ASHA Workers Protest Kolkata, Chandrima Bhattacharya statement | ধর্মতলায় ব্যারিকেড টপকাতে গিয়ে উত্তেজনা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, আশাকর্মী আন্দোলন চরমে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার আশাকর্মীর (ASHA Workers) আন্দোলন বুধবার নতুন মোড় নিল। স্বাস্থ্যভবন অভিযানের ডাককে ঘিরে সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা ও রাজ্যের একাধিক জেলা। ধর্মতলা, হাওড়া, শিয়ালদহ থেকে শুরু করে সল্টলেক, সর্বত্রই পুলিশের সঙ্গে আশাকর্মীদের টানাপড়েন, ধস্তাধস্তি এবং ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা ঘিরে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) আগেই জানিয়েছিলেন, ‘ডেপুটেশন দিতে আসার প্রয়োজন নেই’। কিন্তু সেই বার্তা উপেক্ষা করেই বুধবার রাস্তায় নামেন আশাকর্মীরা।

বুধবার ভোর থেকেই স্বাস্থ্যভবন (Health Bhavan) ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়। বসানো হয় লোহার ব্যারিকেড, মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। পুলিশের মাইকিংয়ে বারবার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হলেও আশাকর্মীদের ক্ষোভ কমেনি। তাঁদের অভিযোগ, ন্যায্য দাবিগুলি দীর্ঘ দিন ধরে উপেক্ষিত হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাঁরা পথে নেমেছেন।
সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আশাকর্মীদের আটক করার অভিযোগ ওঠে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা থেকে ট্রেনে করে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন বহু আন্দোলনকারী। হাওড়া স্টেশন (Howrah Station) ও শিয়ালদহ স্টেশন (Sealdah Station)-এ পৌঁছনোর পরেই পুলিশ তাঁদের আটকে দেয় বলে অভিযোগ। স্টেশনের বাইরে বেরোতে না দিয়ে অনেককে ফিরতি ট্রেনে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদিও কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার পর কিছু আশাকর্মীকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয় পুলিশ, এবং সেখান থেকেই তাঁরা সল্টলেকের দিকে রওনা দেন।

শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার দিকে যাওয়া একটি মিছিল নিউ মার্কেট থানার (New Market Police Station) কাছে পৌঁছতেই ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করতেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। কয়েক জন আন্দোলনকারী মাটিতে বসে পড়ে স্লোগান দিতে থাকেন, আবার কেউ কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে ‘অত্যাচার’-এর অভিযোগ তোলেন। উল্লেখ্য, কলকাতা ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একই ছবি ধরা পড়ে। আসানসোল (Asansol), ডেবরা (Debra), বসিরহাট (Basirhat), বারুইপুর (Baruipur), রানিগঞ্জ (Raniganj), অন্ডাল (Andal), দুর্গাপুর (Durgapur), কাঁকসা (Kanksa) সর্বত্রই আশাকর্মীদের আটকানোর অভিযোগ সামনে আসে। উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) হিঙ্গলগঞ্জে (Hingalganj) চৈতালি সর্দার (Chaitali Sardar) নামে এক আশাকর্মীকে রাস্তা থেকে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে হিঙ্গলগঞ্জ থানার সামনে আশাকর্মীরা বিক্ষোভে শামিল হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।

পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Medinipur) ডেবরাতেও থানার ভিতরে বিক্ষোভ দেখান আশাকর্মীরা। অভিযোগ, কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় বাস ও ট্রেন থেকে নামিয়ে প্রায় ৬০ জন আশাকর্মীকে আটক করে ডেবরা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের দাবি, কোনও রকম লিখিত নোটিস ছাড়াই তাঁদের থানায় আটকে রাখা হয়েছে। সল্টলেকের স্বাস্থ্যভবনের বাইরে দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আশাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। ব্যারিকেডের ওপারে যেতে না পারলেও রাস্তায় বসেই তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান, ‘ন্যায্য মজুরি চাই’, ‘বকেয়া মেটাও’। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্য পুলিশ সর্বক্ষণ সতর্ক ছিল।
এই বিক্ষোভ স্থলেই পৌঁছন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় (Locket Chatterjee)। তবে তাঁকে দেখেই আন্দোলনকারীদের একাংশ ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এতে রাজনৈতিক রং আরও স্পষ্ট হয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

আশাকর্মীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে, স্থায়ী সম্মানিক ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা, অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া মেটানো এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এই দাবিতে তাঁরা গত ২৯ দিন ধরে রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতি পালন করছেন। বুধবার তাঁদের পরিকল্পনা ছিল স্বাস্থ্যভবনে গিয়ে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার, কিন্তু পুলিশের বাধায় সেই কর্মসূচী ভেস্তে যায়। এদিকে রাজ্য সরকার আশাকর্মীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘আশাকর্মীদের রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল। তাই রাজনৈতিক স্বার্থে পাতা কোনও ফাঁদে পা না দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ যদিও এই মন্তব্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে আন্দোলনকারীদের মধ্যে। প্রসঙ্গত, বুধবারের ঘটনা রাজ্যের প্রশাসন ও আশাকর্মীদের সম্পর্কের টানাপড়েনকে আরও প্রকট করে তুলল। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও তীব্র আকার নিতে পারে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছেন আশাকর্মী সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : ASHA Workers Movement in West Bengal | স্বাস্থ্যব্যবস্থার নীরব সৈনিকদের বিদ্রোহ, কলকাতা রাজপথে আশাকর্মীদের ক্ষোভ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন