সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহ্যবাহী উদযাপনে এবার এক নতুন সংযোজনের সাক্ষী থাকতে চলেছে দেশ। লালকেল্লার (Red Fort) প্রাচীর থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মুহূর্তে প্রথমবারের জন্য পরিবেশিত হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’। এত দিন ধরে যেখানে কেবল জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ শোনা যেত, সেখানে এ বছর যুক্ত হচ্ছে দেশের আর এক ঐতিহাসিক সংগীত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই পরিবর্তন কেবল আনুষ্ঠানিকতার নয়, এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্য ও নতুন ভাবনার সমন্বয়। প্রতি বছর ১৫ অগস্ট লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। দীর্ঘদিন ধরে এই অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হলেও, এ বার তার আগে শোনা যাবে ‘বন্দে মাতরম্’। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, পতাকা উত্তোলনের সময় প্রথমে জাতীয় গান ও তার পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের রীতি অনুসরণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্রীয় সরকারের সাংস্কৃতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

‘বন্দে মাতরম্’ রচনা করেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Bankim Chandra Chattopadhyay)। এই দেশাত্মবোধক সংগীত স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। বর্তমানে গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন স্তরে উদ্যাপন চলছে। সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। উল্লেখ্য, চলতি বছরেই কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় গান পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে। সেই অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম্’-এর ছ’টি স্তবক নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে গাওয়া হবে, যার দৈর্ঘ্য ১৯০ সেকেন্ড। সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে যেখানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়, সেখানে তার আগে জাতীয় গান পরিবেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকারি আমন্ত্রণপত্রেও এ বছর বিশেষভাবে জায়গা পেয়েছে ‘বন্দে মাতরম্’। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আমন্ত্রণপত্রে গানটির ছ’টি স্তবকই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে অনুষ্ঠানের আগে থেকেই উপস্থিত অতিথিরা গানটির সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পারবেন। কেন্দ্রের এই উদ্যোগে জাতীয় গানের প্রসার আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
‘যুব শক্তি’ -এ বছরের মূল ভাবনা
স্বাধীনতা দিবসের এ বছরের মূল থিম রাখা হয়েছে ‘যুব শক্তি’। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের অগ্রগতিতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা তুলে ধরাই এই ভাবনার লক্ষ্য। ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের স্বপ্নপূরণে যুব সমাজের অবদানকে সামনে আনতে চায় কেন্দ্র। এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের ঘটনাও বিশেষভাবে নজরে এসেছে। প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে ঘিরে বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ হয়েছে। সেই আবহেই স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে তরুণদের গুরুত্ব তুলে ধরার সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) গত কয়েক মাসে একাধিকবার যুবসমাজের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখেছেন, যেখানে তাঁদের শক্তি ও ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন।
লালকেল্লার অনুষ্ঠানে এ বছর তরুণদের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে পদকজয়ী ১৯ জন ছাত্রছাত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা ও গণিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী এই পড়ুয়ারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এর পাশাপাশি দিল্লির বিভিন্ন সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় চেতনা ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের লক্ষ্য, দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরা।
অন্য দিকে, প্রতিরক্ষাসচীব আর কে সিংহ (R. K. Singh) জানিয়েছেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী (Rahul Gandhi)-কেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁর আসনবিন্যাস ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের পরেই রাখা হবে, যা তাঁর সাংবিধানিক মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।উল্লেখ্য, স্বাধীনতা দিবসের এই পরিবর্তিত রূপে একদিকে যেমন ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন, অন্য দিকে তেমনি ভবিষ্যতের দিশা তুলে ধরার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে। জাতীয় গান ও জাতীয় সঙ্গীতের যুগল পরিবেশনা এবং তরুণ প্রজন্মকে কেন্দ্র করে ভাবনার এই মেলবন্ধন দেশের উদ্যাপনকে নতুন মাত্রা দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Indonesia visit, Modi Jakarta arrival | জাকার্তায় পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী , প্রাবোওর উষ্ণ অভ্যর্থনা, তিন দেশের সফরে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে নতুন গতি




