সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ রাঁচি : ঝাড়খণ্ডে রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন উঠে গেল। শুনশান রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের ভিতরে এক যুবতীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার এক সেনা জওয়ান। ঘটনাটি ঘটেছে রাঁচি (Ranchi) -এর একটি রেলস্টেশনে। অভিযুক্ত সেনা জওয়ানকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশ বাহিনী বা আরপিএফ (RPF)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রেল মহল ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ২২ বছরের একজন যুবতী রাঁচির একটি রেলস্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় স্টেশন ফাঁকা ছিল। যাত্রীদের ভিড় ছিল না বললেই চলে। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ঢোকে স্টেশনে। অভিযোগ, ওই যুবতী ট্রেনে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন ৪২ বছর বয়সি একজন সেনা জওয়ান। অভিযোগকারিণীর দাবি, ওই জওয়ান তাঁকে জোর করে টেনেহিঁচড়ে একটি ফাঁকা কামরার দিকে নিয়ে যান এবং সেখানেই ধর্ষণের চেষ্টা করেন। যুবতীর চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান আরপিএফ কর্মীরা। রেল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত জওয়ান পালানোর চেষ্টা করেন বলে জানানো হয়েছে। তবে আরপিএফ কর্মীরা ধাওয়া করে তাঁকে আটক করেন। দৌড়ঝাঁপের সময় পড়ে গিয়ে অভিযুক্ত সামান্য চোট পান। বর্তমানে তিনি রেল পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
শনিবার রাঁচি আরপিএফের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তকে ধরতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। এক আধিকারিক জানান, ‘আমাদের কর্মীদের দেখে অভিযুক্ত দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।’ ওই আধিকারিক আরও জানান, ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্ত জওয়ান ঘটনার সময় মত্ত অবস্থায় ছিলেন। আরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনের ভিতরে সেনাবাহিনীর কিছু সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং অভিযুক্ত সেই সামগ্রীর পাহারায় নিযুক্ত ছিলেন। এক আরপিএফ আধিকারিক বলেন, ‘ট্রেনে সেনার জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অভিযুক্ত সেগুলো পাহারা দিচ্ছিলেন। তিনি মত্ত অবস্থায় ছিলেন বলেই প্রমাণ মিলেছে।’ এই তথ্য সামনে আসার পর ঘটনাটি আরও গুরুতর বলে মনে করছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, ধৃত জওয়ানের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ (Prayagraj) জেলায়। বর্তমানে তিনি পাঞ্জাবের পাটিয়ালা (Patiala) রেজিমেন্টে কর্মরত বলে জানা গিয়েছে। সেনাবাহিনীর মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর একজন সদস্যের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রেল পুলিশের পাশাপাশি বিষয়টি সেনা কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ঘটনার পরদিন শুক্রবার অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করানো হয়। শুনানির পর বিচারক তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, নির্যাতিত যুবতীর বয়ান সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষাও করানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, যুবতীর দেওয়া বয়ানের ভিত্তিতেই মামলার তদন্ত আরও জোরদার করা হচ্ছে।
রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বা কম ভিড়ের সময় স্টেশন ও ট্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। রেল পুলিশের একাংশের মতে, আরপিএফ কর্মীদের তৎপরতাতেই বড় ধরনের অপরাধ ঘটার আগেই অভিযুক্তকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তাঁরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যদি একজন সেনা জওয়ানের বিরুদ্ধেই এই ধরনের অভিযোগ ওঠে, তবে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা কোথায়? আবার অনেকে আরপিএফ কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসাও করেছেন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি, অভিযুক্ত সত্যিই মত্ত অবস্থায় ছিলেন কি না, সেই বিষয়টিও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। রেল পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তে ব্যবহার করা হবে। উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডের এই ঘটনায় ফের একবার রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ল। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রেল ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Uttar Pradesh parents murder case | মোবাইলের একটি কলেই ফাঁস নৃশংসতা, বৃদ্ধ বাবা-মাকে খুন করে দেহ টুকরো নদীতে ভাসানোর অভিযোগে ইঞ্জিনিয়ার ছেলে গ্রেফতার




