GJ 3378b exoplanet, super Earth discovery | ২৫ আলোকবর্ষ দূরে নতুন পৃথিবী? GJ 3378b আবিষ্কারে মহাকাশ গবেষণায় তুমুল আলোড়ন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি/ওয়াশিংটন: মহাবিশ্বে পৃথিবীর মতো আর কোনও গ্রহ আছে কি না এই প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে মানবসভ্যতাকে ভাবিয়েছে। সেই অনুসন্ধানের পথেই এবার বড় সাফল্য পেলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ আলোকবর্ষ দূরে একটি পাথুরে গ্রহের সন্ধান মিলেছে, যার গঠন ও অবস্থান নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গ্রহটির নাম দেওয়া হয়েছে জিজে ৩৩৭৮বি (GJ 3378b), এবং এটি এমন এক অঞ্চলে অবস্থান করছে, যেখানে তাত্ত্বিকভাবে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করা যায়। মহাকাশ গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রহটি একটি ‘এক্সোপ্ল্যানেট’ (Exoplanet), অর্থাৎ আমাদের সৌরজগতের বাইরের কোনও নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান গ্রহ। বিজ্ঞানীদের দাবি, GJ 3378b একটি ‘সুপার-আর্থ’ ধরনের গ্রহ, যার ভর পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ২.৩ গুণ। প্রথমদিকে এটিকে অনেক বেশি ভারী বলে মনে করা হয়েছিল, কিন্তু পরে উন্নত পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে এর প্রকৃত ভর নির্ধারণ করা হয়।

আরও পড়ুন :  Amitabh Bachchan News | মধ্যরাতে অমিতাভ বচ্চনের পোস্ট ভাইরাল: ‘বিশ্বস্ত পুরুষ আছে, কিন্তু পৃথিবী গোল’ নতুন বিতর্ক

এই গ্রহটি ক্যামেলোপার্ডালিস (Camelopardalis) নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত একটি লোহিত বামন নক্ষত্র বা রেড ডোয়ার্ফকে (Red Dwarf Star) কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। জানা গিয়েছে, গ্রহটি মাত্র ২১ দিনে একবার তার নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে, যা পৃথিবীর এক বছরের তুলনায় অনেক কম সময়। তবুও, এটি তার নক্ষত্রের ‘বাসযোগ্য অঞ্চল’-এর মধ্যে অবস্থান করছে। এই অঞ্চলকে এমন একটি দূরত্ব হিসেবে ধরা হয়, যেখানে তাপমাত্রা এমন হতে পারে যাতে তরল জলের উপস্থিতি সম্ভব হয়। গবেষকদের একাংশের বক্তব্য, ‘এই গ্রহটি আমাদের সৌরজগতের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ভবিষ্যতের পর্যবেক্ষণের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। মহাকাশবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এত কম দূরত্বে থাকা কোনও সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধান পাওয়া গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দিক খুলে দিতে পারে।

GJ 3378b-কে শনাক্ত করার পদ্ধতিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এই গ্রহটি তার নক্ষত্রের সামনে দিয়ে অতিক্রম করার সময় আলোকে আড়াল করে না, ফলে সাধারণ ট্রানজিট পদ্ধতিতে একে দেখা যায় না। বরং নক্ষত্রের উপর এর মহাকর্ষীয় প্রভাব লক্ষ্য করে গ্রহটির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এই প্রভাবের ফলে নক্ষত্রটি সামান্য দুলতে থাকে, আর সেই দুলুনির কারণে নক্ষত্রের আলোর বর্ণালীতে পরিবর্তন দেখা যায়, যা ‘ডপলার শিফট’ (Doppler Shift) নামে পরিচিত। এই পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞানীরা গ্রহটির উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। ২০২৪ সালে মাউনা কেয়াতে (Mauna Kea) অবস্থিত কানাডা-ফ্রান্স-হাওয়াই টেলিস্কোপ (Canada-France-Hawaii Telescope) -এর সাহায্যে প্রথম এই গ্রহটি চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে মার্কিন গবেষক দল আরও নিখুঁত বিশ্লেষণ করে জানায়, এটি গ্যাসীয় না, বরং পাথুরে গঠনের কাছাকাছি। এই তথ্যই গ্রহটিকে নতুন করে গুরুত্ব এনে দিয়েছে।

প্রথম পর্যবেক্ষণে গ্রহটির ভর পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৫ গুণের বেশি বলে মনে করা হয়েছিল, ফলে সেটিকে ‘মিনি-নেপচুন’ (Mini-Neptune) হিসেবে ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু নতুন বিশ্লেষণে ভর কমে আসায় এটি ‘সুপার-আর্থ’-এর শ্রেণিতে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাথুরে গঠন এবং বাসযোগ্য অঞ্চলে অবস্থান, এই দু’টি কারণেই গ্রহটি নিয়ে গবেষণা আরও জোরদার হচ্ছে। এই আবিষ্কার মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্নও তুলছে। যদি এই ধরনের গ্রহ এত কাছাকাছি পাওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে আরও উন্নত টেলিস্কোপের সাহায্যে সেখানে বায়ুমণ্ডল, জলীয় উপাদান বা জীবনের অন্য কোনও চিহ্ন খোঁজা সম্ভব হতে পারে। গবেষকদের মতে, ‘এই ধরনের গ্রহ আমাদের বোঝাতে সাহায্য করে, মহাবিশ্বে জীবন কতটা বিস্তৃত হতে পারে’।

মহাকাশে ‘পৃথিবীর মতো গ্রহ’ খোঁজার প্রতিযোগিতা বহু বছর ধরেই চলছে। বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান একাধিক এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করেছে। তবে সবগুলোই বাসযোগ্য অঞ্চলে নয় বা পাথুরে নয়। সেই দিক থেকে GJ 3378b একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এই আবিষ্কারের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মহাকাশ নিয়ে আগ্রহ আরও বাড়ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন এমন গ্রহের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা কয়েক দশক আগেও কল্পনার বাইরে ছিল। ২৫ আলোকবর্ষ দূরের এই গ্রহ ভবিষ্যতে গবেষণার কেন্দ্রে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। মহাবিশ্বের বিশাত্বের মধ্যে এই আবিষ্কার যেন একটি নতুন জানালা খুলে দিয়েছে। পৃথিবীর বাইরেও জীবন থাকতে পারে কি না এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পথে GJ 3378b একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উঠে এসেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Solar eclipse India date, longest solar eclipse 2027 | আগস্টে পরপর দুই গ্রহণ, সামনে ২০২৭-এর দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণ, ভারতের জন্য কবে দেখা যাবে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন