Sukhbir Badal Nanded attack, Sukhbir Singh Badal injured | নান্দেড়ে কৃপাণের কোপে সুখবীর বাদল! জেড প্লাস নিরাপত্তার মধ্যেই হামলা, হাসপাতালে শিরোমণি অকালি দলের প্রধান

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নান্দেড় : মহারাষ্ট্রের নান্দেড়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে হামলার শিকার হলেন শিরোমণি অকালি দল -এর প্রধান এবং পঞ্জাবের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিংহ বাদল (Sukhbir Singh Badal)। মাতা সাহেব কৌর গুরুদ্বারের (Mata Sahib Kaur Gurdwara) সামনে তাঁর উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। হামলায় তাঁর হাত জখম হয়েছে। দ্রুত তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর এক নিরাপত্তারক্ষীও হামলায় আহত হয়েছেন বলে খবর।ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ সুখবীর বাদল জেড প্লাস (Z+) নিরাপত্তা পান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরাও। ঘটনাস্থলে পুলিশও উপস্থিত ছিল বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যেই কী ভাবে হামলাকারী তাঁর এতটা কাছে পৌঁছে গিয়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে পারলেন, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন : Russia to India rail route, India Russia train corridor | রাশিয়া থেকে সরাসরি ট্রেনে ভারত! নতুন রেলপথে কূটনীতি ও বাণিজ্যে বড় চাল, মস্কোর প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য

সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI) -এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে স্ত্রী ও শিরোমণি অকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কউর বাদলকে (Harsimrat Kaur Badal) সঙ্গে নিয়ে নান্দেড়ের তখত শ্রী হুজুর সাহেব (Takht Sri Hazur Sahib) দর্শনে গিয়েছিলেন সুখবীর। সেখান থেকে মাতা সাহেব কৌর গুরুদ্বারের দিকে যাচ্ছিলেন তাঁরা। সেই সময়ই ঘটনাটি ঘটে। হামলার সময় কয়েক জন নিহাং শিখ (Nihang Sikh) সম্প্রদায়ের সশস্ত্র ব্যক্তি সুখবীরের দিকে এগিয়ে আসেন বলে সূত্রের খবর। তাঁদের মধ্যেই কেউ ধারাল অস্ত্র দিয়ে সুখবীরকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। তাঁর হাতে চোট লাগে। হামলায় তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরও আঘাত লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই কয়েক জনকে আটক করেছে।

হামলার পর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। সুখবীরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিয়োয় তাঁকে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। (ভিডিয়োর সত্যতা সাশ্রয় নিউজ যাচাই করেনি)। সূত্রের খবর, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জেড প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া কোনও রাজনৈতিক নেতার আশপাশে সাধারণত বহু স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকে। সেই নিরাপত্তা পেরিয়ে হামলাকারী কী ভাবে সুখবীরের কাছাকাছি পৌঁছলেন, তাঁর হাতে থাকা অস্ত্র কী ভাবে নিরাপত্তার নজর এড়াল এবং ঘটনাস্থলে মোতায়েন পুলিশকর্মীরা কত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, এসব বিষয়ই এখন তদন্তের আওতায়।

হামলার পিছনে কী কারণ ছিল, তা এখনও জানা যায়নি। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে হামলা হয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, সুখবীরের উপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শিরোমণি অকালি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দলের প্রধানের নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের হামলার ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

এই হামলার সঙ্গে সুখবীরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিবিধির কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ৭ আগস্ট দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন শিরোমণি অকালি দলের প্রধান। সংসদ ভবনে সেই বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকের পরে লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল নিয়ে সুখবীরের বক্তব্য সামনে আসে। এর পর থেকেই শিরোমণি অকালি দল ফের এনডিএ (NDA) -এর সঙ্গে রাজনৈতিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হতে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। শিরোমণি অকালি দল এক সময় এনডিএ -এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক ছিল। কিন্তু ২০২০ সালে কৃষি আইনকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকারের আনা তিন কৃষি আইনের প্রতিবাদ জানিয়ে এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে যায় অকালি দল। সেই সময় সুখবীর বাদলের স্ত্রী হরসিমরত কউর বাদল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন।

২০২০ সালের কৃষক আন্দোলনের সময় পাঞ্জাবের রাজনীতিতে কৃষি আইন ছিল অন্যতম প্রধান ইস্যু। শিরোমণি অকালি দলের এনডিএ ছাড়ার সিদ্ধান্তও সেই রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করে কেন্দ্রীয় সরকার। সময়ের সঙ্গে বিজেপি এবং অকালি দলের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা হলেও আনুষ্ঠানিক ভাবে পুরনো জোটের জায়গায় ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার জল্পনা হয়েছে। উল্লেখ যে, সুখবীরের সাম্প্রতিক দিল্লি সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পরে সেই আলোচনা ফের সামনে আসে। তবে নান্দেড়ে হামলার সঙ্গে এই রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তার কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। তদন্তকারীরা হামলার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

অন্য দিকে, নান্দেড় শিখ সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। তখত শ্রী হুজুর সাহেব শিখ ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তখত হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের বহু মানুষ এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসেন। সেই এলাকার একটি গুরুদ্বারের সামনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার উপর হামলার ঘটনা স্বাভাবিক ভাবেই নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। হামলার সময় সুখবীরের সঙ্গে স্ত্রী হরসিমরত কৌরও ছিলেন। নিরাপত্তারক্ষীরাও উপস্থিত ছিলেন। ফলে হামলার মুহূর্তে ঠিক কী ভাবে নিরাপত্তা বলয় ভেঙে হামলাকারী সামনে চলে এলেন, তা জানার জন্য ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে।

হামলায় সুখবীরের হাতে চোট লাগলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত চিকিৎসা-তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁকে যশোসাঁই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর আঘাত পরীক্ষা করছেন। নিরাপত্তারক্ষীর আঘাতের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পরে নান্দেড়ে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। গুরুদ্বার চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে যুক্তদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের ভিডিয়ো ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, হামলাকারীরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে সেখানে এসেছিলেন কি না, নাকি আচমকাই হামলার ঘটনা ঘটে। সুখবীর বাদলের উপর হামলার ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, জেড প্লাস নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে একজন রাজনৈতিক নেতার এত কাছে ধারালো অস্ত্র পৌঁছল? পাশাপাশি হামলার নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য ছিল, আটক ব্যক্তিরা কারা এবং তাঁদের সঙ্গে কোনও সংগঠন বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে হামলার কারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁক সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুখবীর বাদল এবং ঘটনার তদন্ত, দুই দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Auckland speech, India New Zealand ties | ‘২৫ বছর আগে বন্ধুর দেওয়া মাফলার এখনও আছে’ : অকল্যান্ডে আবেগঘন মোদী, প্রবাসী ভারতীয়দের সামনে পুরনো স্মৃতি ও নতুন সম্পর্কের বার্তা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন