Assam politics 2025, Himanta Biswa Sharma news | আসামে ঐতিহাসিক অধিবেশন: বহুবিবাহ ও লাভ-জিহাদ বিরোধী বিল আনছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বাস শর্মা

SHARE:

গোয়ালপাড়ার পবিত্র দ’দান থানে জনজাতীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষ বিভাগ চালু করল অসম সরকার। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রতিশ্রুত সুরক্ষা ও উন্নয়ন উদ্যোগ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি : আসাম রাজ্যজুড়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বাস শর্মা (Himanta Biswa Sharma)। সম্প্রতি একটি ঘোষণায় তিনি জানান, আগামী আসাম বিধানসভা অধিবেশন হবে ‘ঐতিহাসিক’, কারণ সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ বিল, ‘লাভ-জিহাদ’ বিরোধী আইন, আসামের বৈষ্ণব ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার জন্য ‘সাতরা সংরক্ষণ’ বিল এবং চা-বাগান শ্রমিকদের জমির অধিকার সংক্রান্ত আইন।মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত শর্মা নিজের সরকারি X (পূর্বের Twitter) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “পরবর্তী বিধানসভা অধিবেশন ঐতিহাসিক হবে, কারণ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করা হবে, বহুবিবাহ এবং লাভ জিহাদ নিষিদ্ধ করার বিল, আমাদের সাতরা সংরক্ষণের বিল এবং চা-বাগান শ্রমিকদের জমির অধিকার বিল।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা সামনে আসতেই আসাম রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অধিবেশন শুধু আইন প্রণয়নের নয়, তা আগামী রাজ্য রাজনীতির মোড় ঘোরানোর মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য যে, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নানা প্রশ্ন উঠছে, যেমন – এই আইনগুলো আসলে কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, আর কতটা ভোটের রাজনীতিকে সামনে রেখে তৈরি? কারণ, বহুবিবাহ ও লাভ-জিহাদ সংক্রান্ত আইন অতীতে ভারতের নানা রাজ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিজেপি (BJP) শাসিত উত্তর প্রদেশ (Uttar Pradesh) ও মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh) ‘লাভ-জিহাদ’ আইন ইতিমধ্যেই কার্যকর। এবার আসামও সেই পথে হাঁটছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিলগুলোর মূল বিষয়

>বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ বিল: এই আইনে একাধিক বিবাহ বা পলিগ্যামি (Polygamy) নিষিদ্ধ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “আসামের সামাজিক কাঠামোকে আধুনিক ও সমতাভিত্তিক করতে এই পদক্ষেপ জরুরি।”

>‘লাভ-জিহাদ’ বিরোধী বিল: এই আইনের লক্ষ্য ধর্মান্তর বা বিবাহের মাধ্যমে অন্য ধর্মে জোরপূর্বক রূপান্তর প্রতিরোধ করা। সরকার বলছে, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়, বরং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা।
>‘সাতরা সংরক্ষণ’ বিল: আসামের বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতীক এই সাতরা (Satras)। এই বিলের মাধ্যমে ওই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও অবৈধ দখল বা অনুপ্রবেশ না ঘটে।
>চা-বাগান শ্রমিকদের জমি অধিকার বিল:* আসামের চা-বাগান শ্রমিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে জমির অধিকার দাবি করে আসছে। এই বিলের মাধ্যমে তাদের নিজেদের বসবাসের জমির মালিকানা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ দীনেশ বড়ুয়া বলেন, “হিমন্ত শর্মা একদিকে ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পরিচয় রক্ষার বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে চা-বাগান শ্রমিকদের অধিকার স্বীকৃতি দিয়ে উন্নয়নের দিকও তুলে ধরছেন। এটি এক ধরণের ‘ডুয়াল পলিটিক্যাল ন্যারেটিভ’।” কিন্তু, বিরোধী দল কংগ্রেস (Congress) এই ঘোষণাকে রাজনৈতিক নাটক বলে কটাক্ষ করেছে। কংগ্রেস নেতা দেবব্রত শইকিয়া (Debabrata Saikia) বলেন, “চা-বাগান শ্রমিকদের জমির অধিকার নিয়ে আগেও অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা সবাই জানে।”

সামাজিক বিশ্লেষক অনন্যা শর্মা বলেন, “লাভ-জিহাদ বা বহুবিবাহ বিরোধী বিলের মতো সংবেদনশীল ইস্যু সমাজে মেরুকরণ ঘটাতে পারে। তবে সাতরা সংরক্ষণ ও জমির অধিকার বিলের মধ্যে বাস্তব উন্নয়নের সম্ভাবনা আছে।” সরকারি সূত্রের খবর, এই আইনগুলোর খসড়া ইতিমধ্যেই প্রস্তুত। আসন্ন অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিস্তারিত প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।

নতুন রাজনীতির দিকচিহ্ন 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসামের রাজনীতি এখন দ্বিমুখী পথে হাঁটছে, একদিকে ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ রক্ষার বার্তা, অন্যদিকে শ্রমজীবী শ্রেণির প্রতি দায়বদ্ধতা। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বাস শর্মার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত এই দুই প্রবণতারই প্রতিফলন। রাজনৈতিক মহল বলছে, এই পদক্ষেপ আসামের গ্রামীণ ও উপজাতি ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত চা-বাগান শ্রমিকদের মধ্যে জমির অধিকার নিশ্চিত হলে তা বড় ভোটার অংশের কাছে ইতিবাচক বার্তা হতে পারে।তবে বাস্তবে এই বিলগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে আইনসভায় এর পাস হওয়ার পর বাস্তবায়নের গতির ওপর। আসামবাসী এখন অপেক্ষায়, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব রূপ নেয়।

আসামের আসন্ন বিধানসভা অধিবেশন ঘিরে এখন প্রবল আগ্রহ। বহুবিবাহ, লাভ-জিহাদ, সাতরা সংরক্ষণ ও চা-বাগান শ্রমিকদের জমির অধিকার এই চারটি বিলই আসামের সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বাস শর্মার (Himanta Biswa Sharma) ঘোষণা অনুযায়ী, এই অধিবেশন সত্যিই হতে চলেছে ঐতিহাসিক। এখন সময়ই বলে দেবে, এই ‘ঐতিহাসিক’ অধিবেশন আসামবাসীর জীবনে কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনে।

ছবি : সংগৃহীত

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ সতেরো-তম কিস্তি)

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন