India vs Brazil football match, India withdraws from ASEAN Cup | আশঙ্কাই সত্যি! ব্রাজিল ম্যাচকে অগ্রাধিকার, ফিফা-আশিয়ান কাপে খেলবে না ভারত, ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে বিতর্ক

SHARE:

সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: এক দিকে ব্রাজিলের (Brazil) মতো বিশ্বফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে বহুল প্রতীক্ষিত প্রদর্শনী ম্যাচ, অন্য দিকে একাধিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ। শেষ পর্যন্ত দু’টির মধ্যে প্রথমটিকেই বেছে নিল ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। আগামী ৩ অক্টোবর ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের প্রদর্শনী ম্যাচের সময়ের সঙ্গে সংঘাত হওয়ায় ফিফা-আশিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিল ভারত। ফলে আশঙ্কাই সত্যি হল। ফিফার নতুন এই প্রতিযোগিতায় ভারতকে আর দেখা যাবে না। বৃহস্পতিবার ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সচিব এম সত্যনারায়ণ (M Satyanarayan) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা আশিয়ান কাপ থেকে নাম তুলে নিয়েছি। ব্রাজিল ম্যাচ এবং আশিয়ান কাপ একই সময়ে খেলা সম্ভব নয়।’ ফলে দ্বিতীয় সারির দল পাঠানোর যে পরিকল্পনা নিয়ে আগে আলোচনা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই পথেও হাঁটল না ফেডারেশন।

আরও পড়ুন : Neymar comeback after 981 days, Neymar emotional return Brazil World Cup 2026 | ৯৮১ দিনের অপেক্ষার অবসান, চোখের জলে ফিরলেন নেমার : ব্রাজিল জার্সিতে আবেগঘন প্রত্যাবর্তনে বিশ্বকাপ কাঁপালেন তারকা

এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে নতুন এই প্রতিযোগিতাটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারত ভারতের জন্য। আশিয়ান গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলিকে নিয়ে ফিফার উদ্যোগে প্রথমবার এই প্রতিযোগিতার আয়োজন হচ্ছে। আশিয়ান গোষ্ঠীর বাইরে থাকা দেশ হিসেবে ভারত আমন্ত্রণ পেয়েছিল। ফলে ভারতের সামনে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দলের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ আর কাজে লাগানো হচ্ছে না।

ফিফা-আশিয়ান কাপের সূচী অনুযায়ী প্রতিযোগিতাটি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। অন্য দিকে, ৩ অক্টোবর ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচ। অর্থাৎ একই সময়ে জাতীয় দলের সামনে দুই ধরনের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পড়ে যাচ্ছে। একটি দলে দুই প্রতিযোগিতার ম্যাচ সামলানো কার্যত অসম্ভব। সেই কারণেই ফেডারেশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতীয় ফুটবলে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশ্বফুটবলের অন্যতম সফল দল ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে মাঠে নামার সুযোগ ভারতীয় ফুটবলারদের কাছে নিঃসন্দেহে বড় অভিজ্ঞতা হতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সূচির দিক থেকে বিষয়টি অন্য একটি প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ভাবে জাতীয় দলের উন্নতির জন্য প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ বেশি জরুরি, নাকি বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিরুদ্ধে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ, ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের পরে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

আশিয়ান কাপে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এর আগে ফেডারেশনের অভ্যন্তরেও আলোচনা হয়েছিল। তখন দ্বিতীয় সারির দল পাঠানোর পরিকল্পনা সামনে এসেছিল। অর্থাৎ ব্রাজ়িল ম্যাচের জন্য প্রথম সারির ফুটবলারদের রেখে অপেক্ষাকৃত নতুন বা বিকল্প ফুটবলারদের নিয়ে আশিয়ান কাপে দল পাঠানোর কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হল না। এই সিদ্ধান্তে ভারতীয় ফুটবলের একটি বড় প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ হাতছাড়া হল বলে মনে করছেন দেশের প্রাক্তন ফুটবলারদের একাংশ। বিশেষ করে আশিয়ান অঞ্চলের শক্তিশালী দলগুলির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে খেলার সুযোগ জাতীয় দলের জন্য কার্যকর হতে পারত। একটি প্রদর্শনী ম্যাচের পরিবর্তে একাধিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেললে ফুটবলারদের ম্যাচ-পরিস্থিতিতে নিজেদের পরখ করার সুযোগ বাড়ত। এই বিষয়টি নিয়ে আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া (Bhaichung Bhutia)। ফেডারেশনের বৈঠকে আশিয়ান কাপে খেলার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল প্রতিযোগিতা সাফের তুলনায় আশিয়ান কাপ ভারতের জাতীয় দলের জন্য আরও কঠিন পরীক্ষার জায়গা হতে পারত। বাইচুংয়ের বক্তব্য ছিল, ‘আমি কর্মসমিতির সভায় আশিয়ান কাপে খেলার পক্ষে জোর দিয়েছিলাম। সাফের তুলনায় এটি অনেক ভাল প্রতিযোগিতা। অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক সুবিধা রয়েছে, ভাল খেললে পুরস্কারের সুযোগও রয়েছে। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল, জাতীয় দলের উন্নতির জন্য এই ধরনের প্রতিযোগিতা দরকার।’

প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক আরও যুক্তি দিয়েছিলেন, একটির বদলে একাধিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ জাতীয় দলের জন্য বেশি কার্যকর। তাঁর মতে, ‘একটা ম্যাচ খেলার চেয়ে তিন-চারটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলা অনেক ভাল।’ অর্থাৎ জাতীয় দলের নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার দিকটিই তিনি সামনে এনেছিলেন। তবে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচের গুরুত্ব নিয়েও কোনও দ্বিমত নেই। বাইচুং নিজেও স্বীকার করেছিলেন, ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা আলাদা। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘ব্রাজ়িল হল ব্রাজ়িল। ওদের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতাই আলাদা।’ কিন্তু একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, মাত্র একটি ম্যাচ জাতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। বিতর্কের মূল জায়গাটিও এখানেই। ব্রাজ়িলের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ ভারতীয় ফুটবলের বাজার, দর্শক ও ফুটবলারদের জন্য বড় আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ফুটবল দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামলে ভারতীয় খেলোয়াড়েরা উচ্চমানের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করার সুযোগ পাবেন। আন্তর্জাতিক প্রচারের দিক থেকেও ম্যাচটির গুরুত্ব রয়েছে।

অন্য দিকে, আশিয়ান কাপে ভারতের সামনে ছিল একাধিক ম্যাচ। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলার সুযোগ জাতীয় দলের বেঞ্চ শক্তি যাচাইয়ে কাজে লাগতে পারত। নতুন ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দলের কৌশল পরীক্ষা করারও অবকাশ ছিল। ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে এখন সেই সম্ভাবনা বন্ধ হয়ে গেল। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ফিফার আমন্ত্রণে প্রথম বার আয়োজিত প্রতিযোগিতা থেকে ভারত সরে দাঁড়ানোয় ভবিষ্যতে এমন সুযোগ আবার আসবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আমন্ত্রণটি ছিল আশিয়ান গোষ্ঠীর বাইরের দেশ হিসেবে। ফলে ভারতের অংশগ্রহণ প্রতিযোগিতাটিকে আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক পরিসর দিতে পারত। ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক সূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্রাজিল ম্যাচটি নিয়ে ফুটবলমহলে উচ্ছ্বাস থাকলেও, তার জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক আসর ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিশেষ করে ভারতীয় ফুটবল যখন আন্তর্জাতিক স্তরে ধারাবাহিক উন্নতির চেষ্টা করছে, তখন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মিত ম্যাচ খেলার প্রয়োজনীয়তা বার বার সামনে আসে। আশিয়ান কাপ সেই সুযোগ এনে দিতে পারত। কিন্তু একই সময়ের মধ্যে ব্রাজ়িল ম্যাচ থাকায় শেষ পর্যন্ত একটি পথই বেছে নিতে হয়েছে ফেডারেশনকে। এখন জাতীয় দলের লক্ষ্য থাকবে ৩ অক্টোবরের সেই বহু প্রতীক্ষিত ম্যাচের দিকে। ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে ভারতের ফুটবলাররা কেমন পারফর্ম করেন, সেটিই হবে আলোচনার কেন্দ্র। তবে আশিয়ান কাপ থেকে ভারতের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তও দীর্ঘদিন ভারতীয় ফুটবলের আলোচনায় থাকবে। কারণ এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহারের ঘটনা নয়, জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সূচি নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Neymar donation, Venezuela earthquake news | ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজ়ুয়েলায় মানবিক নেমার, বিশ্বকাপের মাঝেই ২.৫ কোটি টাকার সাহায্য, মাঠের বাইরে নজির গড়লেন ব্রাজিল তারকা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন