সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতের তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) যেন নিজের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিলেন। পার্থ (Perth) এবং ব্রিসবেনের (Brisbane) দুই প্রান্তেই বৃষ্টি খেল নষ্ট করলেও, পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফল নির্ধারণে তাতে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। ভারত ইতিমধ্যেই সিরিজ জিতে নিয়েছে, আর সিরিজের সেরা হয়েছেন এই তরুণ ব্যাটার। তাঁর মুখে এখন একটাই স্বপ্ন, “বিশ্বকাপ জেতা।”
অভিষেক বলেছেন, “বিশ্বকাপে খেলতে পারলে আমার জীবনের স্বপ্ন পূরণ হবে। ছোটবেলায় ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখতাম। এখন সেই স্বপ্নের আরও কাছে পৌঁছে গিয়েছি। নিজের খেলা আরও উন্নত করতে চাই, যাতে দেশের জন্য কিছু করতে পারি।” এই সিরিজে ১৬৩ রান করে তিনি নজর কেড়েছেন নির্বাচকদেরও। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং, পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা, আর আত্মবিশ্বাসী শট সিলেকশন তাঁকে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে এক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে।
অভিষেক বলেন, “অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করছিলাম। অস্ট্রেলিয়ার পিচ বরাবরই ব্যাটিং সহায়ক। তাই আমি জানতাম, সুযোগ এলে বড় ইনিংস খেলতে হবে। বিপক্ষ বোলারদের মানসিকতা ও পরিবেশ মাথায় রেখেই প্র্যাকটিস করেছি।” বিশ্বমানের বোলারদের মুখোমুখি হওয়া নিয়েও তাঁর কোনো ভয় নেই। বরং সেটাই তাঁকে তাড়িত করেছে আরও ভালো খেলার জন্য। “যখন বিশ্বসেরা বোলারদের বিরুদ্ধে খেলি, তখন নিজের খেলা আরও শানিত হয়। ভয় না পেয়ে আমি বরাবরই আক্রমণাত্মক মনোভাব ধরে রাখতে চেয়েছি,” বলেন অভিষেক।
তাঁর এই উত্থান এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে (Suryakumar Yadav)। কারণ, ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে এখন এত বেশি প্রতিযোগিতা যে, কাকে রেখে কাকে বাদ দেওয়া হবে, তা একপ্রকার “মাথাব্যথা” হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূর্যকুমার সাংবাদিকদের বলেন, “এই মাথাব্যথা খারাপ নয়, বরং ভালো। কারণ হাতে অনেক বিকল্প আছে। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa) এবং নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) মতো দলগুলির বিরুদ্ধে খেলায় আমরা বিভিন্ন কম্বিনেশন ট্রাই করতে পারব। ফলে বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলা একদিকে যেমন কঠিন, তেমনি তীব্র উদ্দীপনাও আছে। আমাদের মহিলা দল যেমন বিশ্বকাপ জিতে দেখিয়েছে, তেমনই আমরা চাই দর্শকদের সেই আবেগ ফেরাতে। উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট খেলাই আমাদের লক্ষ্য।”
অভিষেক শর্মা জানিয়েছেন, কোচ এবং অধিনায়ক তাঁকে স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ দিয়েছেন, যা তাঁকে নিজের স্টাইল বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। তাঁর কথায়, “২০ বা ৩০ রানে পৌঁছলে আমি সব সময় বড় ইনিংস খেলতে চাই। তবে শুরুটা ভাল করা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। আত্মবিশ্বাস পেলে ইনিংস লম্বা হয়, দলকেও সেটি সাহায্য করে।” সূর্যকুমারও প্রশংসা করেছেন অভিষেকের পারফরম্যান্সের। ভারতীয় অধিনায়কের মতে, “অভিষেকের মানসিক দৃঢ়তা ও শট খেলার সাহস অসাধারণ। ওর মতো ক্রিকেটাররাই ভবিষ্যতে ভারতের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
ক্রীড়া সমালোচকদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন কন্ডিশনে এই তরুণের পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, তিনি এখন শুধুই প্রতিভা নন, একজন সম্ভাব্য ম্যাচউইনার। এখন তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ, এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিশ্বকাপের দলগঠনের আলোচনায় নিজের জায়গা পাকা করা।
অন্যদিকে সূর্যকুমার যাদবের সামনে চ্যালেঞ্জ, এক ঝাঁক প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের মধ্যে সেরা কম্বিনেশন খুঁজে বের করা। কারণ বিশ্বকাপের আগে সময় কম, কিন্তু সম্ভাবনার ঝুড়ি অনেক বড়।
অভিষেকের ব্যাটে ভারতের ভবিষ্যৎ হয়ত নতুন সুরে লেখা শুরু হয়েছে। তাঁর আত্মবিশ্বাসী হাসি আর ‘বিশ্বজয়ের’ স্বপ্নে এখন রঙ ছড়াচ্ছে ভারতের টি-টোয়েন্টি ড্রেসিংরুম।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana, World Cup victory | স্মৃতি মন্ধানার চোখের জল! বিশ্বকাপ জয়ের পর আবেগে ভাসলেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা




