Ashok Dham Temple stampede latest news, Lakhisarai Ashok Dham temple accident | বিহারের অশোকধাম মন্দিরে কেন পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু ৭ পুণ্যার্থীর? ট্রেনের ভিড়, খুঁটি পড়ার গুজবেই কি বিপর্যয়, উঠছে বড় প্রশ্ন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা : বিহারের লখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে (Ashok Dham Temple) সোমবার সকালে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে সাত মহিলা পুণ্যার্থীর। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০-১২ জনকে লখিসরাই হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। শ্রাবণ মাসের সোমবার পুজো দিতে মন্দিরে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছিল। তার মধ্যেই আচমকা গুজব ছড়ানো ও তার পরেই ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হওয়াকে প্রাথমিক ভাবে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন। তবে প্রশাসনের এই ব্যাখ্যা মেনে নিতে চাইছেন না প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, বিপুল ভিড় সামলানোর মতো যথেষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। অশোকধাম মন্দির, যা ইন্দ্রদমনেশ্বর মন্দির (Indradamaneshwar Temple) নামেও পরিচিত, লখিসরাই জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিবমন্দির। ইন্দ্রদমনেশ্বরের পাশাপাশি মন্দির চত্বরে পার্বতী, নন্দী এবং দুর্গার মন্দিরও রয়েছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে এখানে ভক্তদের ভিড় থাকলেও শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলিতে পুণ্যার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শিবরাত্রির সময়ও মন্দিরে বড় জমায়েত হয়। এবার শ্রাবণের সোমবারে সেই ভিড়ই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দেয়।

আরও পড়ুন : Tarapith hotel fire 2026 | তারাপীঠে আগুনে ভয়াবহ মৃত্যু! মেঘালয়ের একই পরিবারের দুই শিশু-সহ ৫ জন, হোটেল অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ৯

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, রবিবার রাত থেকেই মন্দিরের সামনে পুণ্যার্থীদের লাইন পড়তে শুরু করেছিল। সোমবার ভোরের দিকে সেই লাইন আরও দীর্ঘ হতে থাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে মন্দিরের সামনে পুণ্যার্থীদের সারি প্রায় ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে যায় বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়তে থাকে। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় মন্দির চত্বরে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ভিড় আরও বাড়ার একটি বড় কারণ হিসেবে অশোকধাম হল্ট স্টেশনে পর পর দু’টি ট্রেন এসে দাঁড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরেছে প্রশাসন। লখিসরাইয়ের জেলাশাসক শৈলেন্দ্র কুমার (Shailendra Kumar) জানিয়েছেন, রবিবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টার মধ্যে অশোকধাম হল্টে পর পর দু’টি ট্রেন আসে। ট্রেন দু’টি থেকে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী স্টেশনে নামেন। তাঁদের বড় অংশ মন্দিরের দিকে রওনা দেন। ফলে ইতিমধ্যে তৈরি হওয়া ভিড়ের সঙ্গে নতুন করে আরও মানুষের যোগ হয়। স্টেশন থেকে মন্দিরের প্রবেশপথ পর্যন্ত পুণ্যার্থীদের জন্য লাইন তৈরি করা হয়েছিল। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থাও ছিল বলে প্রশাসনের দাবি। কিন্তু আচমকা সেই ব্যবস্থার মধ্যে তৈরি হয় আতঙ্ক। প্রশাসনের প্রাথমিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পুরুষদের লাইনের পাশে থাকা একটি খুঁটি আচমকা পড়ে যায়। খুঁটি পড়ার পরই সেখানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পুণ্যার্থী মনে করেন, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় মানুষ আহত হয়েছেন।

অবশ্য পরে জানা যায়, ওই খুঁটির সঙ্গে বিদ্যুতের তারের পরিবর্তে কেবল লাইনের তার ছিল। কিন্তু ততক্ষণে গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পুণ্যার্থীদের একাংশ। নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকে দৌড় শুরু করেন। পুরুষ ও মহিলাদের লাইনের মাঝের ব্যারিকেড ভেঙে যায়। এরপরই ভিড়ের মধ্যে শুরু হয় প্রবল ধাক্কাধাক্কি। এক মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। সামনে থাকা মানুষ পড়ে গেলে তাঁদের উপর দিয়েই পিছনের ভিড় এগিয়ে যেতে থাকে। অনেকে নিজেদের পরিচিতজনকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখে হাত বা পা ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু এত বিপুল ভিড়ের মধ্যে বহু মানুষকে সময়মতো সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পদপিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই একাধিক মহিলা পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়।

প্রশাসনের দাবি, ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ সেই দাবি মানছেন না। তাঁদের অভিযোগ, মন্দিরে ভিড়ের চাপ সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা ছিল। শ্রাবণ মাসের সোমবার হওয়ায় বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী আসবেন, সেটিও জানা ছিল। তার পরেও সেই অনুপাতে প্রবেশপথ এবং লাইন ব্যবস্থাপনা করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে বহু মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। প্রচণ্ড গরমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। রাত থেকে অপেক্ষা করা পুণ্যার্থীদের মধ্যে অধৈর্যতা বাড়ছিল। তার মধ্যে আচমকা খুঁটি পড়া আর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক বহুগুণ বেড়ে যায়। একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতেই বিপর্যয় ঘটে।

একজন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, রবিবার রাত থেকেই মন্দিরের সামনে পুণ্যার্থীরা আসতে শুরু করেছিলেন। সোমবার সকালে ভিড়ের লাইন ছয় কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ হয়ে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষা, গরম এবং মানুষের চাপ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। খুঁটি পড়ার ঘটনাকে ঘিরে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর একাংশ লাইনের নিয়ম ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখনই মানুষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। শুধু পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুই নয়, ধাক্কাধাক্কির জেরে আরও বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে লখিসরাই হাসপাতালে কয়েকজনের চিকিৎসা চলছে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা পুণ্যার্থী সূত্রের খবর। দুর্ঘটনার পর মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর মন্দিরের ভিড় ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কোনও ধর্মীয় স্থানে যখন কয়েক হাজার বা কয়েক দশ হাজার মানুষের জমায়েত হয়, তখন প্রবেশ ও বেরোনোর পৃথক পথ, ব্যারিকেড, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মানুষ সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা এবং গুজব মোকাবিলার প্রস্তুতি কতটা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অশোকধামের মতো জনপ্রিয় তীর্থস্থানে শ্রাবণ মাসের সোমবারে এত বড় জমায়েত হবে, তা প্রশাসনের অজানা ছিল না বলেই দাবি স্থানীয়দের। অন্য দিকে প্রশাসনের বক্তব্য, ঘটনাটি মূলত আকস্মিক আতঙ্ক এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ঘটেছে। খুঁটি পড়াকে ঘিরে ছড়ানো ভুল তথ্যই মানুষের মধ্যে দৌড়াদৌড়ির পরিস্থিতি তৈরি করে। তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার পুরো ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লখিসরাইয়ের এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর তরফে নিহতদের পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

অশোকধাম মন্দিরের ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, বিপুল জনসমাগমের ক্ষেত্রে একটি ছোট গুজবও কত দ্রুত ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। পর পর ট্রেন থেকে মানুষের আগমন, দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা, গরমে অসুস্থতা, বিপুল ভিড় ও খুঁটি পড়াকে ঘিরে আতঙ্ক, একাধিক পরিস্থিতি একসঙ্গে তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কেন এত মানুষের ভিড়ের মধ্যে নিরাপদে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা কাজ করল না, ব্যারিকেড কী ভাবে ভেঙে পড়ল ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ কেন সম্ভব হল না, সেই প্রশ্নগুলির উত্তরই এখন তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Ayodhya Ram Temple donation scam, Yogi Adityanath SIT action | অযোধ্যা রামমন্দির অনুদান কেলেঙ্কারি: SIT রিপোর্টের পরই কড়া পদক্ষেপ, গ্রেপ্তার ৮ : যোগীর হুঁশিয়ারি ‘বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি চলবে না’

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন