Anup Bagchi HDFC Bank, HDFC Bank New CEO | তিন দশকের অভিজ্ঞতা এবার দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংকে, HDFC Bank -এর শীর্ষপদে অনুপ বাগচী

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দেশের বেসরকারি ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে বড় নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক (HDFC Bank)। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যাঙ্কিং, পুঁজিবাজার, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বিমা ক্ষেত্রে কাজ করা অনুপ বাগচী (Anup Bagchi) এবার দেশের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্কের শীর্ষ দায়িত্ব নিতে চলেছেন। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Reserve Bank of India বা RBI) তাঁর নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে তিন বছরের জন্য এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (Managing Director) এবং চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার (Chief Executive Officer) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা তাঁর। অনুপ বাগচীর এই নিয়োগ আসছে এমন এক সময়ে, যখন এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের বর্তমান এমডি ও সিইও শশীধর জগদীশন (Sashidhar Jagdishan) -এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। ২৬ অক্টোবর তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরের দিন থেকেই ব্যাঙ্কের শীর্ষ পদে বসবেন বাগচী। ফলে দেশের বেসরকারি ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় এই নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘিরে ইতিমধ্যেই নজর পড়েছে।

আরও পড়ুন : Rabi Season Fertiliser Stock India | রবি মরশুমে বড় স্বস্তি কৃষকদের, দুই বছরের সর্বোচ্চ সারের মজুত দেশে

আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রে অনুপ বাগচীর পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে আইসিআইসিআই গ্রুপে (ICICI Group) যোগ দেওয়ার মাধ্যমে। দীর্ঘ ৩৪ বছরের কাছাকাছি সময়ে তিনি গ্রুপটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় দায়িত্ব সামলেছেন। আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক (ICICI Bank), আইসিআইসিআই সিকিউরিটিজ (ICICI Securities) ও আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল লাইফ ইনস্যুরেন্স (ICICI Prudential Life Insurance), প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে অনুপ বাগচী আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল লাইফ ইনস্যুরেন্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কে ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (Executive Director) পদে ছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর দায়িত্বের পরিধি ছিল বেশ বড়। প্রথম দিকে খুচরো ব্যাঙ্কিং, ব্যবসায়িক ব্যাঙ্কিং এবং গ্রামীণ ব্যাঙ্কিংয়ের বিভিন্ন দিক দেখার দায়িত্ব ছিল তাঁর। পরবর্তী সময়ে তিনি ব্যাঙ্কের হোলসেল ব্যাঙ্কিং বা বৃহৎ কর্পোরেট গ্রাহকভিত্তিক ব্যবসার দায়িত্বও সামলান।

এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে বাগচীর কর্মজীবনের মূল্যায়নে জানানো হয়েছে, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কে তাঁর সময়ে খুচরো ব্যাঙ্কিং ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। লাভজনক বৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি ঋণের গুণমান এবং ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বের সময়েই আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের খুচরো গৃহঋণ পোর্টফোলিও প্রথমবার ২ লক্ষ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করে। এই সময়ের মধ্যেই ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে একাধিক বড় পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল। ২০১৬ সালে নোটবন্দীর (Demonetisation) পর দেশের ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছিল। নগদ লেনদেনের ধরনে পরিবর্তন, গ্রাহকদের ব্যাঙ্কে ভিড় এবং ডিজিটাল লেনদেনের দ্রুত প্রসার, সব মিলিয়ে ব্যাঙ্কগুলির সামনে তৈরি হয়েছিল বড় চ্যালেঞ্জ। আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক সেই সময় তুলনামূলক কম ব্যবসায়িক বিঘ্নের মধ্য দিয়ে পরিষেবা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল এবং সেই পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে বাগচীর ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।

আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের পাশাপাশি আইসিআইসিআই সিকিউরিটিজেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আইসিআইসিআই সিকিউরিটিজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির (ICICI Prudential Asset Management Company) চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন বাগচী। একই সময়ে আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল পেনশন ফান্ডস ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (ICICI Prudential Pension Funds Management Company) এবং আইসিআইসিআই হোম ফিন্যান্স (ICICI Home Finance) -এর বোর্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বিমা ব্যবসায় তাঁর বর্তমান নেতৃত্বের সময়টিও উল্লেখযোগ্য। আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল লাইফ ইনস্যুরেন্সের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্থাটির ব্যবসায় বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। ২০২৫ অর্থবর্ষে সংস্থার বার্ষিকীকৃত প্রিমিয়াম সমতুল্য বা APE (Annualised Premium Equivalent) প্রথমবার ১০ হাজার কোটি টাকার সীমা পার করে। ওই বছরে APE প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়ে ১০,৪০৭ কোটি টাকা হয়। একই সময়ে কর পরবর্তী মুনাফা বা PAT (Profit After Tax) প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে ১,১৮৯ কোটি টাকায় পৌঁছয়।

আরও পড়ুন : Narendra Modi BRICS bilateral meetings, Modi seven countries meeting | ব্রিক্‌সের শেষ দিনে মোদীর ম্যারাথন কূটনীতি, সাত দেশের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য-প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশে নজর

বাগচীর মেয়াদে বিমা সংস্থাটির সুরক্ষা-কেন্দ্রিক পণ্য ও নতুন ব্যবসা সংগ্রহের ক্ষেত্রেও বৃদ্ধি হয়েছে বলে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের প্রকাশিত তাঁর কর্মজীবনের প্রোফাইলে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি বিমা এবং পুঁজিবাজারে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত পরিচিতিকে আরও বিস্তৃত করেছে। এই লম্বা অভিজ্ঞতাই এখন এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের সামনে নতুন পর্যায়ের নেতৃত্বে কাজে লাগতে চলেছে। ১৯৯২ সালে আইসিআইসিআই গ্রুপে কর্মজীবন শুরু করা একজন পেশাদার তিন দশকের বেশি সময় পরে দেশের বৃহৎ বেসরকারি ব্যাঙ্কের এমডি ও সিইও হচ্ছেন। ফলে তাঁর নিয়োগকে শুধু একটি পদবদল হিসেবে দেখার পরিবর্তে আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে নিয়ে আসার ঘটনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের বোর্ড ইতিমধ্যেই বাগচীকে অতিরিক্ত ডিরেক্টর (Additional Director) হিসেবে নিয়োগ করেছে। ২ অক্টোবর থেকে সেই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। তবে এর জন্য শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন প্রয়োজন। একই ভাবে ২৭ অক্টোবর থেকে এমডি ও সিইও হিসেবে তাঁর তিন বছরের নিয়োগও শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের উপর নির্ভরশীল।

শীর্ষ পদে আসার আগে থেকেই এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের কার্যক্রম সম্পর্কে বাগচীর সামনে নতুন দায়িত্বের পরিসর তৈরি হচ্ছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাঙ্ক হিসেবে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের খুচরো ঋণ, কর্পোরেট ব্যাঙ্কিং, ডিজিটাল পরিষেবা, আমানত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন আর্থিক পণ্যের ব্যবসা রয়েছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে ব্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি বিমা ও পুঁজিবাজারের অভিজ্ঞতা কতটা কাজে লাগে, সেটিও আগামী দিনে নজরে থাকবে। অন্যদিকে, অনুপ বাগচীর শিক্ষাগত যোগ্যতাও তাঁর পেশাগত পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি কানপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (Indian Institute of Technology, Kanpur) থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পরে বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (Indian Institute of Management Bangalore) থেকে ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রি নেন। প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষার এই সমন্বয় তাঁর দীর্ঘ আর্থিক পরিষেবা জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে নতুন দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাগচীর সামনে অবশ্যই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকবে। ব্যাঙ্কিং ব্যবসায় প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার দ্রুত পরিবর্তন, ঋণের গুণমান বজায় রাখা, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং লাভজনক বৃদ্ধি ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে বিপুল গ্রাহকভিত্তি নিয়ে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের পরিষেবার মান ধরে রাখাও তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম বড় পরীক্ষা হতে পারে। তাঁর কর্মজীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, খুচরো ব্যাঙ্কিং থেকে হোলসেল ব্যাঙ্কিং, পুঁজিবাজার থেকে বিমা—আর্থিক পরিষেবার প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ১৯৯২ সালে আইসিআইসিআই গ্রুপে যোগ দেওয়ার পর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার সেই অভিজ্ঞতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে চলেছেন অনুপ বাগচী। ২৬ অক্টোবর শশীধর জগদীশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২৭ অক্টোবর এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু হবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমোদন ইতিমধ্যেই মিলেছে। এখন শেয়ারহোল্ডারদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি ব্যাঙ্ককে কোন পথে এগিয়ে নিয়ে যান অনুপ বাগচী, সেদিকেই নজর থাকবে ব্যাঙ্কিং মহলের।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Independence Day 2026 : তরুণদের হাতেই বিকশিত ভারতের স্বপ্ন, বছরে ১ কোটি যুবক-যুবতীকে এআই প্রশিক্ষণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন