ISRO Five Major Missions, Gaganyaan-1 Mission | বছর শেষের আগেই মহাকাশে পাঁচ বড় অভিযান! গগনযান-১ ঘিরে বাড়ছে ভারতের প্রস্তুতি

SHARE:

ইসরোর গগনযান-১ মানববিহীন মহাকাশ অভিযান এবং পিএসএলভি ও এসএসএলভি উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : চলতি আর্থিক বছর শেষ হওয়ার আগেই মহাকাশ গবেষণায় একের পর এক বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারত। অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উৎক্ষেপণ ও পরীক্ষামূলক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)। এই তালিকায় রয়েছে দু’টি পিএসএলভি (PSLV) উৎক্ষেপণ, দু’টি এসএসএলভি (SSLV) অভিযান, বেসরকারি সংস্থার একটি রকেট উৎক্ষেপণ এবং বহু প্রতীক্ষিত গগনযান-১ (Gaganyaan-1) মিশন। দেশের প্রথম মানববিহীন মানব মহাকাশযাত্রার পরীক্ষামূলক অভিযান হিসেবে গগনযান-১ বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে। এই মিশনে কোনও নভোচারী থাকবেন না, কিন্তু ভবিষ্যতে ভারতীয় মহাকাশচারীদের মহাকাশে পাঠানোর আগে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করা হবে। ইসরোর চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণনের (V. Narayanan) ঘোষণার পর ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির আগামী কয়েক মাসের ব্যস্ত সূচি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সফল জিএসএলভি (GSLV) উৎক্ষেপণের পরই আগামী কর্মসূচীর কথা জানিয়েছেন ইসরোর চেয়ারম্যান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি আর্থিক বছরের অবশিষ্ট সময়ে একাধিক অভিযান সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে সংস্থার। এই পরিকল্পনায় সরকারি মহাকাশ কর্মসূচীর পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণও রাখা হয়েছে। ফলে ভারতের মহাকাশ গবেষণায় শুধু সরকারি পরিকাঠামোর উপর নির্ভরতা নয়, দেশীয় বেসরকারি শিল্পের সক্ষমতাকেও কাজে লাগানোর চেষ্টা আরও জোরদার হচ্ছে। একদিকে বৈজ্ঞানিক ও বাণিজ্যিক উপগ্রহ কক্ষপথে পাঠানোর প্রস্তুতি, অন্যদিকে মানব মহাকাশযাত্রার প্রযুক্তি যাচাই, দুই ক্ষেত্রেই আগামী সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন : ISRO Privatization News, ISRO Chairman V Narayanan Statement | ইসরোর বেসরকারিকরণ নয়, কর্মীদের আশ্বাস চেয়ারম্যান নারায়ণনের, ‘উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই’

ঘোষিত কর্মসূচীর অন্যতম অংশ পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল বা পিএসএলভি। দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে এই রকেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পৃথিবীর বিভিন্ন কক্ষপথে বৈজ্ঞানিক, পর্যবেক্ষণমূলক ও বাণিজ্যিক উপগ্রহ পাঠানোর কাজে পিএসএলভি ব্যবহার করা হয়। নতুন পরিকল্পনায় আরও দু’টি পিএসএলভি মিশন রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট উপগ্রহগুলিকে প্রয়োজনীয় কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়াই এই উৎক্ষেপণগুলির মূল লক্ষ্য। দেশের নিজস্ব উৎক্ষেপণ সক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারেও ভারতের অবস্থান ধরে রাখতে এই ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। পিএসএলভির পাশাপাশি দু’টি স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল বা এসএসএলভি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ছোট আকারের উপগ্রহ দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে মহাকাশে পাঠানোর প্রয়োজন থেকেই এই রকেটের উন্নয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ, আবহাওয়া-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং নানা বাণিজ্যিক প্রয়োজনে ছোট উপগ্রহের ব্যবহার বাড়ছে। সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে এসএসএলভি ভারতের মহাকাশ কর্মসূচীতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিতে পারে। বড় রকেটের তুলনায় ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য আলাদা পরিষেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও আছে।

ইসরোর পরিকল্পনায় বেসরকারি খাতের একটি উৎক্ষেপণও রয়েছে। ভারতের মহাকাশ শিল্পে বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা ক্রমশ বাড়ছে। আগে মহাকাশযান ও রকেট তৈরির অধিকাংশ কাজ সরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হলেও এখন দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপগুলিও এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি উন্নয়নে এগিয়ে আসছে। বেসরকারি সংস্থার নিজস্ব উৎক্ষেপণ সফল হলে দেশের মহাকাশ অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। রকেট নির্মাণ, উপগ্রহ তৈরি, উৎক্ষেপণ পরিষেবা এবং মহাকাশভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এই পাঁচ বড় কর্মসূচীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে গগনযান-১। ভারতের মানব মহাকাশযাত্রা কর্মসূচির প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক অভিযান এটি। এই মিশনে মহাকাশযানে কোনও নভোচারী থাকবেন না। মানুষের পরিবর্তে পরীক্ষামূলক ব্যবস্থার সাহায্যে মহাকাশযানের বিভিন্ন প্রযুক্তি যাচাই করা হবে। ভবিষ্যতে ভারতীয় নভোচারীদের পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানোর আগে যে সমস্ত নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত ব্যবস্থা নির্ভরযোগ্য হওয়া প্রয়োজন, সেগুলির কার্যকারিতা পরীক্ষা করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন : Udit Narayan uterus removal allegation | উদিত নারায়ণ বিরুদ্ধে জরায়ু অপসারণ অভিযোগ

গগনযান-১ মিশনে জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা, ক্রু এস্কেপ সিস্টেম এবং পৃথিবীতে ফিরে আসার প্রযুক্তির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হবে। মহাকাশযান উৎক্ষেপণের সময় কোনও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলে নভোচারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ক্রু এস্কেপ সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসার সময় প্রচণ্ড তাপ ও চাপের মুখে পড়ে। সেই পরিস্থিতি সামলে নিরাপদে অবতরণ করতে পারা মানব মহাকাশযাত্রার অন্যতম কঠিন ধাপ। গগনযান-১-এর পরীক্ষায় এই ব্যবস্থাগুলির কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। উল্লেখ্য যে, মানব মহাকাশযাত্রার ক্ষেত্রে শুধু রকেটের মাধ্যমে মহাকাশযানকে কক্ষপথে পাঠানোই যথেষ্ট নয়। উৎক্ষেপণের আগে, উড়ানের সময় ও পৃথিবীতে ফেরার পর প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। মহাকাশযানের ভিতরে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থাও নির্ভরযোগ্য হওয়া প্রয়োজন। গগনযান কর্মসূচীর পরীক্ষাগুলিতে এই সমস্ত প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাইয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই মানববিহীন এই অভিযান ভবিষ্যতের মানববাহী উড়ানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিপর্ব।

ইতিমধ্যেই গগনযান কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন স্থলভিত্তিক পরীক্ষা এবং এয়ার ড্রপ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এয়ার ড্রপ পরীক্ষার মাধ্যমে মহাকাশযানের অবতরণ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা যাচাই করা হয়। ভবিষ্যতে মহাকাশযান পৃথিবীতে ফিরে এলে সেটিকে নিরাপদে নামানোর জন্য প্যারাশুটসহ একাধিক প্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ করবে। এই ধরনের পরীক্ষা থেকে পাওয়া তথ্য পরবর্তী পর্যায়ের নকশা ও প্রস্তুতিতে কাজে লাগবে। গগনযান-১-এর মাধ্যমে মহাকাশযানের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ের কাজ আরও এগোবে। ইসরোর চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণনের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসে পরিকল্পিত অভিযানগুলি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যদিও প্রতিটি উৎক্ষেপণের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এবং উপগ্রহের বিস্তারিত পরিচয় ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি, তবু একটি আর্থিক বছরের মধ্যে এতগুলি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী সম্পন্ন করার পরিকল্পনা সংস্থার ব্যস্ততার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উৎক্ষেপণের আগে রকেটের বিভিন্ন অংশের পরীক্ষা, উপগ্রহের প্রস্তুতি, উৎক্ষেপণযানের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ এবং আবহাওয়াসহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করতে হয়। ফলে নির্ধারিত সময়সূচী বজায় রাখতে প্রতিটি পর্যায়ে সমন্বয় জরুরি।

আরও পড়ুন : NASA’s ESCAPADE Mars Mission to Launch on Blue Origin’s New Glenn Rocket | মঙ্গলের পথে নাসার যুগল মহাকাশযান, নিউ গ্লেন রকেটে ইতিহাস গড়ছে ব্লু অরিজিন

ভারতের মহাকাশ কর্মসূচীতে পিএসএলভি, এসএসএলভি ও গগনযানের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ নতুন মাত্রা যোগ করছে। একদিকে পিএসএলভি তুলনামূলক বড় ও বিভিন্ন ধরনের উপগ্রহ উৎক্ষেপণে ব্যবহৃত হচ্ছে, অন্যদিকে এসএসএলভি ছোট উপগ্রহের বাজারে পরিষেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। বেসরকারি সংস্থার নিজস্ব উৎক্ষেপণ সক্ষমতা বাড়লে আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরিষেবা দেওয়ার পথ খুলতে পারে। এতে ভারতের মহাকাশ শিল্পে প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের পরিসরও বাড়বে। বিশ্বের মহাকাশ গবেষণায় এখন বাণিজ্যিক পরিষেবা, ছোট উপগ্রহ ও মানব মহাকাশযাত্রা, তিনটি ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে যেমন প্রযুক্তিগত উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তেমনই আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের জায়গা শক্ত করার চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ইসরোর নিজস্ব রকেট প্রযুক্তি ও দীর্ঘদিনের উৎক্ষেপণ অভিজ্ঞতা এই ক্ষেত্রে বড় সম্পদ। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলিকে যুক্ত করার ফলে উৎপাদন ও পরিষেবার পরিসর বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে এই অগ্রগতির জন্য উৎক্ষেপণের ধারাবাহিক সাফল্য, প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা এবং বাণিজ্যিক পরিষেবার মান বজায় রাখা জরুরি।

গগনযান-১ সফল হলে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হবে। তবে মানববাহী মহাকাশযাত্রার আগে আরও একাধিক পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তাই এই মানববিহীন অভিযানকে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে না দেখে বৃহত্তর কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহাকাশযানের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারব্যবস্থা ও বিভিন্ন প্রযুক্তির কার্যকারিতা সম্পর্কে পাওয়া তথ্য পরবর্তী মিশনের প্রস্তুতিতে কাজে লাগবে। বছর শেষের আগে পাঁচটি বড় অভিযানের পরিকল্পনা তাই কেবল উৎক্ষেপণের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের নিজস্ব মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়ন, বেসরকারি শিল্পের প্রসার এবং মানব মহাকাশযাত্রার দীর্ঘ প্রস্তুতি। পিএসএলভি ও এসএসএলভির মাধ্যমে উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ ও গগনযান-১-এর পরীক্ষামূলক উড়ান, প্রতিটি কর্মসূচির ফলের দিকে নজর থাকবে মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত মহলের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযানগুলি সফলভাবে সম্পন্ন হলে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kolkata International Film Festival 2026, 32nd KIFF | কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে এবার আন্তর্জাতিক চমক! ফোকাস দেশ আয়ারল্যান্ড, অতিথি তালিকায় অক্ষয়-সঞ্জয় থেকে জনি লিভার

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন