শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপ্স’এর প্রচার ঘিরে একের পর ব্যক্তিগত ও কাজের অভিজ্ঞতা সামনে আনছেন ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। সেই প্রচারপর্বেই নিজের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তের কথা জানালেন কিয়ারা আডবাণী (Kiara Advani)। সহ-অভিনেতা যশ (Yash) ও পরিচালক গীতু মোহনদাস (Geetu Mohandas) -এর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানালেন, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পরিবারের সদস্যদের জানানোর পর প্রথম যে দু’জনকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন, তাঁরা ছিলেন ‘টক্সিক’-এর নায়ক ও পরিচালক। সেই খবর শোনার পর যশ এবং গীতুর প্রতিক্রিয়া আজও তাঁর মনে গেঁথে রয়েছে বলে জানান কিয়ারা। ছবিতে নাদিয়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন কিয়ারা। অন্য দিকে, যশকে দেখা যাবে মুখ্য চরিত্রে। দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হওয়া এই ছবিকে ঘিরে দর্শকের মধ্যে আগ্রহও তৈরি হয়েছে। প্রচার অনুষ্ঠানে ছবির কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কিয়ারা ফিরে যান সেই সময়ের কথায়, যখন তিনি জানতে পারেন, মা হতে চলেছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনের সেই খবর কী ভাবে ‘টক্সিক’-এর কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিল, তা নিয়েই কথা বলেন অভিনেত্রী।

কিয়ারা (Kiara Advani) জানান, পরিবারের পর যশ এবং গীতুকেই প্রথম সুখবরটি জানিয়েছিলেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমি যখন প্রথম জানতে পারি যে আমি অন্তঃসত্ত্বা, তখন পরিবারের পর তোমাদের দু’জনকেই প্রথম এই খবর জানিয়েছিলাম।’ সেই মুহূর্তে ছবির কাজ কীভাবে শেষ হবে, শুটিংয়ের পরিকল্পনা কী ভাবে বদলাতে হবে কিংবা প্রযোজনা সংস্থার সামনে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে, এ ধরনের কোনও প্রশ্নই যশ বা গীতুর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ছিল না বলে জানান কিয়ারা। খবরটি শোনার পর যশ ও গীতু দু’জনেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। কিয়ারার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের চোখে জল ছিল, মুখে ছিল হাসি। তাঁরা অভিনেত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলেন, ‘এ বার আমরা জীবনের সেরা সময় কাটাব, কিয়ারা।’ সহ-অভিনেতা ও পরিচালকের এমন প্রতিক্রিয়া কিয়ারার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে ওঠে। কারণ কর্মজীবনের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের এত বড় পরিবর্তন যখন একই সময়ে সামনে আসে, তখন কাজের জায়গা থেকে পাওয়া সহযোগিতা একজন অভিনেত্রীর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই অভিজ্ঞতাই নিজের কথায় তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী কিয়ারা আদবাণী।
কিয়ারার বক্তব্য অনুযায়ী, যশ এবং গীতুর কাছে সেই সময় প্রথম বিষয় ছিল তাঁর ভাল থাকা। ছবির কাজ কী ভাবে এগোবে, তার হিসাব পরে এসেছে। তাঁরা তাঁকে সেটে আসতে, স্বচ্ছন্দে কাজ করতে ও নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী খাওয়া-দাওয়া করতে বলেছিলেন। কিয়ারার কথায়, ‘সেটে এসো, স্বচ্ছন্দে থাকো, যা খেতে ইচ্ছে হয় খাও। আর এভাবেই আমরা সেরা ছবিটা তৈরি করব।’ অভিনেত্রীর দাবি, শেষ পর্যন্ত তাঁদের সেই পরিকল্পনাই বাস্তবে রূপ পেয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ‘টক্সিক’ -এর শুটিং করার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন কিয়ারা। তাঁর বক্তব্য, মা হওয়ার খবর সামনে আসার পরে ছবির কাজ থেমে যায়নি। শুটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকেই তাঁর পরিস্থিতি বুঝে সহযোগিতা করেছেন। কাজের জায়গায় কোনও ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি না করে তাঁকে প্রয়োজনীয় সময় এবং সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণেই ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্যেও ছবির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী। কিয়ারা বলেন, যশ ও গীতুর আচরণ তিনি কোনও দিন ভুলবেন না। তাঁর কাছে ঘটনাটি শুধু একটি কাজের অভিজ্ঞতা নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবনের এক বিশেষ সময়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি। সাধারণত কোনও ছবির শুটিংয়ের সময় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক তৈরি হয়। কিন্তু সেই সম্পর্ক যখন ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের মুহূর্তে পাশে থাকার জায়গায় পৌঁছে যায়, তখন তার গুরুত্ব আলাদা হয়ে ওঠে। ‘টক্সিক’-এর প্রচারে কিয়ারার বক্তব্যে সেই সম্পর্কের কথাই উঠে এসেছে।
ছবির কাজের পাশাপাশি কিয়ারার মাতৃত্বের বিষয়টিও গত কিছুদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের এই পরিবর্তন নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ কম নয়। তবে প্রচার অনুষ্ঠানে কিয়ারা নিজের বক্তব্যে ব্যক্তিগত বিষয়টিকে প্রচারের উপকরণ হিসেবে না, তা সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রসঙ্গেই তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যে বার বার ফিরে এসেছে যশ এবং গীতুর সহযোগিতার কথা। ‘টক্সিক’-এর প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথাও অনুষ্ঠানে জানান কিয়ারা। তাঁর মতে, ছবিটির লক্ষ্য শুধু একটি বাণিজ্যিক ছবি তৈরি করা নয়। ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও এই ছবির সঙ্গে যুক্ত। কিয়ারার কথায়, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়া।’ দেশের শিল্পী ও প্রযুক্তিবিদদের একসঙ্গে নিয়ে একটি বড় মাপের ছবি তৈরি করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অভিনেত্রী।
‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপ্স’ নিয়ে নির্মাতাদের পরিকল্পনা শুরু থেকেই বড় পরিসরের। ছবিতে যশ এবং কিয়ারার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন নয়নতারা (Nayanthara), হুমা কুরেশী (Huma Qureshi), তারা সুতারিয়া (Tara Sutaria) ও রুক্মিণী বসন্ত (Rukmini Vasanth)। ফলে ছবির অভিনয়শিল্পীদের তালিকাও দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে যশের সঙ্গে কিয়ারার জুটি নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। প্রচারে কিয়ারা দর্শকদের উদ্দেশ্যেও ছবিটি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ ২৬ আগস্ট ছবিটি দর্শকের সামনে আসার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দর্শকেরা ছবির আবেগ, উত্তেজনা ও বিনোদনের দিকগুলি উপভোগ করবেন। ছবির গল্প, চরিত্র এবং নির্মাণের ধরন নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত দর্শকের প্রতিক্রিয়াই ঠিক করবে ‘টক্সিক’ কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়। কিয়ারার বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ অবশ্যই তাঁর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর যশ ও গীতুকে জানানোর ঘটনা। একটি বড় ছবির শুটিংয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত জীবনের এত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন যে ভাবে সহকর্মীরা গ্রহণ করেছিলেন, সেটিই তাঁর স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে। কাজ থামিয়ে দেওয়ার চিন্তার বদলে তাঁকে স্বচ্ছন্দে কাজ করার সুযোগ দেওয়াই যশ ও গীতুর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সেই কারণেই তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কিয়ারা। উল্লেখ্য, ‘টক্সিক’-এর মুক্তির আগে তাই ছবির গল্প বা তারকা-জুটির পাশাপাশি কিয়ারার এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। অভিনেত্রীর বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে, একটি বড় প্রযোজনার ছবির সাফল্যের পেছনে শুধু ক্যামেরার সামনে থাকা শিল্পীরাই নন, তাঁদের পাশে থাকা সহকর্মীদের মানবিক সহযোগিতারও ভূমিকা থাকে। কিয়ারার ক্ষেত্রে যশ এবং গীতুর সঙ্গে তৈরি হওয়া সেই সম্পর্কই এখন ‘টক্সিক’-এর প্রচারের অন্যতম আলোচিত প্রসঙ্গ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Yash Toxic controversy, Kiara Advani scene discussion | টক্সিক বিতর্কের মাঝেই স্ত্রী রাধিকাকে কৃতজ্ঞতা জানালেন যশ, কিয়ারার দৃশ্য নিয়েও মুখ খুললেন অভিনেতা




