Durga Puja 2026, Shubho Bijoya | শুভ বিজয়া ২০২৬: বঙ্গে বিষাদের সুর, আবার অপেক্ষা আগামী বছরের

SHARE:

shubho-bijoya-2026-bengal-durga-puja-bisarjan

মেধা পাল, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আজ শুভ বিজয়া দশমী (Durga Puja 2026, Shubho Bijoya) বাঙালির ঘরে ঘরে আজ প্রণাম, কোলাকুলি, মিষ্টিমুখ আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের দিন। অথচ উৎসবের এই শুভক্ষণেই মন জুড়ে বিষাদের মেঘ। কয়েক দিন ধরে যে ঢাকের বাদ্যি, ধুনোর গন্ধ, মণ্ডপের আলো আর প্রতিমার মুখ ঘিরে বেঁচে থাকার নতুন রসদ খুঁজে নিয়েছিল বাঙালি, আজ সেই উৎসবেরই বিদায়লগ্ন। মণ্ডপে মণ্ডপে বিসর্জনের প্রস্তুতি, নদীর ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের আয়োজন, আর পরিচিত মুখগুলির চোখেমুখে একটাই অনুভূতি, আবার অপেক্ষা আগামী বছরের। দুর্গাপুজো শেষ হলেও তার রেশ থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে। বিজয়ার আলিঙ্গনে তাই যেমন আনন্দ, তেমনই রয়েছে বিচ্ছেদের ব্যথা।

আরও পড়ুন : Karl Deisseroth Nobel Prize | brain neuron light control, optogenetic gene therapy : মস্তিষ্কের নিউরন নিয়ন্ত্রণে আলোর সুইচ! অপটোজেনেটিক্স গবেষণায় ২০২৬-এর চিকিৎসা নোবেল তিন বিজ্ঞানীর

শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা, শিউলির গন্ধ আর পুজোর আগমনী সুর বাঙালিকে প্রতি বছর নতুন করে উৎসবের স্বপ্ন দেখায়। মহালয়ার ভোর থেকে যে আবেগের সূচনা, ষষ্ঠীর বোধন পেরিয়ে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর আনন্দে তা ক্রমশ পূর্ণতা পায়। মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ঢল, নতুন পোশাকের উচ্ছ্বাস, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরিবারের সঙ্গে ঘোরাঘুরি, এসব মিলিয়ে দুর্গোৎসব হয়ে ওঠে বাঙালির জীবনের এক অনন্য অধ্যায়। কিন্তু সময়ের নিয়মে সেই পর্বের শেষ পাতাও এসে যায়। দশমীর বিদায়বেলায় তাই আনন্দের রং ধীরে ধীরে মিশে যায় বিষাদের সুরে। বিজয়া দশমী বাঙালির কাছে শুধু প্রতিমা বিসর্জনের দিন নয়, সম্পর্কের বন্ধন নতুন করে জোরদার করার উপলক্ষও। ছোটরা বড়দের প্রণাম করে, বড়রা ছোটদের আশীর্বাদ করেন। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়, বন্ধুদের সঙ্গে কোলাকুলি ইত্যাদি সবকিছুর মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিসরেও। যাঁরা সারা বছর কাজের ব্যস্ততায় একে অন্যের খোঁজ নেওয়ার সময় পান না, তাঁরাও বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে এগিয়ে আসেন। ফোন, মেসেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভেসে আসে শুভেচ্ছার ঢেউ। ‘শুভ বিজয়া’ কথাটির মধ্যে তাই কেবল উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা নেই; রয়েছে সৌহার্দ্য, ভালোবাসা এবং দূরত্ব ঘুচিয়ে কাছে আসার আহ্বান।

আজকের দিনে আনন্দের পাশাপাশি মন খারাপের কারণও কম নয়। পুজোর ক’টা দিন যাঁরা শহর কিংবা গ্রামের মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরেছেন, তাঁদের কাছে প্রতিটি আলোকসজ্জা, প্রতিটি প্রতিমা, প্রতিটি ঢাকের আওয়াজ যেন স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। কোথাও পাড়ার পুজোয় বন্ধুদের সঙ্গে রাত জাগা, কোথাও পরিবারের সঙ্গে অঞ্জলি দেওয়া, কোথাও আবার প্রিয়জনের সঙ্গে একসঙ্গে কাটানো কয়েকটি মুহূর্ত, সবই এখন স্মৃতির ঝুলিতে জমা পড়ছে। যে মণ্ডপে গত কয়েক দিন ধরে মানুষের ভিড় ছিল, সেখানে আজ বিদায়ের আয়োজন। আলোর ঝলকানি কমতে শুরু করেছে, উৎসবের ব্যস্ততা গুটিয়ে আসছে, আর ধীরে ধীরে ফিরে আসছে দৈনন্দিন জীবনের চেনা ছন্দ। উল্লেখ্য, কলকাতা থেকে জেলা, শহর থেকে গ্রাম, বাংলার সর্বত্র দুর্গাপুজোকে ঘিরে তৈরি হয় এক বিশাল সামাজিক পরিসর। পুজো কমিটিগুলির দীর্ঘ প্রস্তুতি, শিল্পীদের পরিশ্রম, আলোকসজ্জার কারিগরদের রাত জাগা, ঢাকি ও মৃৎশিল্পীদের নিবিড় কর্মযজ্ঞ ইত্যাদি এই উৎসবের পিছনে থাকে বহু মানুষের শ্রম। দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে সেই পরিশ্রম সার্থকতা পায়। বিসর্জনের দিনে তাই শুধু প্রতিমার বিদায় ঘটে না, শেষ হয় দীর্ঘ প্রস্তুতি ও প্রতীক্ষারও একটি পর্ব। যাঁরা মাসের পর মাস ধরে পুজোর পরিকল্পনা করেছেন, তাঁদের কাছেও আজকের দিন আবেগের। আনন্দের সফল সমাপ্তির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আগামী বছরের প্রস্তুতির প্রথম ভাবনাও।

আরও পড়ুন : Shubho Bijoya 2025, Bijoya Dashami 2025 | শুভ বিজয়া দশমী ২০২৫: মিলন, মিষ্টি আর আবেগের উৎসব

এবারের পুজোয় কারও কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, জোড়া মহাসপ্তমী, কারও কাছে নতুন জায়গায় ঠাকুর দেখা, আবার কারও কাছে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে বহু দিন পর দেখা হওয়ার আনন্দ। অনেকের কাছে পুজো মানে নতুন পোশাক, জমিয়ে খাওয়াদাওয়া এবং রাতভর ঘোরাঘুরি। আবার যাঁরা কর্মসূত্রে বাড়ি থেকে দূরে থাকেন, তাঁদের কাছে এই কয়েকটি দিন আপনজনের কাছে ফেরার সুযোগ। পুজো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের অনেককে আবার ফিরতে হবে কর্মস্থলে, পড়াশোনার ব্যস্ততায় কিংবা প্রতিদিনের দায়িত্বে। তাই বিজয়ার শুভেচ্ছার আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফেরার তাড়া, বিচ্ছেদের কষ্ট এবং আবার দেখা হওয়ার প্রতিশ্রুতি। বিসর্জনের মুহূর্তে ঢাকের আওয়াজ, উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি আর ‘আসছে বছর আবার হবে’ ধ্বনি যেন একই সঙ্গে আনন্দ ও বিষাদকে ধারণ করে। প্রতিমা যখন মণ্ডপ ছেড়ে নিরঞ্জনের পথে এগিয়ে যায়, তখন বহু মানুষের চোখ আটকে থাকে দেবীর মুখের দিকে। দেবী দুর্গার আগমনকে বাঙালি যেমন আপন করে নেয়, বিদায়কেও তেমনই হৃদয়ের গভীরে অনুভব করে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে এই বিদায় হয়ে ওঠে বাঙালির সাংস্কৃতিক আবেগের অংশ। দেবীকে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেকে মনে মনে প্রার্থনা করেন, আগামী দিনগুলি যেন ভালো কাটে, সংসারে শান্তি থাকে, অসুখ-বিসুখ ও বিপদ দূরে থাকে এবং নতুন বছর আরও আনন্দ নিয়ে ফিরে আসে।

শারদীয় উৎসবের পরের দিনগুলিও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুজোর আনন্দ শেষ হলেও মানুষের সামনে অপেক্ষা করে কাজ, দায়িত্ব ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই। বিজয়ার দিনে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তাই নতুন করে সম্পর্ক রক্ষা, পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ও ভাল থাকার কামনা প্রকাশ পায়। উৎসবের কয়েকটি দিনের আনন্দকে স্মৃতিতে ধরে রেখে আবার বাস্তবের পথে ফিরতে হয় সকলকেই। পুজোর আলো নিভে গেলেও তার আবেশ থেকে যায় ঘরের কোণে, ছবির অ্যালবামে, ফোনের গ্যালারিতে এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া গল্পে। উল্লেখ্য, আজ শুভ বিজয়া। বাংলার আকাশে তাই একদিকে বিদায়ের সুর, অন্যদিকে আগামী দিনের আশ্বাস। দেবী দুর্গার বিসর্জনের সঙ্গে শেষ হচ্ছে এ বছরের শারদোৎসবের আনুষ্ঠানিক পর্ব। কিন্তু বাঙালির মনে উৎসবের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। আজ থেকেই শুরু হচ্ছে নতুন করে অপেক্ষা, আবার কবে আসবে মা? কবে বাজবে ঢাক, কবে আলোয় সেজে উঠবে মণ্ডপ, কবে প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলিত হবে পরিবার। সেই প্রতীক্ষাই বাঙালিকে প্রতি বছর নতুন করে টানে। আজ চোখে জল থাকুক, মন ভার হোক, তবু বিদায়ের মধ্যেই রয়ে যাক আগামী দিনের আনন্দের স্বপ্ন। কারণ বাঙালি জানে, বিসর্জন মানেই শেষ নয়; বিসর্জনের বুকেই লুকিয়ে থাকে নতুন আগমনের প্রতিশ্রুতি। তাই আজ বিষাদের সুরে ভাসলেও হৃদয়ের গভীরে একটাই উচ্চারণ, আবার অপেক্ষা আগামী বছরের। ‘আসছে বছর আবার হবে।’

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samantha Ruth Prabhu pregnancy, Samantha workout | শেষ ট্রাইমেস্টারেও জিমে সামান্থা! গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম কতটা নিরাপদ, কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন