শোভনা মাইতি ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : বলিউডে তারকাসন্তান মানেই আলোচনার কেন্দ্রে। কেউ অভিনয়ে আসেন, কেউ আবার ইন্ডাস্ট্রির বাইরে নিজের আলাদা রাস্তা বেছে নেন। ঠিক তেমনই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ অক্ষয় কুমার ও টুইঙ্কল খান্না (Twinkle Khanna) -এর পুত্র আরভ ভাটিয়া (Aarav Bhatia)। অভিনয়ের জগৎ থেকে বহু যোজন দূরে থাকা এই ২৩ বছরের যুবককে ঘিরেই এখন উদ্বেগে ভুগছেন তাঁর মা টুইঙ্কল। বিশেষ করে ছেলের প্রেমজীবন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী-লেখিকা।
২০০২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ে জন্ম আরভের। তারকাপুত্র হলেও ছোটবেলা থেকেই লাইমলাইটের বাইরে থাকতেই পছন্দ করেছে। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বাবা-মায়ের ছায়া ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দেয় আরভ। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথমে সিঙ্গাপুরে যান। সেখানকার একটি নামী কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করার পর ফ্যাশন নিয়ে পড়াশোনা করতে লন্ডনে চলে যান। বর্তমানে মুম্বই নয়, বিদেশেই তাঁর স্থায়ী বসবাস। এই দূরত্বই কি মায়ের উদ্বেগের অন্যতম কারণ? বলিপাড়ায় এমনটাই কানাঘুষো। অক্ষয় কুমার বা টুইঙ্কল খান্নার মতো জনপ্রিয় বাবা-মা থাকা সত্ত্বেও অভিনয়ে আসার কোনও আগ্রহ নেই আরভের। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতেই নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে চান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, এই সিদ্ধান্তের কথা বাবা-মাকে আগেই জানিয়েছেন আরভ। তাঁরা দু’জনেই ছেলের পছন্দকে সম্মান করেন। তবে অভিনয় নয়, অন্য পেশা বেছে নেওয়ার থেকেও বড় চিন্তার জায়গা হয়ে উঠেছে আরভের ব্যক্তিত্ব।

টুইঙ্কল নিজেই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে অত্যন্ত সাদাসিধে ও শান্ত স্বভাবের।
সহজ-সরল মনের মানুষ হওয়াতেই নাকি সমস্যা। অভিনেত্রীর কথায়, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলে খুব নরম মনের। কারও সঙ্গে সহজেই বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলে। আর সেই কারণেই ভয় হয়, কেউ ওর ভালমানুষির সুযোগ নিয়ে নিতে পারে।’ বিশেষ করে প্রেমজীবন ও বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেই এই আশঙ্কা আরও বেশি বলে জানিয়েছেন। বিদেশে একা থাকা, নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ সমস্ত কিছু নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মা হিসেবে চিন্তিত টুইঙ্কল। তাঁর আশঙ্কা, আরভের সরল স্বভাবের সুযোগ নিয়ে কেউ তাকে মানসিক ভাবে আঘাত করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় ওকে সাবধান করে দিই। বলি, নিজের চারপাশে একটা সীমানা টেনে রাখতে। সবাইকে সব কথা বলা বা অন্ধ বিশ্বাস করা ঠিক নয়।’ তবে এই সাবধানবাণী দিলেও ছেলের উপর অযথা চাপ দিতে চান না বলেও জানিয়েছেন।

আরভের ব্যক্তিত্বের আর একটি দিক হল তাঁর শরীরচর্চার প্রতি গভীর আগ্রহ। বাবার মতোই ফিটনেসের দিকে ছোটবেলা থেকেই মনোযোগী তিনি। মাত্র চার বছর বয়স থেকেই মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করে আরভ। পরবর্তী কালে দু’ধরনের বিশেষ ক্যারাটে প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করে ‘ব্ল্যাক বেল্ট’ অর্জন করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, জাতীয় স্তরের জুডো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ীও হয়েছেন। এই সাফল্য প্রমাণ করে, শারীরিক ভাবে তিনি যথেষ্ট শক্তপোক্ত। কিন্তু টুইঙ্কলের চিন্তা শারীরিক নয়, মানসিক দিক নিয়েই। বলিউডে যেখানে তারকাসন্তানদের প্রেমজীবন প্রায়ই শিরোনামে উঠে আসে, সেখানে আরভ বরাবরই নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। সমাজমাধ্যম থেকেও দূরে থাকেন তিনি। খুব কম ছবিই প্রকাশ্যে আসে। সেই গোপনীয়তাই হয়তো টুইঙ্কলের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। ছেলে কী ভাবে জীবনযাপন করছে, কার সঙ্গে মিশছে, সব কিছু তো আর চোখের সামনে দেখা সম্ভব নয়। কিন্তু, টুইঙ্কল খান্না বরাবরই স্পষ্টভাষী। ছেলেকে নিয়ে তাঁর এই উদ্বেগও কোনও রাখঢাক না রেখেই প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ‘আজকের দুনিয়ায় ভাল মানুষ হওয়াটা অনেক সময় দুর্বলতা হিসেবে ধরা হয়। আরভ যেন সেটা বুঝতে শেখে, সেটাই চাই।’ এক দিকে যেমন তিনি ছেলের সরলতা নিয়ে গর্বিত, অন্য দিকে তেমনই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার শিক্ষা দিতেও চান। উল্লেখ্য, ২৩ বছরের আরভ ভাটিয়া আজও তারকাসন্তানদের ভিড়ে একেবারেই আলাদা। অভিনয় নয়, ফ্যাশন আর নিজের পছন্দের জীবনই তাঁর লক্ষ্য। তবে সেই পথচলায় ছেলের প্রেমজীবন ও সম্পর্ক নিয়ে একজন মায়ের স্বাভাবিক উদ্বেগ যেন বারবার প্রকাশ্যে আসছে টুইঙ্কল খান্নার কথায়। সময়ই বলবে, এই সরল স্বভাবের যুবক জীবনের কোন পথে এগিয়ে যান।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Twinkle Khanna at 52: From Bollywood Star to Bestselling Author and Producer | ৫২ -তে টুইঙ্কল খান্না: রুপোলি পর্দা ছেড়ে কলম ও কনটেন্টের দুনিয়ায় স্বতন্ত্র সত্তার জয়যাত্রা




