সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ কলকাতা : মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগে (Women’s Premier League বা WPL) দলের সংখ্যা বাড়ানোর ভাবনাচিন্তা শুরু করতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (Board of Control for Cricket in India বা BCCI)। ২০২৩ সালে পথচলা শুরু হওয়ার পর থেকে পাঁচটি দল নিয়েই আয়োজিত হয় এই প্রতিযোগিতা। তবে মহিলা ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে আগামী দিনে প্রতিযোগিতার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিতে পারে বোর্ড। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ শাইকীয়া (Devajit Saikia)। তাঁর বক্তব্যে নতুন দলের সম্ভাবনা ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রিকেটমহলে। বিশেষ করে কলকাতা (Kolkata) থেকে কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি WPL-এ অংশ নিতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালে পাঁচটি দল নিয়ে শুরু হয়েছিল মেয়েদের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে WPL। প্রথম মরসুম থেকেই প্রতিযোগিতার ম্যাচ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ দেখা গিয়েছে।
মহিলা ক্রিকেটের প্রচার, দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের এক মঞ্চে খেলার সুযোগ ও ফ্র্যাঞ্চাইজ়িভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, এসব মিলিয়ে লিগটি ভারতীয় ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করেছে। তবে এত দিন প্রতিযোগিতায় দলের সংখ্যা বাড়েনি। এবার সেই কাঠামো বদলের সম্ভাবনা নিয়ে মুখ খুলেছে বোর্ড। WPL-এর মিনি নিলাম শেষ হওয়ার পর দেবজিৎ শাইকীয়া জানিয়েছেন, দলের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আগামী বছর থেকে একাধিক দফায় আলোচনা হতে পারে। শুধু নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি যুক্ত করলেই যে বিষয়টির সমাধান হবে, তা নয়। প্রতিযোগিতার সামগ্রিক কাঠামো, পরিচালনা ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় লোকবলের বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। শাইকীয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, ক্রিকেটারদের পাশাপাশি কোচ, নির্বাচক ও প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য অংশীদারদের বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে। বোর্ড সচিবের কথায়, ‘কী ভাবে দলের সংখ্যা বাড়ানো যায় এবং কোন কোন ক্ষেত্রে আরও উন্নতি করা সম্ভব, তা নিয়ে আগামী বছর থেকে আমরা কয়েক দফায় আলোচনা করব। শুধু ক্রিকেটারদের বিষয় নয়, এর সঙ্গে কোচ, নির্বাচক এবং আরও অনেক অংশীদার যুক্ত রয়েছেন।’ তাঁর এই মন্তব্যের পর WPL-এর ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়ে প্রত্যাশা বেড়েছে। যদিও কবে নতুন দল যুক্ত হবে, কতগুলি দল বাড়তে পারে কিংবা কোন কোন শহর নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি পেতে পারে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
মহিলা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে WPL-এর বিস্তারের বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে নজর কেড়েছে। বড় প্রতিযোগিতায় সাফল্য, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দর্শকদের উপস্থিতি ও টেলিভিশন ও ডিজিটাল মাধ্যমে মহিলা ক্রিকেটের সম্প্রচার, সব ক্ষেত্রেই আগ্রহ বেড়েছে। গত বছর ভারতীয় মহিলা দলের বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের মহিলা ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের প্রতি সাধারণ দর্শকের দৃষ্টি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে WPL-এ দলের সংখ্যা বাড়লে সেই আগ্রহকে আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে।
দলের সংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হল, তাতে আরও বেশি ক্রিকেটার প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে নিজেদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পাবেন। বর্তমানে পাঁচটি দলের সীমিত স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার জন্য বহু মহিলা ক্রিকেটারকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি যুক্ত হলে স্কোয়াডের সংখ্যা বাড়বে। ফলে শুধু প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার নন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভাবে ভাল খেলা তরুণীরাও নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পেতে পারেন। প্রতিযোগিতার পরিধি বাড়লে নতুন প্রতিভা খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রও বিস্তৃত হবে। কিন্তু, দলের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে। প্রতিযোগিতার ম্যাচের সংখ্যা বাড়লে সূচি তৈরির ক্ষেত্রে নতুন পরিকল্পনা প্রয়োজন হবে। ক্রিকেটারদের বিশ্রাম, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে সময়ের সামঞ্জস্য, মাঠের প্রাপ্যতা ও সম্প্রচারের বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির জন্য পর্যাপ্ত কোচিং স্টাফ, সহায়ক কর্মী এবং নির্বাচনী কাঠামো তৈরি করতে হবে। দেবজিৎ শাইকীয়ার বক্তব্যেও এই বিষয়গুলির গুরুত্ব উঠে এসেছে। অর্থাৎ নতুন দল যুক্ত করার সম্ভাবনা থাকলেও বোর্ড তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না।
WPL-এ নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত হলে শহরভিত্তিক ক্রিকেটের পরিসরও বাড়তে পারে। বর্তমানে প্রতিযোগিতার পাঁচটি দলের সঙ্গে নির্দিষ্ট শহর ও ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিচয় জড়িয়ে আছে। নতুন দল এলে দেশের আরও কয়েকটি বড় ক্রিকেটকেন্দ্রের দর্শকেরা সরাসরি প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। সেই তালিকায় কলকাতার নাম নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। শহরটির ক্রিকেটপ্রেমী দর্শক, ইডেন গার্ডেন্সের (Eden Gardens) ঐতিহ্য ও আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (Kolkata Knight Riders বা KKR) জনপ্রিয়তা নতুন আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। কলকাতা থেকে WPL-এ দল আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ হল ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে শহরটির পরিচিতি। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিকানা রয়েছে বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের (Shah Rukh Khan) সংস্থা রেড চিলিজ এন্টারটেনমেন্টের (Red Chillies Entertainment) হাতে।
মহিলা ক্রিকেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন আইপিএল দলের মালিকদের আগ্রহের কথা সামনে এসেছে। শাহরুখ খানের মালিকানাধীন গোষ্ঠী ভবিষ্যতে WPL-এ দল নেওয়ার আগ্রহ দেখায় কি না, তা নিয়েও ক্রিকেটমহলে কৌতূহল রয়েছে। তবে কলকাতার নামে নতুন দল গঠনের বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। মহিলা ক্রিকেটে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়লে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের আগ্রহও বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ, WPL ইতিমধ্যেই একটি পরিচিত প্রতিযোগিতা হিসেবে জায়গা তৈরি করেছে। নতুন দল যুক্ত হলে সম্প্রচার, স্পনসরশিপ, স্থানীয় দর্শক ও ক্রিকেট পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি পরিচালনার জন্য শুধু আর্থিক বিনিয়োগ যথেষ্ট না। দীর্ঘ স্থায়ী পরিকল্পনা, প্রতিভা খোঁজা, ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার মান বজায় রাখার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন : Sarshuna Crime News | চুম্বনের অভিযোগে নগ্ন করে হাঁটানোর নালিশ, সরশুনায় গ্রেফতার ৩
দেবজিৎ শাইকীয়া WPL-এর অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, গত চার বছরে প্রতিযোগিতাটি অনেকটা এগিয়েছে। আইপিএলের পর ফ্র্যাঞ্চাইজ়িভিত্তিক ক্রিকেটের অন্যতম বড় আসর হিসেবে WPL নিজের জায়গা তৈরি করেছে। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের উন্নতিতে এই লিগের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। শাইকীয়ার বক্তব্য, ‘আইপিএলের পর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অন্যতম বড় প্রতিযোগিতা WPL। চার বছরে আমরা অনেকটা পথ এগিয়েছি। ভারতে মহিলা ক্রিকেটের সাফল্যের পিছনে এই লিগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’ উল্লেখ্য, WPL-এর ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়, তা নির্ভর করবে বোর্ডের পরবর্তী আলোচনার উপর। নতুন দল যুক্ত হলে প্রতিযোগিতার বিন্যাস, নিলাম পদ্ধতি আর ম্যাচের সংখ্যা, সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে নতুন শহরের দর্শকদের সামনে মহিলা ক্রিকেটকে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। কলকাতার মতো ক্রিকেটপ্রধান শহর সেই তালিকায় জায়গা পায় কি না, তা নিয়ে আপাতত অপেক্ষা করতে হবে। তবে বোর্ড সচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্যে WPL-এর পরিসর বাড়ানোর সম্ভাবনা যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : KIFF 2026 Dates, Suvendu Adhikari | KIFF 2026-এর দিনক্ষণ ঘোষণা, ১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, থাকছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ভূমিকা


