলগ্নে কবি উত্তম চৌধুরী (Uttam Chowdhury) -এর বাসভবন হয়ে উঠল সাহিত্যিকদের মিলনমেলা। সেদিন দ্বিগুণ আনন্দে ভরে ওঠে উপস্থিত অতিথি ও কবি-সাহিত্যিকদের মন। একদিকে প্রকাশিত হয় ‘দৃশ্যমুখ’ (Drishyomukh) পত্রিকার বিশেষ হাইকু সংখ্যা, অন্যদিকে মোড়ক উন্মোচিত হয় তরুণ কবি বাবলি সূত্রধর সাহা (Babli Sutradhar Saha) -এর কাব্যগ্রন্থ আয়ুসন্ধি (Ayusandhi)। এই দ্বৈত প্রকাশনার মাধ্যমে একদিকে যেমন সাহিত্যচর্চার পরিধি আরও প্রসারিত হল, তেমনি নতুন লেখার প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহও যেন বাড়ল কয়েকগুণ।

দৃশ্যমুখ পত্রিকা প্রকাশ।

বই ও পত্রিকা প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয় প্রাণখোলা সাহিত্য আড্ডা। সম্পাদক থেকে শুরু করে লেখকরা খোলামেলা আলোচনায় তুলে ধরেন তাঁদের অভিজ্ঞতা, গল্প, অনুষঙ্গ। উঠে আসে ‘দৃশ্যমুখ’-এর দীর্ঘ সাহিত্যযাত্রার নানা অজানা অধ্যায়, পাশাপাশি সম্পাদককে ঘিরে ব্যক্তিগত স্মৃতি ও উষ্ণ সম্পর্কের উল্লেখ। সকলে মিলে যেন এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ সৃষ্টি করেন। কবি উত্তম চৌধুরী বলেন, “দৃশ্যমুখ কেবল একটি পত্রিকা নয়, এটি আমাদের মানসপটের বহিঃপ্রকাশ। এই দীর্ঘ পথচলায় যাঁরা পাশে থেকেছেন, তাঁদের অবদান চিরস্মরণীয়।” অন্যদিকে, বাবলি সূত্রধর সাহা -এর নবপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ আয়ুসন্ধি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনেকেই তাঁর কবিতার ভিন্ন স্বর ও তাজা দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে ত্রিপুরার স্বনামধন্য প্রকাশনা “দৈনিক বজ্রকণ্ঠ” (Dainik Bajrakantha)। সাহিত্য সমালোচকরা আশাবাদী, কবির নতুন এই সৃষ্টিকর্ম পাঠকের মননে গভীর ছাপ ফেলবে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কবি বেণু সরকার।

শুধু প্রকাশিত গ্রন্থ নিয়েই নয়, আড্ডায় আলোচনার প্রসার ঘটে সাহিত্যের নানা দিক নিয়েও। ড. আশুতোষ বিশ্বাস (Dr. Ashutosh Biswas) মনে করিয়ে দেন হাইকুর গুরুত্ব ও ক্ষুদ্রতার মধ্য দিয়ে বিশাল অনুভূতি প্রকাশের ক্ষমতার কথা। অপূর্বকুমার চক্রবর্তী (Apurba Kumar Chakraborty), রামেশ্বর রায় (Rameshwar Roy), প্রশান্ত দেবনাথ (Prashanta Debnath), স্বপন কুমার সরকার (Swapan Kumar Sarkar), অঞ্জনা দেবনাথ (Anjana Debnath), প্রীতিলতা চাকী নন্দী (Pritilata Chaki Nandi), আরতি ধর (Arati Dhar), সত্যজিৎ রায় (Satyajit Roy) প্রমুখ বিশিষ্ট সাহিত্যিকরা তাঁদের মূল্যবান মতামত ও শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানকে আরও উজ্জ্বল করে তোলেন। আয়োজিত এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানে শুধু প্রকাশনাই নয়, মিলেছিল সাহিত্যিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার উষ্ণ ছোঁয়া। প্রতিটি বক্তৃতা ও আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা, সাহিত্যের দায়বদ্ধতা, এবং নতুন লেখক-প্রজন্মকে পথ দেখানোর এক অঙ্গীকার। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সঞ্চালনার দায়িত্ব সুচারুভাবে সামলান অম্বরীশ ঘোষ (Ambarish Ghosh) ও মিহির দে (Mihir De)। এই মিলনমেলা যেন প্রমাণ করল, উৎসব শুধু পূজা-অর্চনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সাহিত্যও হয়ে উঠতে পারে শারদ উৎসবের অঙ্গ। হাইকুর সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর কাব্যরীতি এবং নবীন কাব্যগ্রন্থ আয়ুসন্ধি-র প্রকাশনা বাংলা সাহিত্যে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে বলে উপস্থিত সকলেই আশা প্রকাশ করেছেন। আলিপুরদুয়ারের এই ছোট আয়োজন তাই বাংলা সাহিত্যভুবনে রেখে গেল এক স্মরণীয় দাগ।

আরও পড়ুন : সাশ্রয় নিউজ শারদীয়া সংখ্যা ১৪৩২ | Sasraya News Durga Puja Issue 1432 

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন