Durga Puja grant policy 2026, West Bengal puja subsidy | দুর্গাপুজোর অনুদানে বড় বদলের ইঙ্গিত, ছোট বাজেটের পুজোয় জোর দিতে পারে রাজ্য! শুভেন্দুর নীতিতে নতুন সমীকরণে কলকাতার শারদোৎসব

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : শারদোৎসবের আগে রাজ্যের দুর্গাপুজো অনুদান (West Bengal puja subsidy) নীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। কলকাতা ও জেলার অসংখ্য পুজো কমিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে জোর আলোচনা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার এবার আর সব পুজো কমিটিকে সমান আর্থিক সাহায্য দেবে না বলে আগেই জানানো হয়েছিল। নতুন করে উঠে আসছে একটি সম্ভাব্য নীতি, যেসব পুজোর বাজেট ১০ লক্ষ টাকার নিচে, সেই ছোট ও আর্থিকভাবে সীমিত পুজোগুলিকেই প্রাধান্য দিয়ে অনুদান দেওয়ার ভাবনা চলছে। নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর, এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি। অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক স্তরে প্রশাসনিক মহলে এই ধারণা গুরুত্ব পাচ্ছে যে, আর্থিকভাবে শক্তিশালী বড় পুজোগুলির পরিবর্তে ছোট ও প্রান্তিক পুজো কমিটিগুলিকে সহায়তা করা উচিত। এতে বহু স্থানীয় ক্লাব ও উদ্যোগী সংগঠন উপকৃত হতে পারে।

আরও পড়ুন : US tariff on India Russia oil | রাশিয়ার তেল কেনায় ১০০% শুল্কের প্রস্তাব, ভারত-চিনকে ঘিরে নতুন মার্কিন কৌশল নিয়ে জোর জল্পনা

গত কয়েক বছরে দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে রাজ্যের নীতি একাধিকবার বদলেছে। ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির সময় প্রথমবার পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু হয়। সেই সময় প্রতিটি অনুমোদিত পুজো কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। পরে ধাপে ধাপে সেই অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০২৫ সালে এক লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছয়। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকারের অধীনে প্রায় সব পুলিশ অনুমোদিত পুজো কমিটিই এই অনুদান পেত। তবে নতুন সরকার গঠনের পর এই নীতিতে পরিবর্তনের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘সব পুজো কমিটিকে একসঙ্গে অনুদান দেওয়ার পরিবর্তে যাদের প্রয়োজন, তাদের বেছে সাহায্য করা হবে।’ সেই নীতিরই প্রতিফলন হিসেবে এবার ছোট বাজেটের পুজোগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ভাবনা সামনে আসছে।

বুধবার নবান্নে কলকাতার পুজো সংগঠন ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’ (Forum for Durgotsav) -এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ (Indranil Khan)। বৈঠকে পুজো সংক্রান্ত একাধিক বিষয়, বিদ্যুৎ ছাড়, কর্পোরেশন ট্যাক্সে ছাড়, রাস্তার অনুমতি, বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত নিয়ম, নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর ফোরামের অন্যতম কর্তা অঞ্জন উকিল (Anjan Ukil) একটি বার্তায় জানান, ‘মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি আমাদের বক্তব্য মন দিয়ে শুনেছেন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘শহরবাসীকে সুন্দর পুজো উপহার দিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।’

এই বার্তা দ্রুত বিভিন্ন পুজো কমিটির মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ছোট বাজেটের পুজো কমিটিগুলির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বহু ক্লাব এখনও তাদের বাজেট নির্ধারণ করতে পারেনি। অনুদান পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। উত্তর কলকাতার (North Kolkata) টালা প্রত্যয় (Tala Pratyay) পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত দেবাশিস সোম (Debashis Som) বলেন, ‘ছোট পুজোগুলিকে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পুজো করি, সরকারি সাহায্য পেলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।’ তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তে নতুন ও ছোট পুজোগুলি টিকে থাকার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে দক্ষিণ কলকাতার (South Kolkata) বেহালা সাহাপুর এলাকার একটি পুজো কমিটির সদস্য মৈনাক চট্টোপাধ্যায় (Mainak Chattopadhyay) বলেন, ‘আমাদের পুজোর বাজেট খুবই সীমিত। সরকারি অনুদান পেলে আয়োজন একটু বড় করা সম্ভব হয়। এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।’

তবে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলির মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ এতদিন যে সমান অনুদান ব্যবস্থা ছিল, তা বদলে গেলে তাদের আর্থিক পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে। যদিও অনেক বড় পুজোই কর্পোরেট স্পনসরশিপের উপর নির্ভরশীল, তবুও সরকারি সহায়তা একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করত। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু অনুদান নয়, পুজো সংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধা নিয়েও ভাবনা চলছে। বিদ্যুৎ বিলের উপর ছাড়, বিজ্ঞাপন করের ক্ষেত্রে ছাড় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, এই সব বিষয় নিয়েও আলাদা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এ বছরের দুর্গাপুজো অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হওয়ার কথা। নতুন সরকারের অধীনে এটি প্রথম শারদোৎসব, তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে বিভিন্ন মহলে। অনুদান নীতির পরিবর্তন সেই আগ্রহকে আরও বাড়িয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে পুজো কমিটিগুলি অপেক্ষায় রয়েছে। অনেকেই খরচ কমানোর জন্য থিম পরিবর্তন বা আয়োজন সীমিত করার পথে হাঁটছে। কোথাও কোথাও শিল্পী পরিবর্তনের ঘটনাও সামনে এসেছে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। ততদিন পর্যন্ত অনিশ্চয়তা বজায় থাকলেও, ছোট পুজো কমিটিগুলির মধ্যে আশাবাদী মনোভাব তৈরি হয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Rathyatra grant, Shravan Mela helicopter flower shower | রথযাত্রা : ৬০ কমিটিকে অনুদান, শ্রাবণে জলযাত্রীদের জন্য কপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন