সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা : বিহারের রাজনৈতিক ময়দানে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে নেমেছেন জন সুরাজ পার্টির নেতা প্রশান্ত কিশোর (PK বা Prashant Kishor)। ভোটকৌশলী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পর এখন নিজেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। আগামী ৩০ জুলাই বাঁকিপুর (Bankipur) বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন পিকে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সামনে এসেছে তাঁর সম্পত্তির বিস্তারিত হিসেব, যা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। নির্বাচনী হলফনামায় উঠে এসেছে, প্রশান্ত কিশোরের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৯৬ কোটি ৬ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী জাহ্নবী দাস (Jahnavi Das) -এর সম্পত্তি ১০১ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকারও বেশি। অর্থাৎ, দম্পতির মোট সম্পদ ১৯৮ কোটির কাছাকাছি। রাজনীতির অন্দরে এমন আর্থিক পরিসংখ্যান নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।
পেশাগত পরিচয়ে প্রশান্ত কিশোর এখনও নিজেকে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবেই তুলে ধরেন। আইপ্যাক (I-PAC) ছেড়ে নিজস্ব দল গড়লেও পরামর্শদাতা হিসেবে তাঁর কাজ চালু রয়েছে। অন্যদিকে জাহ্নবী দাস পেশায় চিকিৎসক। দিল্লির একটি হাসপাতালে সিনিয়র পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত রয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, দু’জনের পেশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পরামর্শদাতা ভূমিকা, এক জন রাজনীতিতে, অন্য জন চিকিৎসা ক্ষেত্রে।
হলফনামা অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোরের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২২ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি আরও বেশি ৮৯ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা। এই অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ব্যাঙ্ক আমানত, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদ। আশ্চর্যের বিষয়, এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের কারও নামে কোনও গাড়ি নেই। সাধারণত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ির উল্লেখ দেখা যায়, সেখানে এই তথ্য আলাদা নজর কেড়েছে। ব্যাঙ্কে প্রশান্ত কিশোরের পাঁচটি ফিক্সড ডিপোজ়িট রয়েছে, আর তাঁর স্ত্রীর রয়েছে চারটি। শেয়ারবাজারে পিকের বিনিয়োগ প্রায় ৬৩ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে জাহ্নবী দাসের মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ ১ কোটিরও বেশি। এছাড়া তাঁর কাছে প্রায় ৬৪ লক্ষ টাকার সোনার অলঙ্কার রয়েছে বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য তথ্য সামনে এসেছে। প্রশান্ত কিশোরের মোট স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৭৩ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে প্রায় ১২ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পত্তির মালিক। বিহারের রোহতাস (Rohtas) জেলায় তিন একরেরও বেশি জমি রয়েছে পিকের। ওই জমিতে এক সময় একটি চালকল ছিল, যা এখন আর চালু নেই। ২০১৪ সালে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকায় জমিটি কেনা হয়েছিল, বর্তমানে তার বাজারদর বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া পাটনার পাটলিপুত্র কলোনি (Patliputra Colony), নতুন দিল্লির বসন্ত বিহার (Vasant Vihar) এবং গাজিয়াবাদ (Ghaziabad)-এ তাঁর আবাসন রয়েছে। কিছু শরিকি সম্পত্তির উল্লেখও রয়েছে হলফনামায়। সব মিলিয়ে স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ যথেষ্ট বিস্তৃত।
গত কয়েক বছরে তাঁদের আয়ের পরিসংখ্যানও নজর কেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে প্রশান্ত কিশোরের আয় ছিল ৮ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা। পরের বছর তা বেড়ে ৬০ লক্ষ টাকার বেশি হয়। ২০২২-২৩ সালে তাঁর আয় ছিল ৪৪ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তাঁর আয় লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা। পরবর্তী বছরে তা কমে হয় ৫৮ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। ওই সময় তিনি জন সুরাজ পার্টিকে ১০ কোটি টাকা দান করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। জাহ্নবী দাসের আয়ও গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক ভাবে বেড়েছে। ২০২০-২১ সালে তাঁর আয় ছিল ৬ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। পরবর্তী বছরগুলিতে তা বেড়ে যথাক্রমে ১৮ লক্ষ, ৩৪ লক্ষ এবং ৪১ লক্ষ টাকা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।
হলফনামা অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোরের আয়ের প্রধান উৎস তাঁর পেশা এবং ব্যবসা। পাশাপাশি ব্যাঙ্কে রাখা টাকার সুদ থেকেও তাঁর আয় হয়। অন্যদিকে জাহ্নবী দাসের আয়ের উৎস মূলত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান, ব্যাঙ্ক সুদ এবং ভাড়ার আয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই আর্থিক তথ্য প্রকাশ্যে আসা ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রার্থীর আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সম্পদের উৎস সম্পর্কে ধারণা পেতে এই হলফনামা বড় ভূমিকা নেয়। প্রশান্ত কিশোরের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশেষ করে ভোটকৌশলী হিসেবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং এখন সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ, এই দুইয়ের সংমিশ্রণে তাঁর আর্থিক বিবরণ আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বাঁকিপুর উপনির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়া ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ বাড়িয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই বিপুল সম্পত্তির হিসেব। ফলে নির্বাচনী লড়াইয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থাও এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Public Safety Act, Suvendu Adhikari statement law | ‘গুন্ডাদমন আইন’ চালু হতেই কড়া বার্তা: কাদের টার্গেট, খোলাখুলি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী




