শান্তিনিকেতনে ‘বসন্ত বন্দনা’
সাশ্রয় নিউজ ★ শান্তিনিকেতন : শান্তিনিকেতনের বসস্ত উৎসবকে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ‘বসন্ত তাণ্ডব’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তার কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘বহিরাগতরা এসে আইনশৃঙ্খলা ভাঙেন’! বিশ্বভারতীর পক্ষে উপাচার্য জানিয়েছিলেন, ‘বসন্ত বন্দনা’-এর কথা।

সেই ঘোষণা আজ শুক্রবার বিশ্বভারতী প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হল, ‘ বসন্ত বন্দনা’। ওই আয়োজনে কেবলমাত্র ছাত্র-ছাত্রী, অধ্যাপক-অধ্যাপিকারাই অংশ গ্রহণ করার অনুমতি ছিল। এমনকী সংবাদমাধ্যমেরও প্রবেশাধিকার ছিল না। বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীরা অকপটে জানান, আমরা ‘বসন্ত বন্দনা ‘ করলাম ঠিকই কিন্তু ম্রিয়মাণ মনে হল।

আশ্রমিক ও প্রাক্তনীরা বিশ্বভারতীর এই সিদ্ধান্তে খুশি নন। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্বভারতী প্রাঙ্গণে বসন্ত উৎসব সমগ্র বিশ্বের কাছে ঐতিহ্য বহন করে।

আশ্রমিক, বর্তমান ও প্রাক্তনীরা বসন্ত উৎসব-এর জন্য প্রতিবছর অপেক্ষা করে থাকেন। দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ শুধুমাত্র বসন্ত উৎসব-এর টানে শান্তিনিকেতন আসেন। এই উৎসবে সকলের অংশ গ্রহণ করার অধিকার আছে। বহু প্রাক্তনী প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কেন আশ্রমিকদের আমন্ত্রণ জানানো হল না? কেন প্রাক্তনীদের, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হল? এ বিষয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

কোভিড অতিমারীর ফলে বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসব বন্ধ ছিল। তার ফলে পর্যটন শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গাড়ি চালক, হোটেল ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বেঁধে ছিলেন, এবছর হয়ত শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব উপলক্ষ্যে পর্যটকরা আসবেন। পসরা সাজিয়ে বসতে পারবেন গ্রাম বাংলা থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তা হয়নি। উল্টে বিশ্ব দেখল, শান্তিনিকেতন-এ অকাল বসন্ত! কবে ফিরবে আবার সেই দিন? এক বুক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে পথ-চেয়ে থাকল বসন্ত-প্রেমীরা!




