সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : মহারাষ্ট্রের আকোলা পুরসভার নির্বাচনী রাজনীতিতে অভিনব ও ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী থাকল প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনে যেখানে বেশিরভাগ প্রার্থী নির্ধারিত জামানতের টাকা ব্যাঙ্ক ড্রাফট বা বড় নোটে জমা দেন, সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটলেন লোকতান্ত্রিক জনধর পার্টির (Loktantrik Jandhar Party) প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত আগরওয়াল (Laxmikant Agrawal)। জনতার দানে সংগৃহীত খুচরো কয়েন ও জীর্ণ নোটে ভরা এক বস্তা টাকা নিয়ে হাজির হয়ে তিনি এক মুহূর্তে বদলে দিলেন নির্বাচনী অফিসের চেনা ছবি।
আকোলা পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই প্রার্থী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকার জামানত জমা দিতে এসে টেবিলের উপর ঢেলে দেন ৫ ও ১০ টাকার রেজকি, সঙ্গে ১০, ২০, ৫০ এবং ৫০০ টাকার পুরনো ও কিছুটা ছেঁড়াফাটা নোট। মুহূর্তের মধ্যে টেবিলের উপর তৈরি হয় খুচরো টাকার স্তূপ। দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) কর্মীরা। নিয়ম মেনে টাকা গ্রহণ করতে হলেও এত বিপুল সংখ্যক কয়েন ও ছোট নোট গুনতে গিয়ে তাঁদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। প্রথমে বিষয়টি নিছক কৌতূহলের জন্ম দিলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাটি রূপ নেয় আলোচনার কেন্দ্রে। চার-পাঁচ জন কর্মী একসঙ্গে বসে দীর্ঘ সময় ধরে ওই টাকা গুনতে থাকেন। কয়েনের ঠনঠন শব্দ আর নোট গোনার ব্যস্ততায় নির্বাচনী অফিসের পরিবেশ বদলে যায়। উপস্থিত অন্যান্য প্রার্থী, তাঁদের সমর্থক এবং সাধারণ মানুষও ভিড় করে সেই দৃশ্য দেখার জন্য। অনেকেই মোবাইলে ভিডিও করেন, যা পরে সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা কারণ জানতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন লক্ষ্মীকান্ত আগরওয়াল (Laxmikant Agrawal)। তিনি জানান, তাঁর এই পদক্ষেপ কোনও নাটক বা প্রচারের কৌশল নয়, এটি জনতার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতারই নিদর্শন। তাঁর কথায়, ‘এই পাঁচ হাজার টাকা আমার ব্যক্তিগত অর্থ নয়। প্রতিটি কয়েন ও নোট এসেছে সাধারণ মানুষের দান থেকে। কেউ পাঁচ টাকা দিয়েছে, কেউ দশ টাকা, কেউ আবার সামান্য সঞ্চয় থেকে কিছু তুলে দিয়েছে। এই টাকায় তাঁদের বিশ্বাস, তাঁদের আশা জড়িয়ে আছে।’ প্রার্থীর দাবি, রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। বড় দল, বড় প্রার্থী এবং বিপুল খরচের মাঝে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায়। সেই বাস্তবতাকেই সামনে আনতে তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে জনতার দেওয়া খুচরো টাকা দিয়েই জামানত জমা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘জনগণই আমার শক্তি। তাই তাঁদের দেওয়া টাকাতেই আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে দাঁড়াতে চেয়েছি।’
লক্ষ্মীকান্ত আরও বলেন, যদি তিনি নির্বাচনে জয়ী হন, তা হলে এই অর্থ তিনি কোনও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করবেন না। উন্নয়নমূলক কাজে জনতার স্বার্থেই তিনি এই দানের প্রতিদান দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তাঁর মতে, এই খুচরো টাকা কেবল অর্থমূল্যে নয়, নৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত মূল্যবান। কারণ, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাধারণ মানুষের আস্থা ও সমর্থন।
এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন ফেলেছে। কেউ একে অভিনব প্রতিবাদ বলে আখ্যা দিচ্ছেন, কেউ আবার বলছেন, এটি বর্তমান রাজনীতির অর্থনির্ভরতার বিরুদ্ধে এক নীরব বার্তা। সমাজমাধ্যমে অনেকেই লক্ষ্মীকান্ত আগরওয়ালের প্রশংসা করে লিখেছেন, এমন পদক্ষেপ রাজনীতিকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। আবার সমালোচকরাও রয়েছেন, যাঁদের মতে এটি নিছকই নজর কাড়ার চেষ্টা। তবে বিতর্ক যাই হোক, আকোলা পুরসভা নির্বাচনের প্রচারের শুরুতেই এই ঘটনা যে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
তবে নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা নিয়ম মেনেই সমস্ত টাকা গুনে গ্রহণ করেন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, জমা দেওয়া টাকার বৈধতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি, কারণ পরিমাণ ঠিক ছিল এবং নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য। তবে এত বিপুল খুচরো নিয়ে এর আগে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তাঁরা খুব একটা হননি।
সার্বিক ভাবে এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, নির্বাচন কেবল ভোটের অঙ্ক নয়, কখনও কখনও তা প্রতীকের লড়াইও। জনতার রেজকি দিয়ে জামানত জমা দিয়ে লক্ষ্মীকান্ত আগরওয়াল (Laxmikant Agrawal) যে বার্তা দিতে চেয়েছেন, তা কতটা ভোটে প্রতিফলিত হবে, তার উত্তর দেবে সময়ই। তবে আপাতত আকোলা পুরসভা নির্বাচন এই ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্য রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Rajasthan mobile ban, camera phone ban for women | প্রজাতন্ত্র দিবস থেকে ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল নিষিদ্ধ! রাজস্থানের গ্রাম পঞ্চায়েতের ফরমান ঘিরে তীব্র বিতর্ক




