Ayushi Sharma case | ১০ কোটির সম্পত্তি আর চাকরির লোভে মায়ের খুন! জয়পুরে কন্যার ‘সুপারি’ কাণ্ডে চাঞ্চল্য 

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ জয়পুর: সম্পত্তি এবং সরকারি চাকরি এই দুই প্রলোভনকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ পারিবারিক অপরাধের অভিযোগ সামনে এল রাজস্থানের জয়পুরে। মাকে সরিয়ে দিলে মিলবে সম্পত্তি এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা এই ধারণা থেকেই খুনের ছক কষেছিল কন্যা, এমনই অভিযোগ পুলিশের। ঘটনায় অভিযুক্ত আয়ুষি শর্মাকে (Ayushi Sharma) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খুনের ঘটনাকে প্রথমে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা হলেও তদন্তে উঠে এসেছে এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ছবি। পুলিশ সূত্রে খবর, জয়পুরের এয়ারপোর্ট কলোনির বাসিন্দা নীরজ শর্মা (Neeraj Sharma)-র মৃত্যুকে ঘিরেই এই রহস্যের সূত্রপাত। গত ৪ জুলাই কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আচমকা একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। প্রথমে ঘটনাটিকে সাধারণ পথদুর্ঘটনা হিসেবেই ধরা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার পরপরই কিছু আচরণ এবং তথ্য তদন্তকারীদের নজরে আসে, যা গোটা ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

আরও পড়ুনIndia WTC Position, Shubman Gill Team Ranking | শ্রীলঙ্কার ড্র-তেই এগিয়ে ভারত! টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শুভমনদের অবস্থান শক্ত, শীর্ষে অস্ট্রেলিয়ার দাপট

নীরজের স্বামী বিজয় শর্মা (Vijay Sharma) ছিলেন সরকারি কর্মী। প্রায় এক বছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চাকরিটি পান নীরজ। পুলিশ জানিয়েছে, সেই চাকরির প্রতিই আগ্রহ ছিল কন্যা আয়ুষির। তিনি আশা করেছিলেন, মায়ের মাধ্যমে ওই চাকরির সুযোগ তাঁর কাছে আসবে। কিন্তু তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ জমতে থাকে তাঁর মধ্যে। পরিবার সূত্রে খবর, আয়ুষির এক ভাই রয়েছে, যিনি শারীরিক ভাবে সক্ষম নন। ফলে সংসারের সমস্ত দায়িত্বই নীরজের উপর ছিল। চাকরি সামলানোর পাশাপাশি দুই সন্তানের দেখাশোনাও করতেন তিনি। এই পরিস্থিতিতেই সম্পত্তির বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রায় ১০ কোটির সম্পত্তির উপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করতে শুরু করেন আয়ুষি।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি তাঁর কাকা এবং খুড়তুতো ভাই বলরাম (Balram) -এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, তাঁদের কাছে প্রস্তাব দেন, মাকে সরিয়ে দিতে পারলে সম্পত্তির একটি বড় অংশ ভাগ করে দেওয়া হবে। এর পর থেকেই শুরু হয় পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ। আয়ুষি নিজের বাড়ি ছেড়ে কাকার বাড়িতে থাকতে শুরু করেন বলেও জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, নীরজের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় এক মাস ধরে তাঁর যাতায়াতের রুট, সময় এবং অভ্যাসের উপর নজর রাখা হয়। প্রতিদিন ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে কাজে যেতেন নীরজ এবং বিকেলে হেঁটেই বাড়ি ফিরতেন। এই অভ্যাসকেই কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরিকল্পনা অনুযায়ী হরিয়ানা থেকে এক ভাড়াটে খুনিকে আনা হয়। সাত লক্ষ টাকার বিনিময়ে খুনের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। ঠিক হয়, গাড়ি চাপা দিয়ে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে দেখানো হবে। সেই অনুযায়ী ৪ জুলাই বিকেলে নীরজ বাড়ি ফেরার সময় পিছন থেকে একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা মারে। প্রায় ১০০ ফুট দূরে ছিটকে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর আয়ুষি নিজের মামাকে ফোন করে জানান, ‘মা দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন।’ তাঁর কান্নাজড়িত গলায় কথা বলার ধরনেও সন্দেহ জাগে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। নীরজের ভাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তদন্ত শুরু হয় নতুন করে।

ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেখানে দেখা যায়, নীরজ রাস্তার একপাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন এবং পিছন থেকে একটি গাড়ি সরাসরি তাঁকে লক্ষ্য করে ধাক্কা মারে। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। একই সঙ্গে ফুটেজে আয়ুষির উপস্থিতিও নজরে আসে। এরপরই তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। জেরার মুখে আয়ুষি খুনের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় আরও কয়েক জনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভাড়াটে খুনি এবং অন্যান্য জড়িতদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জয়পুরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সম্পত্তি এবং চাকরির লোভ কীভাবে পারিবারিক সম্পর্ককে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে, তারই এক ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে দেখছে অনেকেই। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। পরিবারের ভিতর থেকে উঠে আসা এই অপরাধ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সামাজিক মূল্যবোধ এবং পারিবারিক সম্পর্কের উপর। তবে আপাতত পুলিশি তদন্তই নির্ধারণ করবে, এই মামলায় কার কী ভূমিকা ছিল এবং কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Minakshi Mukherjee egg attack, High Court case | শীতলকুচিতে গাড়িতে ডিম নিক্ষেপ : আদালতের দ্বারস্থ মিনাক্ষী, হাই কোর্টে মামলা করার অনুমতি, উত্তপ্ত রাজনীতি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন