সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : এশিয়া কাপের মঞ্চে ফের কী দেখা যাবে ট্রফি-বিতর্ক? ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল চলতি প্রতিযোগিতায় যে ছন্দে খেলছে, তাতে হরমনপ্রীত কৌরদের (Harmanpreet Kaur) চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সাফল্য পেলেও পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ট্রফি গ্রহণের মুহূর্ত ঘিরে তৈরি হতে পারে নতুন জটিলতা। কারণ, ফাইনালের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (Asian Cricket Council) প্রধান মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi)। গত বছরের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কাই এখন আলোচনায়।

উল্লেখ্য যে, গত বছর এশিয়া কাপের ফাইনালের পর ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের (India Men’s Cricket Team) ট্রফি গ্রহণ ঘিরে তৈরি হয়েছিল নজিরবিহীন পরিস্থিতি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (Pakistan Cricket Board) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি সেই সময় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধানের দায়িত্বেও ছিলেন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ভারতীয় দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার কথা ছিল তাঁরই। কিন্তু সেই পুরস্কার গ্রহণের মঞ্চে ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে ট্রফি নেওয়া হয়নি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হতেও দীর্ঘ সময় লেগেছিল।
সেই ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেট দলের অবস্থান নিয়ে ক্রিকেটমহলে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল ট্রফি ছাড়াই মাঠে বিজয় উদ্যাপন করেছিল। পরে জানা যায়, ভারতীয় দলের আপত্তির বিষয়টি সামনে আসার পর নকভি ট্রফি নিজের সঙ্গে নিয়ে হোটেলে ফিরে যান। সেই ট্রফি পরবর্তী সময়েও ভারতীয় দলের হাতে পৌঁছয়নি বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দল হয়েও ট্রফি হাতে না পাওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবার মহিলাদের এশিয়া কাপের ক্ষেত্রেও সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ‘জিয়ো সুপার’ -এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতার ফাইনালের পর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে মহসিন নকভির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার দায়িত্বও তাঁর কাছেই থাকতে পারে। ফলে ভারতীয় মহিলা দল ফাইনালে জিতলে ট্রফি গ্রহণের মুহূর্তে ফের একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় মহিলা দল এবারের প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। ব্যাটিং, বোলিং ও দলগত পরিকল্পনায় প্রতিপক্ষের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ভারত। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও ভারতের দাপট দেখা গিয়েছে। সেই ম্যাচের ফলই দুই দলের ক্রিকেটীয় ব্যবধানের একটি বড় ছবি তুলে ধরেছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান মহিলা দল। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপ বড় রান করতে পারেনি। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৮.৪ ওভারেই প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় ভারত। ফলে ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পায় হরমনপ্রীত কৌরের দল।
শুধু ফলাফল নয়, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আবহও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল। গত বছরের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। তার প্রভাব ক্রিকেটের মাঠেও দেখা যাচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মধ্যে ম্যাচের আগে বা পরে করমর্দনের যে প্রচলিত ছবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বহু বছর ধরে দেখা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে পরিবর্তন এসেছে। গত বছরের এশিয়া কাপ থেকেই দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে হাত না মেলানোর ঘটনা আলোচনায় এসেছে। শুধু পুরুষদের ক্রিকেটে নয়, মহিলা ক্রিকেট এবং বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই এখন মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি কূটনৈতিক আবহও ক্রিকেট আলোচনার অংশ হয়ে উঠছে। চলতি এশিয়া কাপেও সেই ছবির ব্যতিক্রম হয়নি। গ্রুপ পর্বে ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়ার সময় দুই দলের খেলোয়াড়েরা করমর্দন করেননি। তবে মাঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স ছিল একতরফা। মাত্র ৫৫ রানে পাকিস্তানকে গুটিয়ে দেওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই রান তুলে নেয় ভারত।
এখন তাই লক্ষ্য ফাইনালের দিকে। ভারত যদি শেষ ম্যাচে জিতে এশিয়া কাপের ট্রফি ঘরে তোলে, তা হলে ক্রিকেটীয় সাফল্যের পাশাপাশি পুরস্কার বিতরণীর মুহূর্তটিও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ ট্রফি গ্রহণের দায়িত্ব যদি সত্যিই নকভির হাতে থাকে, তা হলে ভারতীয় দলের অবস্থান কী হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। গত বছরের ঘটনার কারণে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এক বার কোনও দলের সঙ্গে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর একই আয়োজনে ফের একই প্রশ্ন উঠলে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমহলে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। ভারতীয় মহিলা দলের খেলোয়াড়েরা মাঠের বাইরে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও তাঁদের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক অবস্থান সামনে আসেনি। ভারতীয় মহিলা দলের কাছে অবশ্য মূল লক্ষ্য থাকবে মাঠের পারফরম্যান্স। হরমনপ্রীত কৌর, দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ও তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে গড়া ভারতীয় স্কোয়াড এবারের এশিয়া কাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে এগোচ্ছে। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড় জয় দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে। ফাইনালের ফল তাই শুধু একটি ট্রফি নির্ধারণ করবে না, ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতারও মূল্যায়ন হবে।
ক্রিকেটের বাইরের আবহও এই ফাইনালকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। গত এক বছরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে এশিয়া কাপের পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মহসিন নকভির উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হলে ভারতীয় মহিলা দলের হাতে ট্রফি উঠবে কি না, নাকি গত বছরের মতোই পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তে অন্য ছবি দেখা যাবে, তার উত্তর মিলবে ফাইনালের পর। মাঠে ভারতীয় দল ইতিমধ্যেই নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়েছে। এখন অপেক্ষা সেই শিরোপা জয়ের পর পুরস্কার মঞ্চে হরমনপ্রীত কৌরদের অবস্থান কী হয়, তা দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Deepti Sharma on India vs Pakistan women Asia Cup | পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামার আগে দীপ্তির হুঙ্কার, ‘ওদের থেকে এক ধাপ এগিয়েই থাকি’



