সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রায়গঞ্জ থেকে শিলিগুড়ি যাতায়াতের পথে দীর্ঘদিনের এক বড় সমস্যা এবার কাটতে চলেছে। বিহারের কিষাণগঞ্জ হয়ে ঘুরপথে যাওয়ার পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই তৈরি হতে চলেছে নতুন চার লেনের গ্রিনফিল্ড করিডোর (Greenfield Corridor)। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্প উত্তর দিনাজপুরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত করিডোরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত নতুন সড়কটি কাঁকির কাছে গড়আপা থেকে গোয়ালপোখরের হাটওয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এটিকে জাতীয় সড়ক ২৭ (NH-27) -এর নতুন অ্যালাইনমেন্ট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের ডিটেইলড প্রোজেক্ট রিপোর্ট বা ডিপিআর (DPR) তৈরির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিক পরিকল্পনা পেরিয়ে প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে এগোচ্ছে।
আরও পড়ুন : Richa Ghosh | বিশ্বজয়ী রিচা ঘোষে শিলিগুড়িতে পদার্পণ, মেয়েদের খেলাধুলায় তাঁর আহ্বান
রায়গঞ্জ থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার বর্তমান পথের অন্যতম বড় সমস্যা হল বিহারের একটি অংশের উপর নির্ভরতা। বর্তমানে যানবাহনগুলি জাতীয় সড়ক ১২ (NH-12) ধরে পূর্ণিয়া মোড়ের দিকে যায়। সেখান থেকে জাতীয় সড়ক ২৭-এ উঠে কিষাণগঞ্জ হয়ে ফের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে হয়। এই পথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল পড়ায় যানজটের সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে পূর্ণিয়া মোড়ে যানবাহনের চাপ বাড়লে দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ির সারি তৈরি হয়। শুধু যানজট নয়, বিহারের ওই অংশে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কারণে বাণিজ্যিক গাড়িকেও অপেক্ষা করতে হয় বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাক থেকে যাত্রীবাহী গাড়ি, সব ধরনের যানবাহনের ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে। ফলে রায়গঞ্জ ও উত্তর দিনাজপুর থেকে শিলিগুড়ি এবং উত্তরবঙ্গের অন্যান্য এলাকায় যাতায়াত করতে অতিরিক্ত সময় লাগে। নতুন চার লেনের গ্রিনফিল্ড করিডোর তৈরি হলে সেই ঘুরপথ অনেকটাই কমবে। সবচেয়ে বড় বিষয়, প্রস্তাবিত রাস্তার পুরো অংশই পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা হয়েছে। ফলে রায়গঞ্জ থেকে শিলিগুড়ির দিকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিহারের কিষাণগঞ্জ অংশের উপর নির্ভরতা কমবে। যাত্রীবাহী যানবাহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও এর সুফল পাওয়ার আশা রয়েছে।
প্রকল্পটি নিয়ে রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল (Kartik Chandra Pal) -এর উদ্যোগের কথাও সামনে এসেছে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নতুন রাস্তার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের পর্যালোচনার পর প্রকল্পটির ডিপিআর তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত রাস্তার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর চার লেনের পরিকাঠামো। ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ বাড়লেও যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা যায়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সড়ক যোগাযোগের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। শিলিগুড়ি উত্তর-পূর্ব ভারত ও উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র হওয়ায় রায়গঞ্জের সঙ্গে তার সরাসরি সড়ক সংযোগ আরও মজবুত হলে বাণিজ্যিক পরিবহণেও গতি আসতে পারে।
উত্তর দিনাজপুরের ব্যবসায়ী মহলের কাছেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য নিয়ে যাতায়াতকারী গাড়িকে বর্তমানে যে পথ পেরোতে হয়, সেখানে সময়ের পাশাপাশি জ্বালানির খরচও বাড়ে। নতুন করিডোর চালু হলে তুলনামূলক সরাসরি রুট পাওয়া যাবে। ফলে পরিবহণের সময় কমার পাশাপাশি পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা হতে পারে। গ্রিনফিল্ড করিডোর হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক ধাপ পেরোতে হবে। নতুন রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিত করা, জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশ ও অন্যান্য অনুমোদন, বিস্তারিত নকশা এবং আর্থিক পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলি ডিপিআরের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। ডিপিআর চূড়ান্ত হওয়ার পর টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। তার পরেই মূল নির্মাণকাজের দিকে এগোবে প্রকল্প।
প্রস্তাবিত করিডোরটি শুধু একটি নতুন রাস্তা নয়, উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ তৈরি করতে পারে। রায়গঞ্জ, গোয়ালপোখর, কাঁকি ও আশপাশের এলাকার মানুষের পাশাপাশি শিলিগুড়িমুখী নিয়মিত যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের জন্যও এর গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিহারের একটি অংশ পেরিয়ে চলাচলের যে সমস্যা ছিল, নতুন সড়ক সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমাতে পারে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রায়গঞ্জ থেকে শিলিগুড়ির যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে উত্তর দিনাজপুরের ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহণ ও স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে বৃহত্তর উত্তরবঙ্গের বাজারের যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন চার লেনের এই গ্রিনফিল্ড করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
আরও পড়ুন : Vaishno Devi Temple | পাহাড়ের দেবী বৈষ্ণোদেবী: ত্রিকূটা পর্বতের রহস্যময় সাধিকার অমরগাথা
এখন নজর ডিপিআর-এর কাজ কত দ্রুত শেষ হয় ও জমি অধিগ্রহণ ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কতটা তাড়াতাড়ি এগোয়, তার দিকে। কারণ কাগজে থাকা পরিকল্পনা বাস্তবের রাস্তায় পরিণত হলেই রায়গঞ্জ-শিলিগুড়ি যাত্রাপথে কিষাণগঞ্জ-নির্ভরতার অবসান ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হবে। উত্তর দিনাজপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের অপেক্ষারও তখন অবসান হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rajnath Singh DRDO missile technology transfer | রাজনাথের বড় সিদ্ধান্ত, ভারতীয় সংস্থার হাতে DRDO-র ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি




