Pregnant wife murder India, extramarital affair murder case | পরকীয়ার টান, মৃত্যু অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর! ‘দুর্ঘটনা’ গল্প ফাঁস হতেই গ্রেফতার সেনানী

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই: সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা (Pregnant) স্ত্রীকে খুন করে তা দুর্ঘটনা বলে চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার এক সেনাকর্মী। মহারাষ্ট্রের ওয়াসিম জেলা থেকে ২৮ বছরের ওই অভিযুক্তকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, ‘পা পিছলে পড়ে যাওয়ার’ গল্পটি ছিল সাজানো, বাস্তবে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে তরুণীকে। ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

আরও পড়ুন : Durga Puja grant policy 2026, West Bengal puja subsidy | দুর্গাপুজোর অনুদানে বড় বদলের ইঙ্গিত, ছোট বাজেটের পুজোয় জোর দিতে পারে রাজ্য! শুভেন্দুর নীতিতে নতুন সমীকরণে কলকাতার শারদোৎসব

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত জ্ঞানেশ্বর মদ্‌নে (Dnyaneshwar Madne) ভারতীয় সেনাবাহিনীর ষষ্ঠ মরাঠা ব্যাটালিয়নে কর্মরত। গত বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ৩টে নাগাদ তিনি ফোন করেন স্ত্রীর বাপের বাড়িতে। কাঁদতে কাঁদতে জানান, তাঁর স্ত্রী দীপালি মদ্‌নে (Dipali Madne) বাড়িতে পা পিছলে পড়ে গিয়েছেন এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। জামাইয়ের কথায় প্রথমে বিশ্বাস করেছিলেন দীপালির পরিবার। তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছন তাঁরা। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন, রোগিণীকে সেখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে তাঁরা আরও কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। পরিবারের এক সদস্যের কথায়, ‘ওর কথা বলার ভঙ্গি, তথ্যের অমিল, সব মিলিয়ে আমাদের মনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছিল।’

সরকারি হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসকেরা দীপালির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। সেখানেই প্রথম উঠে আসে সন্দেহ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে একটি নথি তৈরি করা হয়, যেখানে উল্লেখ ছিল, অ্যাম্বুল্যান্সে করে এক মহিলার দেহ আনা হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, ‘আমাদের দল হাসপাতালে পৌঁছনোর পরই কিছু বিষয় নজরে আসে। মহিলার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাটি স্বাভাবিক নয় বলেই মনে হয়।’ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই পুলিশের কাছে খবর যায় ও শুরু হয় তদন্ত। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। এর পরেই অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

মৃতার ভাই রাহুল মদ্‌নে (Rahul Madne) অভিযোগ করেছেন, জ্ঞানেশ্বরের অন্য এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। সেই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে দীপালির উপর মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। রাহুলের কথায়, ‘ওর অন্য সম্পর্কের কথা আমরা আগেই জানতে পেরেছিলাম। আমার বোনকে প্রায়ই কষ্ট দিত। আমরা ভেবেছিলাম, সন্তান আসার পরে হয়তো সব ঠিক হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই পরিণতি হল।’ পরিবারের দাবি, পরিকল্পনা করেই এই খুন করা হয়েছে এবং পরে সেটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

ঘটনায় আরও চাঞ্চল্য বাড়িয়েছে এই তথ্য যে, দীপালি তখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ফলে একসঙ্গে দুই প্রাণের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে জ্ঞানেশ্বরের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি এফআইআরে নাম রয়েছে দীপালির শ্বশুর-শাশুড়িরও। তাঁদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

তদন্তকারীদের একাংশের মতে, ঘটনাটি নিছক পারিবারিক বিবাদের ফল নয়; এর পেছনে অন্য সম্পর্কের প্রভাব থাকতে পারে। পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তের মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছে। হাসপাতালের নথি এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্টের উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ‘ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ, সব কিছু মিলিয়ে আমরা প্রমাণ সংগ্রহ করছি।’

এই ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একদিকে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, অন্যদিকে তা আড়াল করার চেষ্টা, দুই দিকই মানুষের মনে প্রশ্ন তুলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করতে চাইছে না, তবে অভিযুক্তকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Papia Adhikari, Bengali serial controversy | ‘পরকীয়ার গল্পে ক্লান্ত দর্শক’, বাংলা ধারাবাহিকে বদলের ডাক পাপিয়া অধিকারীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন