Sasraya News Sunday’s Literature Special | 21st December 2025, Edition 92 | সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, সংখ্যা ৯২, রবিবার

SHARE:

ম্পাদকীয় নয়…

নিস্তব্ধ কুয়াশা ধূসর হয়ে ঘুরে মেঘেদের আতুর ঘরে
প্রতিটি পলক পাতে দৃশ্যায়িত আলো-অন্ধকার

গভীর শোকের সাথে মিশে থাকে মৃত্যু লোকে

আমার মৃত্যু তুমি হয়ে ওঠো

আবিষ্কারের ছন্দে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার দৌড়ে অদ্ভুত কাটাকুটি ভেঙে
মনস্তত্ত্ব আঁকড়ে ধরে রঙিন দুনিয়া

মায়া–মোহে মিশে গেলে লোভ কামনার দাঁড়ে কড়া নাড়লে
মানুষ অস্তিত্ব ভুলে ধ্বংসে নৃত্য করে।

হারিয়ে যায় না কোন আকাশ।
প্রতিটি গ্রহ নক্ষত্রের ভিড়ে ঘূর্ণিত চক্রে ভেসে ওঠো লোক এর পর লোক
সেখানে কোথাও দেখা হয়ে যাবে সবুজ মনের মতো দীর্ঘবিশ্বাস।

আমার জন্ম নেই মৃত্যু নেই বলে কি শরীর ছাড়বো না!
সঙ্গম কর্ষণে লক্ষ্য লক্ষ্য যোনী ভেদ করে সৃষ্টির দর্পণ
অন্ধকার থেকে আলো বায়ু মাটি জল আকাশ… সৃষ্টির ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া যে সমস্ত তীর সব আমারই—-

সবুজ ঘরে ঘোর তাপ এলে লাল শিখা ছাই হয়ে ফেরে
জানা কথা বার বার জানতে ইচ্ছে করে
সমস্ত জন্মের একটাই নাম হয়ে ফেরা
আলোক শয্যার দৃশ্যকল্প মনময় হলে সমস্ত ভালোলাগা শোক তাপ এক দেহে ফিরে আসে ভিন্ন নাম ধরে।

জন্ম হয় বলে মৃত্যুলোকে এতো শোক
ভয় পেওনা স্বপন সানি রাজেশ তিথি… সমস্ত নাম

নাদিরা তুমি আছো পৃথিবীর মায়ায় মায়া মেখে
তাই এতো আয়োজন হয়…

—-দেবব্রত সরকার 

 

 

🍂মহামিলনের থা 

 

বাবু। পিতা, মাতা, আচার্য্য ইত্যাদি ঈশ্বর-ইহা আপনি বলিতেছেন? ইহার কি কোন প্রমাণ আছে?
সাধু। আছে বৈ কি বাবু। তুমি কি বেদ মানো? বেদে আছে, ‘পিতৃদেবো ভব’ ‘মাতৃদেবো ভব’ ‘আচার্য্যদেবো ভব’ এই সমস্তই ঈশ্বর আপনি বলিতেছেন। মানিতে পার কি? তুমি যদি বেদ না মানো, বেদপ্রসূত শাস্ত্র না মানো তবে তোমার মত হতভাগ্য আর কে আছে বল?

 

গোঁসায়ের কড়চা

শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারামদাস ওঙ্কারনাথদেব

চলিয়া যাইবার সময় গোঁসাই একটি দপ্তর দিয়া গেলেন। জিজ্ঞাসা করিলাম-ঠাকুর কি দিয়া যাইতেছ? গোঁসাই হাঁসিয়া বলিলেন-গোঁসায়ের কড়চা। আমার পাঁজি পুঁথি সব ইহাতেই রহিল-ইহার ব্যবহার করিও।

গোঁসাইকে আর দেখিতে পাইব না বড় দুঃখ হইল। আচ্ছা গোঁসাই স্থূলে আর দেখা দিবেন না-কিন্তু কড়চার ব্যবহারই করি-ঠাকুরকে স্থূলে না পাইলে তিনি যাহা করিতে বলিয়াছেন তাই করি, যদি গোঁসাই কৃপা করেন।

দপ্তর খুলিলাম। কি অপূর্ব জিনিষ গোঁসাই দিয়া গিয়াছেন। কত সুন্দর উপদেশ, গল্পচ্ছলে সকলের জন্য। তাই আরম্ভ করিলাম।

প্রথম কড়চা-

কাশীর শীত। দশাশ্বমেধের অশ্বথবৃক্ষতলে একজন সাধু। একখানি মাত্র কম্বল তাঁহার সম্বল। একজন নাগা সন্ন্যাসী গঙ্গাস্নান করিয়া আসিয়া শীতে অতিশয় কম্পিত হইতেছেন। সাধু, নাগাকে কাঁপিতে দেখিয়া আপনার কম্বলখানি নাগাকে দান করিলেন। সম্মুখে একজন বাবু ইহাই দেখিতেছিলেন। সাধুর এই দান দেখিয়া বাবুটি বিস্মিত হইয়া সাধুকে ধন্যবাদ দিয়া বলিলেন-মহারাজ। আপনার ত আর কিছু নাই। একমাত্র সম্বল কম্বলখানি: তাহাও আপনি দান করিলেন। আপনার মত ত্যাগী পুরুষ ত আর আমি দেখি নাই।

সাধু| তুমি দেখ নাই-আমি দেখিয়াছি। তুমি এবং তোমার মত বাবুরা অতিশয় ত্যাগী। কারণ সর্বাপেক্ষা সাররত্ন তুমি ত্যাগ করিয়াছ।

বাবু। আপনার কথা আমি বুঝিতে পারিতেছি না। আমি ত্যাগী কিসে?

সাধু। বুঝিতেছ না, তুমি ঈশ্বর ত্যাগ করিয়াছ। ইহা অপেক্ষা বেশী ত্যাগ কি কেহ করিতে পারে?

বাবু। ঈশ্বরকে ত কখন দেখি নাই; ত্যাগ করিলাম

কিরূপে?

সাধু। দেখ নাই বাপু? ঈশ্বর পিতা মাতা সাজিয়া আসিয়াছিলেন, কয়দিন তাঁহাদের সম্মান রক্ষা করিয়াছ? ঈশ্বর আচার্য্য হইয়া আসিয়াছেন-কয়দিন তাঁহাকে সম্মান করিতেছ বল?

তিনি ভিক্ষুক হইয়া আসেন, সাধু হইয়া আসেন-বল তাঁহাকে কি দেখিতে শিখিয়াছ?

বাবু। পিতা, মাতা, আচার্য্য ইত্যাদি ঈশ্বর-ইহা আপনি বলিতেছেন? ইহার কি কোন প্রমাণ আছে?

সাধু। আছে বৈ কি বাবু। তুমি কি বেদ মানো? বেদে আছে, ‘পিতৃদেবো ভব’ ‘মাতৃদেবো ভব’ ‘আচার্য্যদেবো ভব’ এই সমস্তই ঈশ্বর আপনি বলিতেছেন। মানিতে পার কি? তুমি যদি বেদ না মানো, বেদপ্রসূত শাস্ত্র না মানো তবে তোমার মত হতভাগ্য আর কে আছে বল?

বাবু। আমি ত বেদ ও শাস্ত্র মানিতে চাই। কেহ কিন্তু ইহা শিক্ষা দিতেছে না এই দুঃখ।

সাধু। বাবা। তোমার মঙ্গল হইবে। তুমিই ভাবিয়া দেখ যাহাদের ভাল কর্ম করা নাই যাহারা শুভকর্ম অশুভকর্ম বিচার না করিয়া যাহা ইচ্ছা তাহাই করে তাহারা ঈশ্বর দেখিবে কিরূপে? ঈশ্বরকে দেখিতে হইলে পবিত্র আচার, পবিত্র আহার, সন্ধ্যা-আহ্নিকাদি ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করিতে হইবে, সাধুসঙ্গ করিতে হইবে, সৎশাস্ত্র পড়িতে হইবে; তবে ত ঈশ্বরের দেখার জন্য হৃদয়-দর্পণ নির্মল করিতে পারিবে। ঈশ্বর দেখা দিবার জন্য প্রস্তুত আছেন-তোমার হৃদয়-দর্পণের মালিন্য দূর হয় নাই, ঈশ্বরের মূর্ত্তি সেখানে দেখিবে কিরূপে? বাবা তুমি ঈশ্বরের আজ্ঞা “অহরহঃ সন্ধ্যামুপাসীত” “আচারহীনং ন পুনন্তি বেদাঃ” “আহারশুদ্ধো সত্ত্বশুদ্ধিঃ সত্ত্বশূদ্ধৌ ধ্রুবাস্মৃতিঃ”-ইত্যাদি আজ্ঞাকেই ঈশ্বরের স্থানে বসাইয়া পালন করিতে চেষ্টা কর, তোমার ভাল হইবে।

>”উৎসব” আশ্বিন, ১৩৩২। “দেবযান” মাঘ, ১৩৫৫।

“পথের আলো” জ্যৈষ্ঠ, ১৩৯৫

 

 

 

🍂গদ্য | ১

 

অবস্থা চরমে উঠেছিল ২০২৪ সালের রাত দখল-কে কেন্দ্র করে। কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক তিলোত্তমার নৃশংস হত্যার পর যখন সমস্ত পশ্চিমবঙ্গ গর্জে উঠেছে, তখন দিনহাটায় প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সংগঠিত করেছে নাদিরা। অবশ্যই ওর সঙ্গে সেই আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন আরও অনেকেই। ওদের ওপর আক্রমণ নেমে এসেছিল কিছু দালাল ও দুষ্কৃতীর। ওদের মিছিল ও মিটিং করতে দেওয়া হয়নি। শারীরিকভাবে হেনস্থা করবার প্রচেষ্টাও হয়। আর তারপর থেকেই শুরু হয় লেখা না ছাপাবার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। আক্ষেপ করত নাদিরা।

 

সূর্যের আলো বুকে নিয়ে

শৌভিক রায়

নিজের সম্পাদিত ‘মুজনাই’ অনলাইন পত্রিকায় নাদিরা আহমেদের ‘মুখোশ পৃথিবী’ কাব্যগ্রন্থের পাঠ প্রতিক্রিয়ায় লিখেছিলাম: ‘চিরকাল গরমভাত ও নরম বালিশ পেয়েই খুশি’ কবি নাদিরা আহমেদ সমকালকে ধরেছেন তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘মুখোশ পৃথিবী’-তে। কোচবিহার জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বড় হয়ে ওঠা কবির সৃষ্টিতে মাটির গন্ধ আর জীবনের অনুসঙ্গ। তাই তিনি বালুচরের ছবি বাঁধানোর সঙ্গে সঙ্গে তুলে ধরেছেন সন্ত্রাসী পুরুষ, অবৈধ সন্তান বা ঋতুচক্রকে। কেননা তাঁর মনে হয়েছে কখনো চাঁদ উঠলে ভালোবাসা ও চুমু নামক শব্দগুলি জুড়ে দেব না হয়। বাস্তব এটাই। এই নৈরাজ্যের নেই রাজ্যে, যেখানে সবকিছুই আপোষ আর স্বার্থপরতায় মাখামাখি, সেখানে দাঁড়িয়ে চিতা ও বসন্ত গুলিয়ে যায় বৈকি! অত্যন্ত সমাজ-সচেতন কবি তাই তাঁর সৃষ্টিতে তুলে ধরতে পেরেছেন মুখোশ পৃথিবী। আর তা ধরতে গিয়ে আরোপিত হয়ে নয়, স্বাভাবিক স্বচ্ছন্দভাবে জীবন এঁকেছেন তিনি। আসলে উর্বর মাটিতে শেকড়সহ মানুষের ছবি যিনি আঁকতে চান, তাঁকে শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে খোলা চোখে সব দেখতে হয়। নাদিরা আহমেদ সেটাই দেখেছেন। আশা করি, আগামীতেও এভাবেই দেখবেন।

সেপ্টেম্বরের ৪ তারিখে ওর শেষ পোস্টে ডঃ অরুণিমা ঘোষের একটি লেখা শেয়ার করে হেডিং লিখেছিল কিন্তু অপগন্ড মূর্খদের কাছে মানসিক স্বাস্থ্য বলে কিছু হয়ই না… এই মানসিক স্বাস্থ্যেরই মুক্তি চেয়েছিল নাদিরা আজীবন। আজাদি চেয়েছিল ভণ্ডামি আর স্বার্থপরতা থেকে। উচ্চকিত বলেছিল, ‘ইদানীং কিছু লিখতে ইচ্ছে করেনা। সত্যি কথা সোজাসুজি লিখতে পারি না; মিথ্যে কথা লিখতে ঘৃণা লাগে। ছোটোবেলার মতো উচ্ছ্বসিত হয়ে যদি সত্যগুলো গরগর করে বলে ফেলতে পারতাম; যদি কান্না পেলে চিৎকার করে অনেকটা কেঁদে একটা চকলেট হাতে খেলতে যেতে পারতাম তাহলে কতোই ভালো হতো।

দুর্ভাগ্য, নাদিরা আর কোনও দিন কিছুই দেখবে না। আগামী শব্দটিও ফিরে আসবে না ওর জীবনে। কেননা, আমাদের সবাইকে স্তম্ভিত ও স্তব্ধ করে, ও নিজেই অতীত হয়ে গেল। ইদানিং নাদিরা নিজের নামের সঙ্গে ‘আহমেদ’ -এর বদলে ‘আজাদ’ শব্দটি ব্যবহার করত। হয়ত ডাকনাম ‘মুক্তি`-র সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই। ওর স্বল্প জীবনে ও আসলে স্বাধীনতার স্বপ্নই দেখেছে। প্রশ্ন হতে পারে, ও কি স্বাধীন ছিল না? আপাতভাবে নিশ্চয়ই ছিল। কিন্তু সেটা যেন সেই বিখ্যাত আপ্তবাক্যের মতোই Man is born free but everywhere he is in chains….। এমনিতেই কিছুটা গোঁড়া রক্ষণশীল পরিবারে বড় হয়ে ওঠা নাদিরার বেশ কিছু সামাজিক শৃঙ্খল ছিল। সেটা বোঝাই যায়। ছিল পারিপার্শ্বিক অদৃশ্য চাপও। কিন্তু সব কিছুকেই দূরে সরিয়ে দিতে পেরেছিল বিদ্রোহী এই মেয়ে। ফলে, বাংলাদেশ সীমান্তের কাছের ছোট্ট জনপদ দিনহাটার মতো প্রত্যন্ত এলাকাতে থেকেও নাদিরা হয়ে উঠেছিল অনন্য। ও-নাটক করেছে। আবৃত্তি করেছে। গান গেয়েছে। যোগ দিয়েছে সাংবাদিকতায়। নিজের মতো লিখেছে। ছুটে গিয়েছে মানুষের সেবা করতে। আর দেখেছে দিন বদলের স্বপ্ন। স্বপ্নসন্ধানী ছটফটে ছোট্ট মেয়েটি কবে যেন নিজেই হয়ে উঠেছে এক সম্ভাবনার প্রতীক।

সম্ভাবনা! বড্ড ক্লিশে মনে হয় আজকাল। আসলে যত অকালপ্রয়াণ দেখেছি, তারা প্রত্যেকেই সম্ভাবনা ছিল। নাদিরার মতো মেয়ে তো নিঃসন্দেহে ছিল এক প্রবল সম্ভাবনা। এতটাই যে, একটা সময় ওর লেখা ছাপতে ভয় পেয়েছেন অনেকে। পাশে দাঁড়াননি কেউ। অবস্থা চরমে উঠেছিল ২০২৪ সালের রাত দখল-কে কেন্দ্র করে। কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক তিলোত্তমার নৃশংস হত্যার পর যখন সমস্ত পশ্চিমবঙ্গ গর্জে উঠেছে, তখন দিনহাটায় প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সংগঠিত করেছে নাদিরা। অবশ্যই ওর সঙ্গে সেই আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন আরও অনেকেই। ওদের ওপর আক্রমণ নেমে এসেছিল কিছু দালাল ও দুষ্কৃতীর। ওদের মিছিল ও মিটিং করতে দেওয়া হয়নি। শারীরিকভাবে হেনস্থা করবার প্রচেষ্টাও হয়। আর তারপর থেকেই শুরু হয় লেখা না ছাপাবার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। আক্ষেপ করত নাদিরা।

১৩ মার্চ, ২০২৩, নাদিরাকে ওর ফোন নম্বর চেয়ে ফেসবুক থেকে মেসেজ করেছিলাম। উত্তরবঙ্গের আত্মার আত্মীয় উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এর তদানীন্তন কার্যকরী সম্পাদক কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে খুঁজছিলেন। হয়ত খবরের প্রয়োজনেই। সবার প্রথমেই আমার নাদিরার কথা মনে হয়েছিল। ও ফোন নম্বর পাঠালে, জানিয়েছিলাম পত্রিকা দপ্তরে। কয়েক দিন পর জেনেছিলাম যে, নাদিরা সাংবাদিক হিসেবে উত্তরবঙ্গ সংবাদে কাজ করতে শুরু করেছে। খুশি হয়েছিলাম খুব। তবে ওর কর্মজীবন কবে শুরু ও কবে শেষ হয়েছিল সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানিনি কখনও। আমার কাজ ছিল শুধু যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া। বাকিটা ছিল পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ও নাদিরার মধ্যে।

ওর সঙ্গে আমার শেষ দেখা ও কথা ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর। দিনহাটায় হিতেন নাগ সাহিত্য উৎসব-এ নদী সম্পর্কিত একটি আলোচনায় অন্য কয়েকজনের সঙ্গে বক্তা ছিলাম আমিও। নাদিরা এসেছিল মধুমিতা ও সাহানুরকে নিয়ে। অনুষ্ঠান শেষে হইচই, ছবি তোলা, গল্প নানা। রাতেই মেসেজ এসেছিল ওর, অনুষ্ঠানে তোলা ছবিগুলো আমায় দেবেন। ৯৬******৫৯ এটা আমার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার। এরপর বার কয়েক ফোনে কথা হলেও, মেসেজ করিনি বা ও-ও করেনি। কিন্তু ও যে একই রকম আছে সেটা বুঝতাম ফেসবুকে ওর বিভিন্ন পোস্ট দেখে। সেপ্টেম্বরের ৪ তারিখে ওর শেষ পোস্টে ডঃ অরুণিমা ঘোষের একটি লেখা শেয়ার করে হেডিং লিখেছিল কিন্তু অপগন্ড মূর্খদের কাছে মানসিক স্বাস্থ্য বলে কিছু হয়ই না… এই মানসিক স্বাস্থ্যেরই মুক্তি চেয়েছিল নাদিরা আজীবন। আজাদি চেয়েছিল ভণ্ডামি আর স্বার্থপরতা থেকে। উচ্চকিত বলেছিল, ‘ইদানীং কিছু লিখতে ইচ্ছে করেনা। সত্যি কথা সোজাসুজি লিখতে পারি না; মিথ্যে কথা লিখতে ঘৃণা লাগে। ছোটোবেলার মতো উচ্ছ্বসিত হয়ে যদি সত্যগুলো গরগর করে বলে ফেলতে পারতাম; যদি কান্না পেলে চিৎকার করে অনেকটা কেঁদে একটা চকলেট হাতে খেলতে যেতে পারতাম তাহলে কতোই ভালো হতো। কিন্তু বড়ো বেলায় কষ্ট পেলে লুকোতে হয়, চোখ মুছে হাসতে হয়। আনন্দে জাপটে না ধরে সামলে নিতে হয় আবেগ। ইচ্ছা অনিচ্ছা গুলিয়ে একটা সমান্তরাল রেখায় রেখেছি। মিথ্যে বলার চেয়ে মিথ্যের অন্তরালে সত্য যাপন করার অনিবার্য প্রয়াস একদিন আমার মুখ থেকে মুখোশ সরিয়ে সত্যিকারের মিথ্যে চেনাবে… (৩০ অগাস্ট, ২০২৫)

নাদিরা বলেছিল, আমি কখনোই পাহাড় হতে চাইনি / আমি কখনোই আমার সন্তানের নাম কাঁটাগাছ- রক্ত বা মরা নদী রাখিনি! / তবুও পৃথিবীর মায়া আমাকে নারীত্বের রুমাল (গ্লানি?) বেঁধে দিয়েছে…/ সেখানে সারাবছর ঝর্নার শীতল জল পরে বুক জুড়ে! / কান্নার মতো! পূর্ণনারীর থৈ থৈ চোখ যেমন…’ মৃত্যুর হাতছানি সম্ভবত বুঝতে পেরেছিল ও। বলেছিল-
‘ভুলে যাচ্ছি পুরোনো জ্যোৎস্না। বলতে হয় পুরনো আলোর মঞ্চে কার্টেন তুলে দিয়েছি। স্মৃতিরা নরম মাটিতে থাকলেও এবার কবরের জমিতে মাটিচাপা দিয়েছি। অতীতের যেসব আলোকে স্নিগ্ধতা ভেবে গায়ে মেখেছি তা এখন কয়লার মতো গা থেকে তুলে ফেলছি দামি জল দিয়ে। আফশোষ আমাদের হৃদয়ের ফুলেল বাগানের আয়তন কমায় তাই আমি আফশোষ আর পুরোনো রাতের আলো নিভিয়ে নতুন রাতকে ডেকেছি। ভালো স্মৃতি আলো দেয় আর খারাপ স্মৃতি দেয় বিস্মরণ। মুছে দিয়েছি পুরোনো উঠোনের আলপনা কান্নাকাটি ফ্যাকাশে আলতা। নতুন ভোরের মাটিতে মৃত্যু আসে তাও তো গোরস্তানে সূর্যের আলোর ছটা থাকবে… এখানে কোনো কার্টেন নেই…’

নাদিরার গোরস্তান সূর্যের আলো পড়ুক না পড়ুক, ওখান থেকে আলো ছড়িয়ে পড়ছে। নিশ্চিন্ত সেটা জানি…
সূর্যের আলো বুকে নিয়েই ঘুমিয়ে আছে আমাদের কন্যা।🍁

 

 

 

🍂গদ্য | ২ 

 

নাদিরা নেই, এটা এখনও আমি বিশ্বাস করি না। নাদিরা আর “ও দাদা ও দাদা” বলে আমাকে ডাকবে না এটা আমার বিশ্বাসই হয় না। আমি কত কত বার দিনহাটা যাবো অথচ নাদিরার সাথে আমার দেখা হবে না। আমি নাদিরা সপ্তর্ষি সৌরদীপ সংহতি ময়দানে জমিয়ে আড্ডা দিতে দিতে আর চা খাবো না।

 

নাদিরা হারিয়ে যায়নি, জাস্ট একটু বেড়াতে গেছে

কবি সুবীর সরকার, নাদিরা আহমেদ মুক্তি প্রমুখ।

সুবীর সরকার

নাদিরা চলে গেল। অল্প আয়ুর এই মেয়েটি কবিতা লিখতে এসেছিল। নাটক নিয়ে স্বপ্ন নিয়ে হাসি ও হাহাকার নিয়ে একটা স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছায়াছবির জীবন কাটিয়ে হুস করে উড়ে গেল এমন এক দেশে যেখান থেকে আর কখনও ফেরা যায় না। নাদিরা বিছিয়ে আর গুছিয়ে রেখে গেল অদ্ভুত এক মায়া। কত মানুষের চোখের জলের ভেতর সে কিন্তু থেকেই গেল।

নাদিরার বাড়ি গিয়েছি একবার। ওর মা ভাল মুসলিম বিয়ের গীত জানতেন। সেই গান শুনতেই যাওয়া। তারপর গান। মধ্যাহ্ন ভোজন, ওদের তিন বোনের সঙ্গে তুমুল আড্ডা। আমার বাসাতেও কত কত আড্ডার স্মৃতি আমাকে ঘিরে ধরেছে এই লেখা লিখতে গিয়ে।

নাদিরার সঙ্গে পরিচয় ২০১৭ সালে। ঝকঝকে দুই চোখ, দু’চোখে খেলে বেড়াচ্ছে স্বপ্ন,ফড়িঙের মতন ছটফটে নাদিরাকে প্রথম পরিচয়ে আমার পুতুলের মত মনে হয়েছিল। তারপর নাদিরা আমার পরিবারের অংশ হয়ে যায়। দাদা বলে ডাকতো। কিন্তু আসলে তো সে ছিল সন্তানের মত।

কবিতা নিয়ে, কি বই পড়বে সেই সব নিয়ে বিস্তর কথা হত আমাদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অনর্গল। প্রতিটি বই বেরোবার আগে পাণ্ডুলিপিটি আমাকেই সবার আগে সে পড়তে দিত। যাবতীয় সংশয়, প্রশ্ন, দ্বিধা শেয়ার করতো আমার সঙ্গে। নাদিরা ছিল প্রতিবাদী। রাস্তায় নেমে সে প্রতিবাদ করতো অন্যায়ের। রাষ্ট্রের চোখে চোখ রেখে, দমন পীড়নের তোয়াক্কা না করেই সোচ্চার থাকত সে। পাশাপাশি তীব্র অভিমান বহন করত নিজের অন্তর্গত প্রবাহে।

বন্ধুরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কেন, কোন কবিসভা তাকে ডাকছে না কেন, আমি কেন খোঁজ নিচ্ছি না নাদিরার— এই সব নিয়ে রীতিমত আপসেট থাকতো। আমাকে উজাড় করে তার অভিমান ঢেলে দিতে। নাদিরা ছিল শিশুর মত সহজ।তার স্বপ্নগুলি ছিল উত্তরদেশের বাতাসে উড়ে বেড়ানো পাখিদের মত।

নাদিরার বাড়ি গিয়েছি একবার। ওর মা ভাল মুসলিম বিয়ের গীত জানতেন। সেই গান শুনতেই যাওয়া। তারপর গান। মধ্যাহ্ন ভোজন, ওদের তিন বোনের সঙ্গে তুমুল আড্ডা। আমার বাসাতেও কত কত আড্ডার স্মৃতি আমাকে ঘিরে ধরেছে এই লেখা লিখতে গিয়ে।নাদিরার কবিতা নিয়ে আলাদা করে কিছু আজ লিখবো না। এটুকুই বলি, নাদিরা ছিল আদ্যন্ত একজন কবি। সে কেবল কবিতাই লিখতে চেয়েছিল।

কবিতা নিয়েই একটা স্বপ্নময় ঘোরের জীবন কাটাতে চেয়েছিল। সে কখনও সাংবাদিক হতে চেয়েছিল, সে নারীমুক্তির জন্য কাজ চেয়েছিল, নাটকের মঞ্চে নিজেকে উজাড় করে দিতে চেয়েছিল। শারীরিক সমস্যা, দরিদ্র তাকে কোন গ্লানির মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারেনি। সে উপেক্ষা করতে এবং উপেক্ষিত হতেই পছন্দ করতো। নাদিরা নেই, এটা এখনও আমি বিশ্বাস করি না। নাদিরা আর “ও দাদা ও দাদা” বলে আমাকে ডাকবে না এটা আমার বিশ্বাসই হয় না। আমি কত কত বার দিনহাটা যাবো অথচ নাদিরার সাথে আমার দেখা হবে না। আমি নাদিরা সপ্তর্ষি সৌরদীপ সংহতি ময়দানে জমিয়ে আড্ডা দিতে দিতে আর চা খাবো না।

আমার নাদিরা কিন্তু কোথাও হারিয়ে যায়নি। আমার নাদিরা আমার ভেতরেই থেকে যাবে মায়া ও ম্যাজিকের মতন। এটুকুই বলি, নাদিরা হারিয়ে যায়নি। জাস্ট একটু বেড়াতে গেছে।🍂

 

লেখা পাঠান 👉 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ। এছাড়াও রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর জন্য উপন্যাস, কবিতা (একধিক কবিতা পাঠালে ভালো হয়। সঙ্গে একটি লেখক পরিচিতি। গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, পুস্তক আলোচনা (আলোচনার জন্য দুই কপি বই পাঠাতে হবে), ভ্রমণ কাহিনী। লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর থাকতে হবে। অবশ্যই কোনও প্রিন্ট বা ডিজিটাল মাধ্যমে এমনকী  সোশ্যাল মিডিয়াতে বা পোর্টালে পূর্ব প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ই-মেল করে লেখা পাঠান। ই-মেল আই ডি : editor.sasrayanews@gmail.com
WhatsApp : 9531601335

 

 

 

🍂কবিতা

অভিজিৎ ভৌমিক -এর একটি কবিতা

শব্দেরা থেমে যায়

রাতভর মনেতে দ্বন্দ্ব…
যুদ্ধও বটে…
শিকল যতই আলগা করার চেষ্টা…
ততই যেন রুদ্ধ।

শব্দকে কি বেঁধে রাখা যায়?

খাতায় কলমে যুদ্ধ করেও
একটিও বাক্য তৈরি হলো না..
তৈরি হলো না শব্দগুচ্ছ..

শুধু ভেসে উঠল তোমার উজ্জ্বল মুখশ্রী…
তোমার কবিতা, তোমার শব্দ।

শব্দগুলো যেন কোথায় হারিয়ে গেল…
বিলীন হয়ে গেল দূর আকাশে..
তোমার সাথে কথা বলবার।

বারবার বুঝিয়ে দিয়ে গেলে সব যেন ঠুনকো…

খোলা আকাশেও বন্ধ দ্বার…. যেখানে হারিয়ে যাওয়াই নিশ্চিন্ত।

ওপারের ডাকের এত তাড়াহুড়ো
যে শব্দ কেও নিয়ে যেতে হল…!

ভালো থেকো নাদিরা!

 

আশুতোষ বিশ্বাস -এর একটি কবিতা

নাদিরা আহমেদ

প্রান্তিক শীতের শহরে খড়কুটো জড়ো করে
তুমি আগুন চেনালে
মুখোশ আর মুখোশহীন মানুষ
চালে ডালে মিশে থাকা কাঁকড়রত্ন প্রযন্ত-আখরে
তুমি পড়িয়ে দিলে—
প্রত্ন প্রণয়জাত প্রিয় ভালোবাসা সন্তানের নামের শেষে
পদবী সন্ধানী কেরানি চোখগুলোর ম্যানুস্ক্রিপ্টে
তুমি মিশরীয় রংছবি এঁকে দিলে

মরাফুল ফোটা সবুজ দেশে—তুমি ঠোঁটকাটা, ভিনগ্রহী
দুধের সাথে মদের সুপরিকল্পিত মিশ্রণে
গেঁজে ওঠা আমাদের সকাল বিকেল হামাগুড়ি দিয়ে যায়
আঁশগন্ধী মৎস্যকন্যা ঘোলাজলে ছটপট করে
জামার বোতাম না খুলে দেখালে কতৃপক্ষ খুশি হন না
তুমি সেই দেশে অনড় দাঁড়ালে এসে—
তুমি আমাদেরই নাদিরা আহমেদ

 

 

রাজু সাহা -এর একটি কবিতা

অসাধারণ মেয়ে এক

(নাদিরা আহমেদকে মনে রেখে)

নাদিরা মানে দুর্লভ, অসাধারণ।
তুমি অসাধারন অথবা দুর্লভ ছিলে কিনা জানিনা।
এইটুকু জানি তোমার কবিতার অক্ষর আকাশে ভাসিয়ে দিলে বিদ্যুৎ চমকায়।
ঝড়ো বাতাস বইতে থাকে , কিছু একটা উলট পালট হয়ে যায়।
তুমি হেঁটে গেলে মনে হয় কবি হেঁটে যাচ্ছেন।
সবুজ দেশে মৃত ফুল সব তাজা হয়ে ওঠে।

 

ছবি ধর -এর একটি কবিতা

নাদিরা 

এক মুঠো রোদ ধরতে চেয়ে
নিজেই রোদ্র হয়ে গেছো তুমি?
রোদ্র বাতাসে মিশে আছো জঙ্গমে
শুনতে পাচ্ছো পাখির গান কলতান
তুমি এখন ব্যস্ত চরাচরে মেঘপাশে বসে
মালহারে গুনছো বুঝি মনোহর সংলাপ,
মোহ মায়ার ডোর আলগা করলে সময়ের আগে
বন্ধন ছিন্ন করবার অনন্য কৌশলে,
অনন্ত ফুল ফোটা পারিজাতে
হাসনুহানার করতলে
নাদিরা ভালো আছো তুমি?
ঠকে যাওয়া গল্পের থেকে দূরে সরে
আয়ুহীন তোমার পথের দিকে চেয়ে বসে
দেউড়িতে দেখো সকলে কেমন পুড়ছে দেহানলে!

 

মনিমা মজুমদার -এর একটি কবিতা

নাদিরা আজাদ 

সময়ের আগেই নিজের নামের ভেতর ঢুকে পড়ল
কোনও দিকে নয়
শুধু একটুকরো থেমে থাকায়
কতশত প্রশ্নচিহ্ন রেখে দিল

এখনও পড়ে আছে কত শব্দ
শূন্যে তারা, এলোমেলো
কবিতার বৃত্তে

অসম্পূর্ণ বাক্যে নাদিরা নামটি আজ
কেউ ফেরে না এই ডাকে
ভুল ঠিকানায় শুধু
ধার দিয়েছি তাকে

 

শ্রেয়সী সরকার -এর একটি কবিতা

কোথায় তুমি নাদিরা?

ঘুমের ভিতর দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে
স্রোতে জেগে আছে অন্ধকারের মায়া ও প্রতিবাদ
তার মুখোশ পরে আছে অসম্পূর্ণ আয়ুকাল।
যেখানে অদ্ভুত প্রেম- যা এক অনুবাদ
তাতে ফুল ফুটিয়েছে ক্যাকটাস ,
যা অদৃশ্যে হয়ে গিয়েও কবিতা হয়ে বেঁচে আছে
যাঁর চোখ দুটো এখন পুতুলের চোখে স্থির।
যাকে ঘিরে মায়ের অতৃপ্ত কান্না –
যেনো জ্যোৎস্নাহীন রাতের ব্যর্থ রাতদখল খুঁজে বেড়াচ্ছে
কোথায় তুমি নাদিরা?

 

 

সাহানুর হক -এর একটি কবিতা

অপরাজিতা নাদিরা 

তোমার কবিতা থেকে জন্ম নিত একেকটি চারাগাছ
তুমি রোজ সেখানে ঢেলে দিতে রক্ত ভেজা জল
তারপর?
বেড়ে ওঠা চারাগাছ- ফুল-ফল নিয়ে
কাড়াকাড়ি হতো তোমার পাঠককুলে।

আজ বড় অসহায় এই সময়
বড় ক্লান্ত শহর- গালিচা-ধুলো…
খুব কি জরুরি ছিল তোমার এই চলে যাওয়া?
একাকিত্ব এঁকেছো এতটাই নিভৃতে?
হে অপরাজিতা, হে নাদিরা আজাদ
তোমার কবিতা থেকে আজও জন্ম নিচ্ছে চারাগাছ
মিনিট-ঘন্টা-রাত, দিনের পর দিন
রাতের পর রাত…

 

 

নাদিরা আহমেদ মুক্তি ও অন্যান্যরা।

 

 

মনামী সরকার -এর একটি কবিতা

নাদিরা তোকে 

খোলা আকাশে পাখির মত উড়ে গেলি শরীরের খাঁচা ছেড়ে। ঝরা পালকের গায়ে গায়ে মেখে রয়ে গেল শুধু কবিতা। আরো অনেক কবিতা জমা ছিল ওই আগুন দুটো চোখে। আরেকটু সময় না হয় থেকে যেতি তোর প্রতিবাদী ভূমিতে। আমরা তো সেই অভাগার দল কাঁচা মৃত্যু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখি, মেনে নিতে বাধ্য হই যারা।

 

উৎপলেন্দু পাল -এর একটি কবিতা

নাদিরা পারিজাত 

উত্তরের বাগানে কতশত ফুল
বর্ণে গন্ধে মাতাল মানুষ ও ঈশ্বর
পাণ্ডব বর্জিত দেশে ফুলেদের উৎসব
নাদিরা নামের একটি সুন্দর ফুল
নবীন বর্ণে নিবিড় গন্ধে করেছিল পাগল
অরূপ মুগ্ধতায় তাকে ভালোবেসেছিলেন ঈশ্বর
একদিন তিনি আনমনে চাইলেন তাকে
স্বর্গের বাগানে চাই এই ঐশ্বরিক নাদিরা ফুল
দেবদূতেরা এসে তুলে নিলেন নাদিরা ফুলের গাছ
আজ স্বর্গের বাগানে নাদিরা পারিজাত
ঈশ্বর নিজেকে জয়ী ঘোষণা করেছেন মহানন্দে
তবুও উত্তরের বাগানে রয়ে গেছে তার অমর শেকড়।

 

প্রিয়াংকা নিয়োগী সনি -এর একটি কবিতা

নাদিরা কথা

ঐ যে বলছে অনেক কথা,
রেখেছে সংগ্রামী জ্বোয়ালামুখী চেতনা,
নাদিরা এক কবিতা।
পেরেছে মনে জায়গা করে নিতে,
নিজ স্ববোধ নিজ কর্মে,
জাগিয়েছে সমাজ ঐ ঐটুকু সময়ে,
নারীও পারে চোখে চোখ রেখে চলতে,
সমাজের জন্য গর্জে উঠতে আওয়াজ রাখতে,
কলা-কুশলী তে পারদর্শীতা দেখাতে।
নাদিরা আছে, থাকবে জীবন যাত্রা তে,
উর্ধ্বমুখী ভাবনায় সাহসী হতে সময়ের দর্পনে।

 

নীলাদ্রি দেব -এর একটি কবিতা

আয়ুকাল

(উৎসর্গ: নাদিরা)

কত ব্যথা হেঁটে গেল আবার অরণ্যে
ঘন হয়ে আসা শালবৃক্ষ
সেগুনমঞ্জরী
থোপা থোপা ঝোপ ও সোঁদা জীবন
মৃত্যুর ব্যথা ও ব্যথাহীন
নিঃশব্দ শেষ যাত্রাপথে
নাম না জানা বুনো ফুল তুলে রাখি
সূর্যের আলো আসছে না ততটা
ঘুম থেকে অন্য ঘুমের মাঝে
এইসব আয়ুকাল আমাদের

 

লেখা পাঠান 👉 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ। এছাড়াও রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর জন্য উপন্যাস, কবিতা (একধিক কবিতা পাঠালে ভালো হয়। সঙ্গে একটি লেখক পরিচিতি। গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, পুস্তক আলোচনা (আলোচনার জন্য দুই কপি বই পাঠাতে হবে), ভ্রমণ কাহিনী। লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর থাকতে হবে। অবশ্যই কোনও প্রিন্ট বা ডিজিটাল মাধ্যমে এমনকী  সোশ্যাল মিডিয়াতে বা পোর্টালে পূর্ব প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ই-মেল করে লেখা পাঠান। ই-মেল আই ডি : editor.sasrayanews@gmail.com 
WhatsApp : 9531601335

 

আরও পড়ুন : সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল স্পেশাল। ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সংখ্যা ৯১ | Sasraya News Sunday’s Literature Special | Issue 91, Sunday

 

🍂গদ্য | ৩

 

মায়ের শুকনো বুকে খেজুরের গন্ধ পাও তা নিবিষ্ট করে। পাঠক ঘুমিয়ে পড়ে কবিতার কোলে মাথা রেখে। ‘আমরা মৃত্যুকে মেনে নিই, দুচোখের বিহ্বল শক্তি নেয়না…’ আবার তোমায় পাই। ‘আগে থেকে পুড়ে থাকলে আর পোড়ানোর ভয় থাকবেনা’

কুহক খুলে রেখ নাদিরা…

সুব্রত সাহা

পার এক শূন্যতা গ্রাস করে… গিলে ফ্যালে শব্দগুলোকে… কুহক কাটিয়ে ওঠা মায়াবীনে ঝুলে থাকে আন্ধার… পরিশীলন ছেড়ে বেঁচে বেড়ে ওঠা কবিতার নতুন সংসার ও সংস্কার থেকে কুহক খুলে রাখে নাদিরা… অন্যমনস্ক হয়ে যাই তার কবিতা পড়তে পড়তে… মাঝে মাঝে হারাই মনের বনে… মৃত্যু কি এতোটা সহজ কবি? কবির কী মৃত্যু আছে আদৌ? না কবির মৃত্যু নেই… তাই তুমি আছ মননে আর কথনে…

মাইলখানেক স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার সময় তোমার কবিতায় মৃত্যু ফিরে আসে। যন্ত্রণা বুকের ভেতর কথোপকথন করে। ‘কেমো দিতে দিতে ঘুমিয়ে পড়লে বুকভরা জীবনের স্বপ্ন দ্যাখো তুমি, আবার জেগে ওঠো। আর মায়ের শুকনো বুকে খেজুরের গন্ধ পাও তা নিবিষ্ট করে। পাঠক ঘুমিয়ে পড়ে কবিতার কোলে মাথা রেখে।

‘মুখোশ পৃথিবী’টা সরে যাচ্ছে দ্যাখো বিপন্নতায়… হাঁ করে তাকিয়ে আছে মুখের দিকে… খোলা মাঠ ভেঙে নাভি জেগে ওঠে আর পেঁচাদের গানে কেমন যেন ঋতুচক্র গড়িয়ে যায়… অতঃপর বিনাশকারক হয়ে ওঠে মুখ ও মুখোশ। প্রেমিক ও সন্তানের কথায় নাদিরা ভূমিকা লিখে ফ্যালে ইতিহাসের গঙ্গা উঠে আসে কবিতার উঠোনে। ‘আসলে বড়ো রাস্তা পরিষ্কারের দায়িত্ব আমাদের সবার’ সাধারণ কথাই হয়ে উঠছে অসাধারণ, আহা! আর তাই গরম ভাত আর নরম বালিশ পেলেই খুশি তাকে কবি নাদিরা আহমেদেরা… আবার দেখি ঠিকানাবিহীন পথে চলতে চলতে কবির পিঠ দিয়ে লাল লাল আভা বেরোয়… আলোর মতো… এই আলোই তো আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায় নতুনের নতুনায়নের দিকে আমরা হয়ে উঠি উপাসক। ‘স্মৃতি’তে ‘পায়ের বুড়ো আঙুলে চাপ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কৈশোর পেড়িয়ে যৌবন আসে। হাতের অনামিকায় কালো ছাইয়ের মতো স্বপ্ন খুঁজতে গিয়ে বার্ধক্য দেখে ফেলে নাদিরা।’ এরকম সরল সহজ লাইন ক’জন লিখতে জানে নাদিরা? বয়স অনুযায়ী নাদিরা আহমেদের কবিতা অনেক ম্যাচুওরড তা মানতে কোন বাধা নেই অন্তত আমার।

একদম ঠিক বলেছ তুমি প্রেম, মোহ আসলে সিঁড়ির মতো লম্বা। দ্রোহকাল লিখে রাখি গোপনে। আবডাল ভেঙে নদী জেগে ওঠে আর তারপর ‘মুখোশ পৃথিবী’ লুকিয়ে ফ্যালে মুখগুলোকে… তোমার কথা দিয়েই এই অসমাপ্ত লেখা জেগে থাকুক, ‘মৃত্যু ও শ্মশান অনিবার্য সব হতে হতে’ একদিন কবিতা হয়ে লেখা থাকবে আমাদের বুকের ভেতর সেখানে জেগে থাকবে তুমি নাদিরা আহমেদ।

মাইলখানেক স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার সময় তোমার কবিতায় মৃত্যু ফিরে আসে। যন্ত্রণা বুকের ভেতর কথোপকথন করে। ‘কেমো দিতে দিতে ঘুমিয়ে পড়লে বুকভরা জীবনের স্বপ্ন দ্যাখো তুমি, আবার জেগে ওঠো। আর মায়ের শুকনো বুকে খেজুরের গন্ধ পাও তা নিবিষ্ট করে। পাঠক ঘুমিয়ে পড়ে কবিতার কোলে মাথা রেখে। ‘আমরা মৃত্যুকে মেনে নিই, দুচোখের বিহ্বল শক্তি নেয়না…’ আবার তোমায় পাই। ‘আগে থেকে পুড়ে থাকলে আর পোড়ানোর ভয় থাকবে না’ বাস্তবিকভাবেই তাই। আর তাই তোমার কবিতা ছুঁয়ে যায় পাঠকের হৃদয়। অবারিত হতে হতে লেখা হয়ে যায় উর্বর এক দেশের মাটির গন্ধ… কবিতার গন্ধ… তুমি গাছ হয়ে ওঠো নাদিরা… অসুখ মুছে গিয়ে হয়ে উঠেছে কবিতার গাছ… আর সবুজ দেশের কবিতা হয়ে উঠুক তোমার যাবতীয় স্বত্বা মাখা থাকুক আখরে আর শব্দে…

🍁ঋণ : নীলাদ্রি দেব, নাদিরা আহমেদের কাব্যগ্রন্থ: ‘মুখোশ পৃথিবী’ এবং ‘মৃত ফুল ও সবুজ দেশের কবিতা’।

 

 

🍂গদ্য | ৪

 

নিয়ম বেঁধে বেঁধে শৃঙ্খল হয়ে ওঠে। গোপাল রাখাল থেকে 3 idiot’s জেনে গেলেও আমরা মানুষদের একটি ভালো খারাপের স্বাভাবিক জরিপে মাপতে ভালবাসি।

 

মুখোশ পৃথিবীতে আয়ুহীন নাদিরা

জয় দাস

নাদিরার সঙ্গে পরিচয় তাঁর কবিতার মাধ্যমে। সামনাসামনি আলাপ করিয়ে দেয় কবি সুবীর সরকার দাদা। আমরা সংহতি ময়দানে আড্ডা দিই বাবুদার দোকানে। সুবীরদার কেনা চিকেনের টেস্ট শেষ করবার পর চলে আমাদের কবিতাপাঠের আসর। নাদিরা খুব সপ্রতিভ দুষ্টু মিষ্টি বুনু, কিন্তু কবিতার ভাষায় আছে নিজস্ব বয়ান, তেজ। সুবীরদার আরেকটি গুণ সহজেই নিজের হতে পারেন। ফলে আঁতের কথা, পারিবারিক ছোটছোট খুনসুটি সবই জানা হয়ে যায় সুবীরদার, তার প্রিয় মানুষদের। নাদিরার ক্ষেত্রেও তাই-ই হল‌। আসলে নাদিরা এখন তারাদের দেশে। নাদিরা আমার শিক্ষার্থীসম। সমস্ত ক্ষেত্রে যে আমাদের মতের মিল হয়েছে তা নয় কিন্তু মনান্তর হয় নি কখনো। পাশাপাশি হলে হাসি বিনিময় হয়েছে, হয়েছে চায়ের আড্ডাও। নাদিরার সঙ্গে লেখার মাধ্যমে পরিচয়, ও-ওঁর লেখার মাধ্যমেই আজন্ম বাঁচবে তাই ওঁকে নিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বয়ান নয়, ওঁর কাব্যগ্রন্থ নিয়েই আলোচনা করছি। এটাই আমার ওঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। নাদিরা উপহার দেয় আমাকে তার দ্বিতীয় কাব‍্যগ্রন্থ ‘মুখোশ পৃথিবী’। ১৩টি কবিতা রয়েছে তাতে। ছয়দিন ধরে দু’টি স্মৃতিকথা গদ‍্য পড়বার পর গতকাল রাতে পড়লাম এই কাব‍্যগ্রন্থটি। ‘বড়ো রাস্তার রোজনামচা’য় ‘ঠিকানাহীন’ ‘স্মৃতি’রা লিখে যায় ‘যাপনে’র ‘ছায়া’ ‘গন্ধ’। ‘মা ও এই দেশ’ ‘এবং জীবন’ ‘একটি কয়েনের গল্প’এ বাঁধা এক ‘মুখোশ পৃথিবী’।
আদর্শ, ন‍্যায়নীতি বোধ উবে যাচ্ছে আধুনিক গতিময় জীবনের কাছে। ভ্রষ্ট প্রেমিকেরা জন্ম দিচ্ছে নষ্ট আগামীদের। এই বিষপুরিতে তবু প্রেম অপেক্ষা করে নতুন ভোর উত্তরসূরী-
সেই রাতে কিছু ইঁদুর গর্ভবতী হয়-
কিছু মৃত ও অন্ধ সন্তানের জন্ম দেয়
আমি তৃতীয় বারের মতো গর্ভপাতের চিহ্ন মুছে ফের
নতুন ভোরের অপেক্ষা করি…
…একদিন সন্ত্রাসী হয়ে বুকে বোমা গুঁজে আমার অবৈধ সন্তানকে ‘গঙ্গা’ নাম দিল।
এভাবেই যুগে যুগে আমাদের প্রেম মাওবাদী হয়ে গেছে কালো মাটিতে…
আমি আজ রাতেও সন্তানের নাম দাবী রেখে রক্ত ধুয়ে এলাম…
সে রক্ত ঋতুচক্র বা বালির হতে পারে; জানি না। (প্রেমিক ও সন্তান, পৃ-৪)

নিয়ম বেঁধে বেঁধে শৃঙ্খল হয়ে ওঠে। গোপাল রাখাল থেকে 3 idiot’s জেনে গেলেও আমরা মানুষদের একটি ভালো খারাপের স্বাভাবিক জরিপে মাপতে ভালবাসি। এক করতে চাই অভ‍্যস্ত জীবনে, তবু কেউ কেউ থাকে যারা কারও কথা না শুনে রাস্তা হাঁটতে ভালোবাসে। তারপর থেকে শুরু হয় আধুনিকের নতুন সংজ্ঞা। আমরা সকলেই জানি সব আধুনিক ব‍্যক্তিরা একাই হন সমাজে-
আসলে বড়ো রাস্তা পরিস্কারের দায়িত্ব আমাদের সবার…
কেউ কাঁটার মতো রাস্তায় গেঁথে থাকে কেউ বা…
গরম ভাত ও বিছানা তো সবাই চায়…
রাস্তায় হাঁটার নিশ্চয়তা কজন চায়… (বড়ো রাস্তার রোজ নামচা, পৃ-৫)

ভালোবাসার উল্টো পিঠ ঘৃণা। ঘৃণা ভেঙ্গে দেখ, তাতে জমে আছে অভিমান, অভিমান ভেঙ্গে গেলে বেরিয়ে আসে ভালোবাসা। প্রিয় মানুষ কিংবা দেশ, ভালোবাসা কিংবা দ্রোহ আসলে গল্প বলে নিবিড়তার-
তোমার বুকে গোলাপ আকৃতির অনুভূতি দেখতে দেখতে আপাতত কিছু আগুনে পোড়া চোখ নিয়ে ঘুরছি…
ঘৃণা বা দ্বেষ পুড়িয়ে দিয়ে ছাইয়ের গন্ধ শুঁকবো বলে…(নীরবে যে মানবী, পৃ-৮)

চাহিদা ছিড়ে নেয় আমাদের শৈশব মাদকতা। সহজ সম্পর্ক হারিয়ে যায় হিসেবের ভিড়ে, বড় হওয়া মানে আসলে তো সেয়ানা হওয়া-
জীবনের পর্দা সরাতে সরাতে কত গাছ সাইকেল কয়েনের ভিড় দেখলাম।
আসলে সত‍্যি বসন্তের গায়ে হলুদ নয় চিতার ছাইরঙা ঘ্রাণ পাওয়া যায়।
আমি তফাৎ বুঝতে ভুল করছি… চিতা ও বসন্ত গুলিয়ে ফেলেছি(একটি কয়েনের গল্প, পৃ-৯)

আমাদের ভোর স্বপ্ন মাখা, মায়ের যেমন জুড়ে থাকে সন্তানের ভবিষ‍্যৎ স্বপ্ন। আমাদের ইচ্ছেরাও স্বপ্ন বিহ্বল দেশ নামক জন্মভূমিতে জুড়ে থাকে নিয়মের শূঙ্খল-
কিন্তু নতুন জন্মের গন্ধ মাখা চাবিটা আর খুঁজে পাইনি
মাটিতে কাদায় পুঁতে গেছে হয়তো, আমিও মৃত সন্তানের মতো।
আমি মা হবার মুখে স্ফীত পেট দেখাতে পারিনি দ্বিধায়
সন্তান তাই যখন তখন পরিচয় হারিয়ে মরে যেতে গর্ব বোধ করি। (মা ও এই দেশ, পৃ-১০)

প্রতিটি মুখ মুখোশে ঢাকা। নগ্নতাকে ঢেকে রাখে যে তাকে আমরা স্ট‍্যাটাস বলি। আগত প্রজন্ম হবে তাতেই অভ‍্যস্ত কবির কলম বলে তাই-
আগামীকাল যে শিশুটি জন্মাবে তার জন‍্য একটি পৃথিবী গড়বো
পৃথিবীটা আমার মতোই দেখতে… মুখোশ ও রঙে ঢাকা… (মুখোশ পৃথিবী, পৃ-১৬)

এবারে আমরা কিছু প্রিয় অনুভূতি ভাগ করে নেব-
বয়স জুড়ে গাছ নারী বা প্রতিমা হতে পারিনি
তাই পোকা মাটি বা ঘাসেদের কাছ ঘেঁষে রয়েছি (এবং জীবন, পৃ-১৫)
প্রতিটি বিকেল নামে ঠিকই, আজ বিকেলে সকাল নামুক। (যাপন, পৃ-১৩)
জং ধরলে সেই লোহা ফেলে দিতে হয়
আমার শরীরেও জংএর আঁচড় কাটা
সরে যাবো; সাথে নিয়ে যেতে হবে
পৃথিবীর কয়েক লক্ষ জোনাকি (গন্ধ, পৃ-১২)

মাথাভাঙ্গার বিকাশ দাস (বিল্টু) নাদিরার এই কাব‍্যগ্রন্থ নিয়ে বিস্তারে খুব সুন্দর আলোচনা করেছেন। আমার বিল্টুর আলোচনা পড়তে ভালোলাগে।
চলুন আমরা মুখোশ খুলে ‘মুখোশ পৃথিবী’ পড়া শুরু করি।

মুখোশ পৃথিবী
নাদিরা আহমেদ
বিরক্তিকর
প্রচ্ছদ- শ্রীহরি দত্ত
প্রথম সংস্করণ – জানুয়ারি ২০২১
মূল‍্য- ৩৫টাকা

নাদিরা ওঁর সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থটি দেখে যেতে পারেনি। আশ্চর্য দেখুন কাব্যগ্রন্থটির নাম “আয়ুহীন”। ইচ্ছে আছে বইটি এবারের বইমেলায় প্রথম কেনার। বইটির সুন্দর প্রচ্ছদ করেছেন শ্রী কল্যাণময় দাস। বইটি নিয়ে আলোচনা করবার ইচ্ছে আছে।🍂

 

 

🍂গদ্য | ৫

 

কিন্তু তা আর ঠিক হল না। তার শরীরটা যেন দিন দিন আরও বেশি কাহিল হয়ে পড়ে। হাঁটতে গেলে মাথা ঘুরত, কথা বলতে গেলে গলা শুকিয়ে যেত। তবুও সে কবিতার খাতা আর রাস্তায় মাঠে দুর্বল হা-হাভাতেদের কথা বলতে, তাদের জন্য আন্দোলন করতে ছাড়ত না। তার মনে হতো, তার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য এই কবিতাগুলো।

 

একটি কাল্পনিক নাদিরা আজাদ

কল্যাণময় দাস

“সূর্য ডুবে গেলে ধীরে ধীরে উত্তাপ কমে যায়”- অথচ নাদিরা নামের একজন কবির কবিতার উত্তাপ এখনও রয়ে গেছে। গ্রামের নামটা বড় আটিয়াবাড়ি’, আলো বলতে শুধু কুপির টিমটিমে শিখা আর মানুষের চোখে জমানো অগণিত স্বপ্ন। ২০২৫ সাল। শহরের ইট-কাঠ-পাথরের জঙ্গল থেকে অনেক দূরে, ধুলো মাখা পথ পেরিয়ে এই ছোট্ট গ্রামটা যেন সময়ের উল্টো স্রোতে ভাসছিল। আর সেই গ্রামেরই এক জীর্ণ মাটির ঘরে বসে কবিতা বুনতো নাদিরা। তার বয়স তখন সবে বাইশ, কিন্তু চোখজোড়ায় জমে ছিল হাজার বছরের ক্লান্তি আর এক নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন।

একদিন সকালে, গ্রামের মানুষ জানতে পারল, নাদিরা আর নেই। কলকাতার এস.এস.কে.এম হাসপাতালে প্রায় একমাস মৃত্যুর সাথে লড়াই করতে করতে সে চলে গেল। গ্রামে যেন একটা গভীর আঁধার নেমে এলো। তার মা-বাবা, রেশমা, আর যারা তাকে চিনত, তারা শোকে পাথর হয়ে গেল। কিন্তু নাদিরার মৃত্যুর পর একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল।

“অন্ধকার কেন এত গাঢ় হয়, বাবা?”
নাদিরা তার বাবার ভাঙা পিঁড়ির ওপর রাখা হাতটা ছুঁল। তার বাবা, একদৃষ্টিতে উঠোনে দাঁড়ানো শুকনো আমগাছটার দিকে তাকিয়ে। শীতের রুক্ষ বাতাস তার উসকো-খুসকো চুলে খেলা করছে।
“আলো না থাকলে যা হয়, মা। অন্ধকার তো শুধু আলোর অভাব।”
তার বাবার গলার স্বর যেন বহু দূর থেকে ভেসে আসছে। নাদিরার বুকে একটা মোচড় দিল। অভাব। এই শব্দটাই যেন তাদের জীবনের প্রতিটা কোণে গেঁথে আছে।
“কিন্তু মানুষ আলো জ্বালাতে ভুলে যায় কেন? এত ভয় কিসের তাদের?”
নাদিরা তার হাতের পাতায় বাবার হাতের রুক্ষ চামড়ার ভাঁজ অনুভব করছিল। এই হাত দুটোই তো তাকে ছোট থেকে আগলে রেখেছে, সংসারের চাকা ঘুরিয়েছে।
“ভয়, মা, বড়ই শক্তিশালী এক দৈত্য। ওটা শুধু আলো নিভিয়ে দেয় না, মানুষের জিভও টেনে ধরে।”
সেদিন রাতে নাদিরা তার জীর্ণ খাতায় নতুন এক কবিতা লিখল। শিরোনাম দিল: ‘খড়কুটোর ডাকে’। তার কলম দ্রুত ছুটছিল, যেন ভেতরে জমানো সব কথা এক নিশ্বাসে বের করে দিতে চাইছে। গ্রামের মানুষের মুখে কুলুপ, তাদের চাপা কষ্ট, না বলার যন্ত্রণা– সব যেন তার কলমের ডগায় নাচছিল।
কয়েক মাস পরের কথা। নাদিরা তখন আরও বেশি করে কবিতার গভীরে ডুবে গেছে। তার শরীরের ভেতরে কী যেন একটা খেলা করছিল, যা সে ধরতে পারছিল না। মাঝে মাঝে তার বুক চিনচিন করে উঠত, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতো। কিন্তু সে পাত্তা দিত না। তার কাছে তখন কবিতার চেয়ে বড় সত্য আর কিছু নেই।
“নাদিরা, আজ কি হাট থেকে ফিরেছিস?”
তার মা, ফরিদা, কপালে ভাঁজ ফেলে দরজার চৌকাঠে দাঁড়ায়। নাদিরার হাতে তখন একটা আধলেখা কবিতা।
“না, মা। আজ আর যেতে ইচ্ছে করল না। শরীরটা ভালো লাগছে না।”
ফরিদার চোখজোড়ায় চিন্তার ছাপ। এগিয়ে এসে মেয়ের কপালে হাত রাখে।
“তোর গা তো পুড়ে যাচ্ছে! জ্বর এসেছে নাকি?”
নাদিরা হাসার চেষ্টা করে। “না, মা। একটু দুর্বল লাগছে শুধু। কাল ঠিক হয়ে যাব।”
কিন্তু তা আর ঠিক হল না। তার শরীরটা যেন দিন দিন আরও বেশি কাহিল হয়ে পড়ে। হাঁটতে গেলে মাথা ঘুরত, কথা বলতে গেলে গলা শুকিয়ে যেত। তবুও সে কবিতার খাতা আর রাস্তায় মাঠে দুর্বল হা-হাভাতেদের কথা বলতে, তাদের জন্য আন্দোলন করতে ছাড়ত না। তার মনে হতো, তার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য এই কবিতাগুলো।
একদিন গ্রামের একমাত্র ডাক্তার, যিনি শহরের প্রান্ত থেকে আসতেন, তিনি নাদিরাকে দেখতে এলেন। দেখে থমথমে মুখে নাদিরার বাবাকে ঘরের বাইরে ডেকে নিয়ে গেলেন।
“মেয়েটার অবস্থা ভালো না। শহরে নিয়ে যেতে হবে। পরীক্ষা করাতে হবে।”
বাবার মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেল। “শহরে? কিন্তু ডাক্তারবাবু, আমাদের তো…”
তার কথা শেষ হলো না। ডাক্তারবাবু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। “আমি জানি। কিন্তু আর দেরি করা ঠিক হবে না। ভেতরে কিছু একটা বড়সড় বাসা বেঁধেছে।”
নাদিরা সব শুনছিল। তার বুকটা ধড়ফড় করে উঠল। ‘ভেতরে কিছু একটা বড়সড় বাসা বেঁধেছে’ – এই কথাগুলো তার কানে যেন বিষ ঢেলে দিল। সে জানত, তার বাবা-মায়ের কাছে বড় শহরে যাওয়ার মতো টাকা নেই। তার চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য তাদের ছিল না।
সেই দিন থেকে নাদিরার কবিতার সুর পাল্টে গেল। তার কবিতায় এখন শুধু সমাজের স্বপ্ন নয়, নিজের শরীরের ভেতরে বাসা বাঁধা মৃত্যুর ছায়াও উঁকি দিতে শুরু করল। সে লিখল, ‘এরপর একদিন আমিও হেঁটে যাবো দ্বীপান্তরের বাঁকে’।
“নাদিরা, তুই কেন এত মনমরা হয়ে থাকিস?”
তার বন্ধু রেশমা, গ্রামের একমাত্র মেয়ে যে নাদিরার কবিতার মর্ম বুঝত, তার পাশে এসে বসে। রেশমার হাতে একগোছা বুনো ফুল।
“মনমরা? আমি তো বরং আরও বেশি করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি।”
নাদিরা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার চোখজোড়া কেমন যেন অদ্ভুতভাবে জ্বলছিল।
“বেঁচে থাকা? তুই তো দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছিস। ডাক্তারবাবু কী বললেন?”
রেশমার গলায় উদ্বেগ। সে নাদিরার রোগা হাতটা ধরল।
“বললেন, ভেতরে কী যেন একটা বাড়ছে। কিন্তু আমি জানি, আমার ভেতরে আসলে আমার স্বপ্নগুলো বাড়ছে। আমি জানি, আমি বেশিদিন থাকব না।”
রেশমার চোখ ছলছল করে উঠল। “এ কী বলছিস তুই!”
“সত্যি বলছি। তাই তো আমি চাই, আমার এই স্বপ্নগুলো বেঁচে থাকুক। আমার কবিতাগুলো বেঁচে থাকুক।”
নাদিরা তার কবিতার খাতাটা রেশমার হাতে তুলে দিল। “এই দেখ। আমি এগুলো সব লিখেছি। তুই এগুলো যত্ন করে রাখবি। একদিন… একদিন এগুলো মানুষের কাছে পৌঁছাবে।”
রেশমা খাতাটা বুকে চেপে ধরল। তার গলা দিয়ে কথা সরছিল না।
এরপরের দিনগুলো ছিল নাদিরার জন্য এক কঠিন সংগ্রাম। তার শরীরটা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছিল। কাশি, জ্বর, আর সেই অসহ্য বুকে ব্যথা। কিন্তু তার কলম থামেনি। ভেতরে যেন এক অনন্ত শক্তি তাকে বাধ্য করছিল লিখতে। সে লিখত নতুন সমাজের কথা, যেখানে কেউ অভাবে ভুগবে না, কেউ ভয়ে মুখ বুজে থাকবে না, যেখানে প্রতিটা মানুষ তার নিজের আলো জ্বালাতে পারবে।
“নাদিরা, আজ কি কিছু খাবি?” ফরিদা এক বাটি গরম দুধ নিয়ে ঘরে ঢুকল।
নাদিরা শুধু মাথা নাড়ল। তার কথা বলার শক্তিও যেন ফুরিয়ে আসছিল। তার চোখজোড়া তখনো জ্বলছিল, কিন্তু সেই দীপ্তি ছিল অন্যরকম, যেন ভেতরে এক প্রদীপের শেষ শিখা কাঁপছে।
“মা, আমার কবিতাগুলো আর পায়ের নূপুর যেন যেন হারিয়ে না যায়।”
নাদিরার গলাটা ক্ষীণ শোনাল। ফরিদা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। তার চোখ থেকে টপটপ করে জল পড়ছিল।
“হারাবে না, মা। তোর কিছু হবে না।”
কিন্তু ফরিদা জানত, তার মেয়ে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
একদিন সকালে, গ্রামের মানুষ জানতে পারল, নাদিরা আর নেই। কলকাতার এস.এস.কে.এম হাসপাতালে প্রায় একমাস মৃত্যুর সাথে লড়াই করতে করতে সে চলে গেল। গ্রামে যেন একটা গভীর আঁধার নেমে এলো। তার মা-বাবা, রেশমা, আর যারা তাকে চিনত, তারা শোকে পাথর হয়ে গেল। কিন্তু নাদিরার মৃত্যুর পর একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। রেশমা, নাদিরার সেই কবিতার খাতাটা নিয়ে গ্রামের মানুষের কাছে গেল। সে পড়তে শুরু করল নাদিরার কবিতা। প্রথমে একজন, তারপর দুজন, তারপর সারা গ্রাম। নাদিরার কবিতাগুলো যেন ঘুমন্ত মানুষের মনে এক নতুন আলো জ্বেলে দিল।
“আমাদের কোন সিংহাসন বা রাজ্যপাট নেই
বা কোন অট্টালিকা ও রঙিন সোনালি পাড়ের শাড়ি।
আছে শুধু দিন শেষে খসে যাওয়া ইচ্ছেতারা ও একটা রাত।”

রেশমা যখন এই লাইনগুলো পড়ছিল, তখন গ্রামের মানুষের চোখগুলো যেন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। নাদিরার কবিতাগুলো ছিল তাদেরই কথা, তাদেরই চাপা কষ্ট, তাদেরই স্বপ্ন। ধীরে ধীরে, সেই কবিতাগুলো গ্রামের গণ্ডি ছাড়িয়ে শহরে পৌঁছাল। একসময় একজন তরুণ লেখক, যিনি সমাজের পরিবর্তন নিয়ে কাজ করতেন, নাদিরার কবিতাগুলোর সন্ধান পেলেন। তিনি মুগ্ধ হলেন। নাদিরার কবিতাগুলো যেন তার নিজেরই ভাবনার প্রতিধ্বনি।
সেই লেখক, আমি, নাদিরার গ্রামে গেলাম। রেশমার সাথে কথা বললাম। নাদিরার বাবা-মায়ের ভাঙা ঘরের সামনে বসে তার কবিতাগুলো পড়লাম। আমার মনে হলো, নাদিরা মরেও মরেনি। তার প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি পঙক্তিতে সে যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, নাদিরার এই কবিতাগুলো ছাপাব। তার স্বপ্নগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেব।
নাদিরার কবিতার বইয়ের প্রচ্ছদ করার প্রস্তাব এলো আমার কাছে। পড়লাম তার “আয়ুহীন” শিরোনামের কবিতাগুলো। নাদিরার স্বপ্নগুলো শুধু কবিতায় নয়, মানুষের মনেও বাসা বাঁধতে শুরু করল। পরিবর্তন সম্ভব, যদি সম্মিলিত সাহস থাকে।
আজও আমি যখন নাদিরার কবিতার বই খুলি, তখন মনে হয় নাদিরা আমার পাশেই বসে আছে। তার সেই স্বপ্নালু চোখজোড়া, তার সেই ক্ষীণ হাসি। সে শরীরে নেই, কিন্তু তার আত্মা যেন মিশে আছে তার প্রতিটি পাঠকের হৃদয়ে। তার কবিতাগুলো শুধু কাগজের অক্ষর নয়, সেগুলো যেন এক অনন্ত অনুপ্রেরণা, এক নতুন সমাজের বীজ। নাদিরা সত্যি মরেও মরেনি, সে বেঁচে আছে। থাকবে তার কাব্যগ্রন্থের পাতায় পাতায়।🍁

 

 

পাঠকদের উদ্দেশ্যে👉

সাশ্রয় নিউজ -এর আজকের রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল শোক সংখ্যা। তাই সাশ্রয় নিউজ -এর এই সংখ্যায় কয়েকটি নিয়মিত বিভাগ রাখা হয়নি। আগামী সংখ্যা থেকে যথারীতি সেগুলি নিয়মিত প্রকাশিত হবে।  –সম্পাদক, সাশ্রয় নিউজ। রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল  

 

 

সম্পাদক : দেবব্রত সরকার | কার্যনির্বাহী সম্পাদক : সানি সরকার | এ সংখ্যার সম্পাদনা সহযোগী : রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ | অঙ্কন : প্রীতি দেব ও আন্তর্জালিক

 

এক নজরে 👉 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ। এছাড়াও রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর জন্য উপন্যাস, কবিতা (একধিক কবিতা পাঠালে ভালো হয়। সঙ্গে একটি লেখক পরিচিতি। গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, পুস্তক আলোচনা (আলোচনার জন্য দুই কপি বই পাঠাতে হবে), ভ্রমণ কাহিনী। লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর থাকতে হবে। অবশ্যই কোনও প্রিন্ট বা ডিজিটাল মাধ্যমে এমনকী  সোশ্যাল মিডিয়াতে বা পোর্টালে পূর্ব প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ই-মেল করে লেখা পাঠান। ই-মেল আই ডি : editor.sasrayanews@gmail.com

WhatsApp : 9531601335

বি: দ্র: সমস্ত লেখা লেখকের নিজস্ব। দায় লেখকের নিজস্ব। কোনও বিতর্কিত বিষয় হলে সংবাদ সংস্থা কোনওভাবেই দায়ী থাকবে না এবং সমর্থন করে না। কোনও আইনি জটিলতায় সাশ্রয় নিউজ চ্যানেল থাকে না। লেখক লেখিকা প্রত্যেকেই লেখার প্রতি দ্বায়িত্ববান হয়ে উঠুন। লেখা নির্বাচনে (মনোনয়ন ও অমনোনয়ন) সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

সম্পাদকীয় ঋণ : ‘মহামিলনের কথা’ বিভাগের লেখা আন্তর্জাল থেকে সংকলিত।

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন